• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ০৯:২৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ০৯:২৬ এএম

ক্লাবগুলো খুললেও নেই আগের তৎপরতা 

হালিম মোহাম্মদ 
ক্লাবগুলো খুললেও নেই আগের তৎপরতা 
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব

রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিল ক্যাসিনো পাড়ায় কর্ম তৎপরতা শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে নামী দামী ক্লাবগুলো খোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাবের ধোয়া মোছা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ সংস্কারের কাজ চলছে। ইতো মধ্যে ক্যাসিনো হোতারা প্রশাসন ম্যানেজ করে ক্লাবের দরজা খুলেছেন। খুলেছে ক্লাবপাড়ার দোকানপাটও। ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন ক্লাবের কর্মচারীরাও। 

ক্যাসিনো ক্লাবের একাধিক কর্মচারী বলেন, অনেকদিন ক্লাব বন্ধ থাকায় স্যার অনেক বিপদে আছি। ক্লাবের সকল ক্যাসিনো খেলা সম্পুর্ণ বন্ধ রয়েছে। কর্মচারীদের বখশিস বা বাড়তি আয় না হওয়ায় দুর্দিন যাচ্ছে তাদের। এমনই মন্তব্য করেছেন ক্লাবের কর্মচারী ও ফড়িয়ারা। 

ওয়ান্ডারস ক্লাবের কর্মচারী মনিরুল ইসলাম ও জমির আলী বলেন, প্রায় শত বছরের পুরোনো এই ক্লাবগুলোকে নিয়ে এক সময় মেতে উঠত দেশবাসী। তবে সেই দিন আর নেই। ক্যাসিনোর ধাক্কায় সুনসান নীরবতা নেমে এসেছিল ক্লাব পাড়ায়। ক্যাসিনোর কালো থাবা পড়েছিল ক্লাবগুলোতে। তার পাশাপাশি একেবারে বেকার হয়ে পড়েছিলাম আমরা। 

এক প্রশ্নের জবাবে জমির আলী বলেন, স্যার আমরা অল্প আয়ের মানুষ। দিনে যা কামাই বাসায় গেলে সব শেষ। এতটা দিন ক্লাব বন্ধ থাকায় আমরা অনেক লোকসানের মধ্যে আছি। কয়দিন হয়, আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ ফিরা তাকাইছে। তয় স্যার জুয়া খেলা এবং অন্যান্য দুই নম্বর সব কাম কাইজ বন্ধ অইয়া গেছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আবারো আগের অবস্থানে ফিরে যেতে চাইলেও হচ্ছেনা। প্রশাসনে মুচলেকা দিয়ে মালিক পক্ষ ক্লাবগুলোর তালা খুলেছে। কি ভাবে ক্লাবের কার্যক্রম চলবে তা নিয়ে আলোচনায় বসছেন ক্লাবগুলোর সিনিয়র সদস্যরা। তবে সরকারিভাবে সিলগালা করে দেওয়া ৪টি ক্লাবের ক্যাসিনোর অংশে এখনো ঝুলছে তালা।

রাজধানীর মতিঝিলের ক্লাবগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকগুলোতে রয়েছেন নিরাপত্তা কর্মী। ক্লাবগুলোর চারপাশ পরিষ্কার আর সাজানো-গোছানো। ক্লাবগুলোর সিনিয়র সদস্যরা সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। বিকেলে ও সন্ধ্যায় বসছে সিনিয়র সদস্যদের খেলার আসর। ক্লাবের নিজস্ব দলও যোগ দিচ্ছেন নিয়মিত টুর্নামেন্টগুলোতে। তবে এখনও অনেক সদস্যের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। অনেকেই গ্রেফতার বা হয়রানির ভয়ে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন।

ওয়ারী ক্লাব 

ক্লাবের সাধারণ সদস্যরা বলছেন, ক্যাসিনোর কালো থাবা থেকে আমরাও বেরিয়ে আসতে চাই। ক্লাবগুলো চালু করা না গেলে অনেক খেলোয়াড় বেকার হয়ে যাবে। তারা বলছেন, ক্লাবগুলো চালানোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সব কিছু যাচাই করেই দায়িত্ব দিতে হবে। আমরাও চাই ক্লাবগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন কোটি টাকার পাহাড় না গড়তে পারে।

ওয়ারী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, আমাদের এই ক্লাবটিতে শত বছর ধরে হাউজি খেলা হয়ে আসছে। এটার জন্য সরকার অনুমতি দিয়েছিল। এই হাউজি খেলায় যা লাভ হতো তা ক্লাবে জমা করা হতো। সেই টাকা দিয়ে দলের খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়া হতো। আমাদের তো আর কোনো আয়ের উৎস নেই। ক্যাসিনোর কারণে সরকার এখন সব বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ক্লাবে এখন আর কেউ আসছে না। কেউ যদি সময় না কাটাতে পারে তবে এখানে কেন আসবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করছি। সরকার যেন আবারও আমাদেরকে আগের মত চলার অনুমতি দেয়, সে জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি।

ওয়ান্ডারস ক্লাবের সহ সভাপতি সানি মাহাতাব বলেন, আমাদের দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। এই দলগুলো চালাতে যদি দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসে তবে আমাদের দল পরিচালনা করা কঠিন হবে। আমরা টাকার যোগান না দিতে পেরে জুয়ার দিকে হাত বাড়াতে হচ্ছে। এভাবে আসলে ক্লাব চালানো যায় না। তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্লাবটির ক্যাসিনোর অংশ বর্তমানে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে ক্লাবটি চালু করার।

ক্লাবের পিয়নের দায়িত্বে থাকা কফিল উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই ক্লাবের সাথে জড়িত। ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে আছি। ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখার খরচও ঠিক মত চালাতে পারছি না। এভাবে আর কত দিন থাকবে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে এই শহর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।

ক্যাসিনো অভিযানে সিলগালা করে দেওয়া ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারাস ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এবং বনানীর আহমদ টাওয়ারের গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ এই ক্লাবগুলোর ভাগ্যে কি আছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

এইচ এম/বিএস