• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৬:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৬:২৫ পিএম

দুদিন পরই বাড়ি ফিরবেন উহানফেরত ৩১২ জন

জাগরণ ডেস্ক
দুদিন পরই বাড়ি ফিরবেন উহানফেরত ৩১২ জন
উহান থেকে দেশে ফেরার পর বিমান থেকে নামছেন বাংলাদেশিরা - ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে অবরুদ্ধ চীনের উহান নগরী থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশি শনিবার বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চীন থেকে ফেরা এই বাংলাদেশিরা ‘কোয়ারেন্টিনের শেষ পর্যায়ে’ আছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পর্যবেক্ষণের ১৪ দিন পূর্ণ হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ তারিখ আমরা তাদের ছেড়ে দেব। এখানে আর কোনো সমস্যা নেই। তাদের সবাই ভালো আছেন।

১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফেরেন ৩১২ জন বাংলাদেশির প্রথম দলটি। ৮ জনের শরীরে জ্বর থাকায় তাদের ঢাকার দুটি হাসপাতালে রেখে বাকিদের আশকোনা হজক্যাম্পে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৩০১ জন এখন আশকোনা হজক্যাম্পে আছেন, বাকি ১১ জন আছেন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কারও মধ্যেই করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি বলে জানিয়ে আসছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর। 

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ হওয়ার আগে এ ধরনের কথা ছড়ানো ঠিক নয়।

গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দুএকটি ঘটনা শুনছি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। রংপুরে একজন ভর্তি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নানা অসুখ-বিসুখ নিয়ে লোকজন ভর্তি হয়। আমাদের কখনোই মনে করা উচিত না তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যে পর্যন্ত প্রমাণ না হয়, এর আগ পর্যন্ত তাকে যেন এটা আমরা না বলি। এ ধরনের কথা বললে আতঙ্ক ছড়ায়।

করোনাভাইরাসকে এতদিন নভেল বা নতুন করোনাভাইরাস বা সংক্ষেপে ২০১৯-এনসিওভি বলা হচ্ছিল। এ ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করছে তার নতুন নাম দেয়া হয়েছে কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস ডিজিজ)।

নতুন এ করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা এরইমধ্যে ১ হাজর ৩৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার। মৃত্যু ও সংক্রমণের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে চীনের উহান প্রদেশে।

প্রথম দফায় ৩১২ বাংলাদেশিকে ফেরানো হলেও হুবেইয়ের বিভিন্ন শহরে আটকা পড়া অন্য বাংলাদেশিরা এখনও দিন কাটাচ্ছেন অবরুদ্ধ অবস্থায়। কেবল উহানেই এখনও আটকে আছেন অন্তত ১৭১ জন। উহানের পাশের শহর ইচাংয়েও ১৭২ জন আটকে আছেন, তারাও দেশে ফিরতে আগ্রহী।

সরকার তাদেরও ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু প্রথম দলটিকে চীন থেকে উড়িয়ে আনা বিমানের পাইলটদের এখন অন্য দেশ ঢুকতে না দেয়ায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে অন্য কোনো পাইলটকে আর চীনে পাঠানোর ঝুঁকি নেয়া যাচ্ছে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন স্পষ্ট করেই বলেছেন, চীন থেকে বাংলাদেশি কাউকে এই মুহূর্তে আর সরকারিভাবে দেশে ফেরানো হচ্ছে না। ব্যক্তিগত খরচে কেউ ফিরলে সরকার পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

এফসি