• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২০, ০৭:৪৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২৫, ২০২০, ০৭:৫৬ এএম

সুবোধ জাগেনি তাই জেগেছে পুলিশ

জাগরণ প্রতিবেদক
সুবোধ জাগেনি তাই জেগেছে পুলিশ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণার পরও মানুষকে করা যাচ্ছে না সচেতন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র এক অসচেতনতার দায়ে করোনা ভোগান্তির গ্রাসে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বব্যাপী করোনা প্রলয়ের মুখে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অসহায় আত্মসমর্পণ প্রত্যক্ষ করার পরেও নিজেদের বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে, নিজ দায়িত্বে কোনো পদক্ষেপই যেন নিতে রাজি নয় বাংলাদেশের মানুষ।

ভিডিও: রাজধানীতে বাধ্য হয়ে 'সচেতনতামূলক অভিযান' চালায় পুলিশ- সংগৃহিত

মঙ্গলবারও (২৪ মার্চ) সারাদেশের হাটবাজার ও টোংদোকানে ছিল মানুষের সাবলীল আড্ডা। লকডাউনের কারণে কর্মক্ষেত্র বন্ধ হতেই সাবধানে গৃহবন্দী না হয়ে যেভাবে ঢাকা ছেড়েছে নগরের বাসিন্দারা। তা ছিল বিস্ময়কর। প্রতিটি ক্ষেত্রে এই অসচেতনতা আর অসাবধানতা সয়ে গেলেও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ মাথায় রেখে এক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। আর তাতেই হচ্ছে কাজ। নিজেদের প্রাণের ভয়ে যারা সতর্ক হননি কঠোর পুলিশি রুদ্র রুপের ভয়ে এবার ঠিকই ঘরকোন বরাবর ছুট দিয়েছেন তারাই।

 মঙ্গলবার রাত থেকে পুলিশকে কড়া হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও লাঠিচার্জ করে মানুষকে ঘরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে জোর করে।

এদিন সন্ধ্যায় রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন নগর, এলাকা, হাটবাজারে পুলিশকে টহল দিতে দেখা গেছে। অপ্রয়োজনীয় দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া বাইরে হাঁটাহাঁটি ও আড্ডারত মানুষকে ঘরে যেতে বাধ্য করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীর মিরপুর মডেল থানা যেসব বাড়িতে প্রবাসী রয়েছেন, সেসব বাড়িতে ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে শেরেবাংলা নগর থানা বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকতে অনুরোধ করেছে। রাস্তার পাশের টোংদোকান না খোলার জন্য অনুরোধ করেছে।

এছাড়াও ডিএমপির তেজাগাঁও বিভাগের আদাবর, মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশ হ্যান্ড মাইক দিয়ে ঘোষণা দিয়ে মানুষকে বাসায় থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দুই-একটি সড়কে লাঠিচার্জও করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ জলকামান দিয়ে মহানগরীতে জীবানুনাশক ছিটাবে। প্রতিদিন দুই বেলা করে শহরে পুলিশ নিজ উদ্যোগে এ জীবানুনাশক ছিটাবে।

অপরদিকে, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়ক ও হাউজিংয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বিভিন্ন জেলা প্রশাসক জেলায় জেলায় নিজেরাই মাইকিং করে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলেছেন। বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ শহরের বিভিন্ন সড়কে মাইকিং করে মানুষকে ঘরে থাকার অনুরোধ করেন।

দিনে এই ঘোষণার পর সন্ধ্যায় মানুষকে শরহরের বিভিন্ন সড়কে ও চায়ের দোকানে অপ্রয়োজনে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এরপর রাতে পুলিশ নামে। পুলিশ সদস্যরা একযোগে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। এ সময় মৃদু লাঠিচার্জও করতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামল সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‌‌‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সবাই ঘরে অবস্থান করুন।’ এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আতঙ্ক কিংবা গুজব না ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

এদিএকে দেশের সচেতন সমাজ পুলিশের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তাদের সহায়তা না করে অকারন যারা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে তাদের যেন এভাবেই কঠোর হাতে দমন করা হয়। একটা পর্যায়ে মানুষ ঠিকই বুঝতে পারবে এটা তাদের জন্য কতটা শুভ পদক্ষেপ ছিল।

এসকে