• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২০, ০২:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২০, ২০২০, ০৫:২০ পিএম

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গ

দেশ নিয়ে দেশ-রূপান্তরের এ কেমন শিরোনাম!

এস এম সাব্বির খান
দেশ নিয়ে দেশ-রূপান্তরের এ কেমন শিরোনাম!

বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত ৫১৬১টি পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেয়ায় চীনের প্রতি রাগ ঝাড়তে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে চরম আপত্তিকর সংবাদ উপস্থাপন করেছে কলকাতাভিত্তিক দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। আর সেই সঙ্গে তাল দিয়ে বিদেশি প্রতিবেদনের সেই বক্তব্য শিরোনামে অবিবেচকের মত ধারণ করে  জাতিসত্ত্বার সম্মানে চরম আঘাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকা। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের শিরোনামে ব্যবহৃত ভাষার প্রতিবাদে সংবাদপত্রটির ব্যাপারে এমন মন্তব্যই আসতে শুরু করেছে নানা মহল থেকে।

বিভিন্ন মহলের বক্তব্য মতে, শনিবার (২০ জুন) ভারতীয় পত্রিকাটিতে প্রকাশিত সেই সংবাদ ও তার শিরোনাম নিয়ে প্রতিবাদ না জানিয়ে উল্টো লজ্জাস্কর সেই শিরোনাম ধারণ করে জনসাধারণ ও সাংবাদিক মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশীয় এই সংবাদ পত্রটি। এ নিয়ে এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

জানা যায়, বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেয়ায় সীমান্তে চীনের কাছে মার খেয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়া ভারতীয় গণমাধ্যম এখন অবান্তর বাক্য ব্যবহারে বাংলাদেশের আত্মসম্মানে আঘাত করে সংবাদ প্রকাশ করছে।

অধিকাংশের মতে, চীনের সঙ্গে তাদের শত্রুতাকে বাংলদেশ কেন নিজেদের কাঁধে তুলে নেবে তা রীতিমত অবাক বিষয়! আর চীনের সঙ্গে নিজেদের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক থাকায় বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিসত্ত্বায় আঘাত করে সংবাদ প্রকাশের এই ধৃষ্টতা আরও অবাক করার মত। তবে তার সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে দেশীয় সংবাদপত্র দৈনিক দেশ রূপান্তরের এই কাণ্ডজ্ঞানহীনতা। যত যুক্তিই দেখানো হোক এ ধরনের শিরোনাম ধারণ করা কোনোভাবেই সমর্থ্যন যোগ্য নয়।

চীন বাণিজ্যিক লগ্নি আর ‘খয়রাতির টাকা’ ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে ভারতের শীর্ষ বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার।

বাংলাদেশি পণ্যে দেওয়া চীনের শুল্কমুক্তির সুবিধাকে এভাবে বিদ্রুপাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিকটি।

‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেইজিং’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশি পণ্যের এই শুল্কমুক্তি সুবিধাকে নিয়ে রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া অতিরিক্ত ৫১৬১টি পণ্যে শুল্ক না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ৯৭ শতাংশকেই শুল্কমুক্তির সুবিধা দিল বেইজিং।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চীনের। লাদাখে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত-সংঘর্ষে উত্তাপ ছড়ানোর পরে ফের নতুন উদ্যমে সে কাজে নেমেছে বেইজিং।’
শুক্রবার বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে চীন। তাতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া অতিরিক্ত ৫১৬১টি পণ্যে শুল্ক না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ৯৭ শতাংশকেই শুল্কমুক্তির সুবিধা দিল বেইজিং। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে নতুন সিদ্ধান্তটি কার্যকর হচ্ছে।

আনন্দবাজার বলছে, বাংলাদেশ একমাত্র প্রতিবেশী দেশ, নানা টানাপড়েন সত্ত্বেও যাদের সঙ্গে ভারতের একটা পরীক্ষিত সুসম্পর্ক রয়েছে। দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপ থেকে উত্তরে নেপাল-ভুটান, কারও সঙ্গেই আর আগের উষ্ণ সম্পর্ক নেই ভারতের।

কূটনীতিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে চীনের হাত স্পষ্ট। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিষিয়ে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে একঘরে করে ফেলার কৌশল বাস্তবায়িত করছে বেইজিং। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ তাদের নিশানা।
এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন তারা লগ্নি করেছে, দেশের গ্রামীণ বাজারগুলোতেও পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হচ্ছে চীনা ব্যবসায়ীরা। ঢাকার প্রধান শেয়ার বাজারটিও তাদের কব্জায়।
আগে থেকেই এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা) এর আওতায় ৩০৯৫টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করে বাংলাদেশ। এ বার সব মিলিয়ে ৮২৫৬ পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিল চীন।

সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনা বাহিনীর হাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। চীন-ভারত এই দ্বন্দ্ব বহু পুরাতন। তবে নতুন এই পরিস্থিতি সৃষ্টির আগে নেপালের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়ায় ভারত। যেখানে তাদের নাকের ডগায় আঙুল তুলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেপাল।

সীমান্ত হত্যার মত ইস্যুতে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ সফরকালে- বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা প্রদানের সময় যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে ভারত। একে একে প্রতিটি প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যেভাবে কূটনৈতিক শীতলতা সৃষ্টি করছে দেশটি, তাতে অদূর ভবিষ্যতে চরম নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ আনন্দবাজারের এই প্রতিবেদনের ভাষা বাংলাদেশ-ভারত মিত্রতার প্রতি যে বার্তা দিলো তার জবাব কি দেয় বাংলাদেশ সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রকাশিত সংবাদ শিরোনামের বিষয়েই বা কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা জানতে জনমনে ব্যাপক জিজ্ঞাসা সৃষ্টি হয়েছে।