• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১১:৪৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১২:৪৩ পিএম

বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন রফিক-উল হক

জাগরণ ডেস্ক
বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন রফিক-উল হক

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। দেশের আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় লড়েছেন সব সময়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধান ও আইনি বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন।

২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান তিনি। অকুতোভয়ে তাদের জন্য আইনি লড়াই পরিচালনা করেন। দেশের ইতিহাসে ও আইন পেশায় এমনটি বিরল। বাংলাদেশের আর কোনো আইনজীবীর ক্ষেত্রেও এমন নজির নেই। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় সব প্রভাবশালী নেতার আইনজীবীও ছিলেন তিনি। তবে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও পিছপা হননি।

নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্পর্কে জীবিত অবস্থায় ব্যারিস্টার রফিক উল হক জানিয়েছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে পেরেছি। তার কন্যা শেখ হাসিনাকেও ওয়ান-ইলেভেনের সময় জেল থেকে মুক্ত করে এনেছি। আবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়াকেও জেল থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। এটাই বড় পাওয়া। এখন আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।’

এছাড়াও মানবিক আইনজীবী ও সাদা মনের মানুষ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রত্যাশা ছিল, একটি সুন্দর বাংলাদেশের চেহারা দেখার। সেই ভাবনায় অধীর অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে বলেও মূল্যায়ন করেছিলেন। তার আশা ছিল দেশ আরো ভালো হবে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দেশে একদিন হানাহানি, সহিংসতা আর রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হবে।

বর্নাঢ্য জীবনে আইন পেশায় প্রায় ৬০ বছর পার করেছেন তিনি। ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময়ে নেননি কোন সম্মানী। পেশাগত জীবনে তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল করেননি। তবে, নানা সময়ে রাজনীতিবিদরা সব সময় তাকে পাশে পেয়েছেন

এদিকে, ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতালে। এরপর লাশ নেয়া হবে তার পল্টনের বাসায়। সেখান থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নেয়া হবে। সেখানেই বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শেষ বারের মতো দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে নেয়া হবে রফিক-উল-হককে। সেখানে বেলা দুইটায় তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীকে।

জাগরণ/এমআর