• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২০, ০৭:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৮, ২০২০, ০১:৫৬ পিএম

অধ্যাপক জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ বিশিষ্ট নাগরিকদের

অধ্যাপক জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ বিশিষ্ট নাগরিকদের

ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিবৃতি জানিয়েছেন সাংবাদিক কলামিস্টসহ ২২ বিশিষ্ট নাগরিক। বুধবার কামাল পাশা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বিশিষ্টজনরা বলেন, বহুদিন পূর্বে দেয়া অধ্যাপক ড. জিয়া রহমানের একটি টেলিভিশন টক শোর বক্তব্যের জন্য সাম্প্রতিক তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রগতিশীল এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মিডিয়ায় মিথ্যা অপপ্রচার শুরু হয়েছে। অথচ যা নিয়ে এই অপপ্রচার তা কোনো অবস্থাতেই ধর্মবিরোধী কোনো বক্তব্য নয়। ‘খোদা হাফেজ’ বাক্যটি পারস্যসহ সমগ্র ভারত উপমহাদেশের সমাজে যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক বিদায়-সম্ভাষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটা কোরআন, হাদিস, সুন্নাহ প্রবর্তিত কোনো বিষয় নয়। এর ব্যবহারও যেমন কোনো ধর্মীয় বিষয় নয় আবার এর পরিবর্তনও ধর্মসম্মত কোনো বিষয় নয়। 

আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, আসলে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল এ দেশে সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক প্রগতিশীল মানুষদের বিরুদ্ধে নানা কৌশলে ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তারা সর্বদা এ দেশের সংস্কৃতি ও আধুনিক জীবনবোধকে প্রতিহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। একই কায়দায় ১৯৭১ সালেও এরা বিকৃত ব্যাক্ষাসহ ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। অতীতে বেগম সুফিয়া কামাল, হুমায়ূন আজাদ, জাহানারা ইমাম, শামসুর রাহমান, শওকত ওসমান, আহমদ শরীফসহ বাঙালির শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীগণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার ও তাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। 

তাছাড়াও পহেলা বৈশাখ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, জাতীয় সঙ্গীত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াসহ আমাদের সকল অর্জনের বিরুদ্ধে এই মহল নানারকম ফতোয়া দিয়ে এগুলোকে প্রতিহত করার পাঁয়তারায় লিপ্ত। 
এ অবস্থায় অতিসত্বর আমরা ডক্টর জিয়া রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারসহ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- আব্দুল গাফফার চৌধুরী, আবেদ খান (সাংবাদিক), বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শাহরিয়ার কবীর, অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল হাসান কলিমউল্লাহ, শিল্পী হাশেম খান, লে. জে. (অব) হারুনুর রশিদ, মে. জে. (অব) মোহাম্মদ আলী শিকদার, মে. জে. (অব) আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক ডক্টর এম অহিদুজ্জামান, শফিকুর রহমান এমপি, শিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ, কাজী মুকুল, ড. আমজাদ, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ্যাপক ডাক্তার মাহতাব আল মামুন স্বপ্নীল, মাহমুদ সেলিম, কামাল পাশা চৌধুরী, মানযার চৌধুরী সুইট, ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, ফরিদা মজিদ।