• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২০, ০৪:৩০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৪, ২০২০, ০৪:৩৬ পিএম

বাজার দর

আসছে সবজি, কমছে দাম

আসছে সবজি, কমছে দাম

ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। সেই সঙ্গে রাজধানীর বাজারগুলোতে সরবরাহ বেড়েছে শীতকালীন সবজির। ফলে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় খুচরা বাজরে সবজির দাম কমেছে অনেকটাই। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতোই। বিশেষ করে পুরনো আলু ও দেশি পেঁয়াজ এখনো বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল্যেই।

পেঁয়াজ ও পুরনো আলু নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও শীতের সবজি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কিনছেনও দেদারসে। দাম কমায় বিক্রেতারাও আগের তুলনায় বেশি সবজি বিক্রি করতে পারছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ায় নতুন আলুর দাম অর্ধেকেরও বেশি নেমে এসেছে। সামনে দাম আরো কমবে। তখন পুরনো আলুর দামও পড়ে যাবে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই জমে উঠেছে পুরো বাজার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাজার করতে এসেছেন অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ। বিক্রেতারও পার করছেন ব্যস্ত সময়। দরদাম করার পর ব্যগ ভর্তি করে সবজি কিনছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি পিস ফুলকপি আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, লাউ ২৫ থেকে ৪০ টাকা, কুমড়ো ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি টমেটো (লাল) বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, সবুজ টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, মূলা ১০ থেকে ১৫ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেড়স ৩০ টাকা, গাজর মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এ সপ্তাহ থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে পেঁয়াজ কলি। প্রতি আঁটির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এর বাইরে কাঁচাকলা প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, কচুর লতি প্রতি আঁটি ৩০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা।

এছাড়া নতুন আলুর সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে অনেকটা। বাজারে প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে পুরনো আলুর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার নির্ধারণ করে দেয়ার পরও এখনো ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অতি প্রয়োজনীয় এ সবজিটি।

সবজির পাশাপাশি দাম কমেছে বিভিন্ন শাকেরও। প্রতি আঁটি লাল শাক বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা, পালং শাক ৫ টাকা, ডাটার শাক ৫ টাকা, মূলার শাক ৫ টাকা, লাউর শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কুমড়োর শাক ৩০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকা, কলমির শাক ৫ টাকা, কচু শাক ১০ টাকা। এছাড়া ধনিয়া প্রতি আঁটি ১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখনো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসেনি। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে এ পেঁয়াজের দাম ছিল ৮০ টাকা। বিদেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এসব বিদেশি পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৫০ টাকার ওপরে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে, ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। আদা আগের মতোই প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ঝাল কমেনি কাঁচামরিচের। প্রকারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

কিছুটা অস্থিরতা চলছে চালের বাজারে। আগের তুলনায় দাম আরো একটু বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া মিনিকেট এ সপ্তাহে ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া মোটা জাতের স্বর্ণা চাল বিক্রি করা হচ্ছে কেজি ৪৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, আটাশ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিক্রেতারা জানান, মিল মালিকদের কাছ থেকেই বেশি দামে চাল কিনে আনছেন তারা। তাই তাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 
তবে মসুর ডাল আগের মতোই ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে, মুগ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি, বুটের ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি। সয়াবিন তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, সরিষার তেল মানভেদে প্রতি লিটার ১৫০ টাকা থেকে ২৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

মাছ, মাংসের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।  আগের দামেই। দেশি বিভিন্ন জাতের মাছের পাশাপাশি চাষের, নদীর ও সমুদ্রের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। মুরগির ডিমের দাম কিছুটা কমে ৩০ টাকা হালি বিক্রি করা হচ্ছে।

শীতে চাহিদা থাকায় বেশ কিছু দোকানে হাঁসের দেখা মিলছে। যা ওজন ভেদে প্রতি পিস বিক্রি করা হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। 

বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকটা বেড়েছে। দামও কমেছে অনেকখানি। তাই শীতের সবজি কিনে এখন কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।”