• ঢাকা
  • রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২১, ০১:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৫, ২০২১, ১২:০৩ পিএম

জঙ্গিবাদ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ৯ জন

জঙ্গিবাদ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেন ৯ জন। র‌্যাবের ডি-রেডিক্যালাইজেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের আওতায় তারা সন্ত্রাস ও চরম পন্থা পরিত্যাগ করে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে ‘নব দিগন্তের পথে’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলোজি বিভাগের চেয়ারপারসন খন্দকার ফারজানা রহমান ও দৈনিক ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক আবুল খায়ের।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি আত্মসমর্পণকারীদের তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেন। এ সময় আত্মসমর্পণকারী ও তাদের পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

আত্মসমর্পণ করা জঙ্গি সদস্যদের মধ্যে আছেন জেএমবির ছয়জন এবং আনসার আল ইসলামের তিনজন সদস্য। তারা হলেন সিলেটের শাওন মুনতাহা ইবনে শওকত (৩৪) ও ডা. নুসরাত আলী জুহি (২৯), কুমিল্লার আবিদা জান্নাত আসমা ওরফে রামিসা ওরফে তারাদ (১৮) ও আবদুর রহমান সোহেল (২৮), চাঁদপুরের মোহাম্মদ হোসেন ওরফে হাসান গাজী (২৩) ও মো. সাইফুল্লাহ (৩৭), ঝিনাইদহের মো. সাইফুল ইসলাম (৩১), চুয়াডাঙ্গার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও মো. সাইদুর রহমান (২২)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “বাংলাদেশ কোনো দিন জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না এবং এ দেশের মানুষ কোনো দিন হিংসার পথকে বিশ্বাস করে না। এ জন্য আমরা অনেকখানি এগিয়ে রয়েছি।”

তিনি আরো বলেন, ‍“র‌্যাব জঙ্গিবাদ দমনে সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে। আজকে নবদিগন্তের পথে অনুষ্ঠান তারই কর্মকাণ্ডের ফসল। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই রয়েছে। এমন একটি দেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল জাতির পিতার।”

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরো বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছেন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির। সেই নীতিকে সামনে রেখেই আমরা চলছি।” তিনি আরো বলেন, “এটা কখনোই আমরা বলি না যে আমরা জঙ্গিবাদকে একেবারে নির্মূল করে দিয়েছি, মূলোৎপাটন করেছি, নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমরা গলা উঁচু করে বলতে পারি আমাদের দেশের জনগণ কোনো দিন জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। সে জন্যই আমরা সক্ষম হয়েছি।”

এ সময় তিনি জঙ্গিবাদে জড়িত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ যে চারবার জঙ্গিবাদে আক্রান্ত হয়েছে তার কোনোটাই এখানে সৃষ্টি হয়নি। আমাদের এ শান্তিভূমিতে রক্তপাতের ধারা সূচিত হয়নি। সব সময় এ ঢেউগুলো এসেছে বাইরে থেকে। তবে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের সহযোগিতায় প্রতিবারই তাদের পরাস্ত করেছি।”

তিনি আরো বলেন, “জঙ্গিবাদ দমনে হয়তো আমরা শতভাগ সাফল্য লাভ করতে পারিনি, কিন্তু ৯০ শতাংশের বেশি আমরা শুরুতেই বিনাশ করে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “যেসব জঙ্গি মূলধারায় ফিরে আসতে চাইছেন, তাদের আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। তারা যে সমাজে বসবাস করবেন, সে সমাজের সবাইকে অবশ্যই তাদের মূল ধারায় মিশে যাওয়ার জন্য সমর্থন করতে হবে, উৎসাহিত করতে হবে, অনুপ্রাণিত করতে হবে।”

আইজিপি জঙ্গিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তোমরা যারা এখনো ভুল পথে আছ, ফিরে আসো। কারণ, তোমরা কখনোই বিজয়ী হবে না। শুধু তোমাদের জীবন যাবে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবে, পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।”

এ সময় মূল আলোচকদের পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা আত্মসমর্পণকারী ও তাদের অভিভাবকরাও বক্তব্য দেন।