• ঢাকা
  • রবিবার, ০৭ মার্চ, ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ১০:৩৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ১০:৫০ এএম

রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন অব্যাহত

সাড়ে ৬ মাসেই এসেছে ১৪ বিলিয়ন ডলার

সাড়ে ৬ মাসেই এসেছে ১৪ বিলিয়ন ডলার

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন অব্যাহত আছে। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ১৪ দিনেই ১০৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এর মধ্য দিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাস না যেতেই রেমিট্যান্সের ১ হাজার ৪০০ কোটি (১৪ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের ৭৭ শতাংশের বেশি।

গত মাসগুলোর মতো জানুয়ারিতেও ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান।

জাগরণকে ছাইদুর রহমান বলেন, “মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। প্রতি মাসেই বাড়ছে অর্থনীতির এই সূচক।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারির ১৪ দিনে (১ থেকে ১৪ জানুয়ারি) ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্সে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এই অঙ্ক গত বছরের জানুয়ারির একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই ১৪ দিনে ৭৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

এই ১৪ দিনের রেমিট্যান্সসহ ২০২০-২১ অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাসে (২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি) মোট ১ হাজার ৪০২ কোটি ৪৫ লাখ (১৪.০২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এই রেমিট্যান্স গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের চেয়ে ৭৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি।

গেল ২০২০ সালের ৯ মাসই ছিল মহামারি করোনাভাইরাসের ছোবল। ভয়-আতঙ্ক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বছর।

গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ-ওলটপালট করে দিয়েছে এই মহামারি। কিন্তু এর মধ্যেও বাংলাদেশের রেমিট্র্যান্সপ্রবাহ কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ।

কিন্তু দেখা গেল, পাশের দেশ ভারতে ৩২ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে ২০৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।

এ নিয়ে অর্থবছরের ছয় মাসের পাঁচ মাসেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা এক মাসের হিসাবে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমে যাবে বলে ধারণা করা হলেও তা ঘটেনি। মহামারির আঁচ বিশ্বের অর্থনীতিতে লাগার পর গত এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স কমলেও এরপর আবার বেড়েছে।

আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছিল ২১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরে যে রেমিট্যান্স এসেছিল, তার ৭৭ শতাংশের বেশি সাড়ে ছয় মাসেই চলে এসেছে।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশির পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।