• ঢাকা
  • রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২১, ০৫:২৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২১, ২০২১, ০৫:২৭ পিএম

শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

৭০ হাজার গৃহহীন পাবে ঘর

৭০ হাজার গৃহহীন পাবে ঘর

জমিও নেই, ঘর নেইও অথবা ঘর থাকলেও মাথা গোঁজার অবস্থা নেই—এমন মানুষদের জমি ও থাকার জন্য ঘর দিচ্ছে সরকার। গৃহহীনদের সহায়তার উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীনকে ঘর হস্তান্তর করতে যাচ্ছে সরকার।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সারা বিশ্বে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৬৬ হাজার ১৮৯ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর দেবে সরকার। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপহার দেবেন।

এছাড়া ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্প গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৩ লক্ষ ২০ হাজার ৫২ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। 

ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে ‘মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালের জুনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে।  

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভূমিহীন, গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩ পরিবারকে সরকার জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে। এ উদ্যোগটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি প্রকল্প’, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প’ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ নামে তিনটি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেমিপাকা বাড়ি। প্রতিটি বাড়িতে থাকছে দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি ইউটিলিটি রুম, একটি করে বারান্দা ও টয়লেট। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি ছাড়াও প্রতিটি ঘরে থাকবে ভূমিকম্প রোধক ব্যবস্থা।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে 'ক' শ্রেণিভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমি দিয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত এমন পরিবারের সংখ্যা (জুন ২০২০ পর্যন্ত) ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১। ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। ‘ক’ ও ‘খ’ দুই শ্রেণিতে মোট পরিবারের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২।

উল্লেখ্য, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না এমন ঘোষণা রয়েছে শেখ হাসিনার। ২০২০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সকল ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি সারা বিশ্বে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন।”

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মহসীন বলেন, ‘এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ঘর, পরিবহনের জন্য চার হাজার, আর কাজটা যারা ইন্সপেকশন করবে তার জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।’

সারা দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় নয় লাখ গৃহহীন পরিবারের তালিকা হয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব, “নয় লাখ পরিবারকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। আরও আবেদন পড়ছে। সেগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহহীনদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যারা ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায়, দরিদ্র, তাদের জন্য সরকারি খাস জমিতে পাকা বা সেমিপাকা ব্যারাক তৈরি করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, “প্রতিটি পরিবারই পাচ্ছে একক ঘর, আর দুই শতাংশ জমির মালিকানা। এটা কোনো টেন্ডারের মাধ্যমে হচ্ছে না। এই কমিটিকে বলা হয় প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি (পিআইসি)। এদের মাধ্যমে কাজটা হচ্ছে, যার ফলে পুরো টাকাটাই নির্মাণকাজে ব্যয় হচ্ছে। এ কাজে কারও কোনোভাবে লাভ করার সুযোগ নেই।”