• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ মে, ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১, ১১:৩১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১, ০৫:৫৬ এএম

বেড়েই চলেছে চাল-মুরগির দাম, কমেছে পেঁয়াজের

বেড়েই চলেছে চাল-মুরগির দাম, কমেছে পেঁয়াজের

সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়েছে চাল ও মুরগির দাম। স্থিতিশীল আছে তেল-সবজি-ডিম। তবে কিছুটা দাম কমেছে পেঁয়াজের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসেছেন বহু ক্রেতা। কাঁচাবাজারে পা ফেলার জো নেই। কিন্তু সেই তুলনায় চালের বাজার ক্রেতাশূন্য।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে আরো ২-৫ টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৩ টাকা, নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মোটা স্বর্ণা (পাইজাম) ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, স্বর্ণা (গুটি) ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা এবং আটাশ ৫২ থেকে ৫৩ টাকা।

গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, স্বর্ণা (পাইজাম) ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, স্বর্ণা (গুটি) ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা এবং আটাশ ৫০ থেকে ৫২ টাকা বিক্রি করা হয়েছিল।

চালের দাম বাড়তির বিষয়ে বিক্রেতারা জানান, সরকার কর্তৃক ভারত থেকে আমদানি করা চাল আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আসছে না। ফলে দেশে উৎপাদিত চালের দাম যেমন কমছে না, তেমনি কমছে না আমদানি করা চালের দামও।

মোশারফ নামের এক বিক্রেতা বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চাল তাদের ২ হাজার ৪৫০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু এ চাল ক্রেতারা তেমন কিনতে চায় না। আর বাজারে সরবরাহও তেমন একটা নেই। তাই আমদানি করা সত্ত্বেও চালের দাম বেশি।

শাহজাহান নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, “বৈশাখ মাস আসার আগে চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। চালের দাম কমাতে হলে আগে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।”

অন্যদিকে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভাত তো বাঙালির প্রতিদিনের খাবার। তাই দাম যতই বাড়ুক তাদের চাল কিনতে হয়। তবে দাম বাড়ার কারণে আগে যেখানে এক বস্তা চাল কিনতেন, এখন কেনেন ৫-১০ কেজি। চালের দাম বাড়ার বিষয়টি সরকারের কঠোরভাবে নজরদারি করা উচিত। কেন আমদানি করা চাল বাজারে আসছে না এবং কেন মিলাররা দাম বাড়াচ্ছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।

শুধু চাল নয়, সপ্তাহের ব্যবধানে আকাশ ছোঁয়া হয়েছে মুরগির দাম। মাস দেড়েক আগেও যে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল মাত্র ১১৫-১২০ টাকা কেজি, সেই ব্রয়লার মুরগিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা, লেয়ার ২২০ টাকা। প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কবুতর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৪৫ টাকা কেজি। শীতে মুরগি মরে যায়, রোগবালাই বেশি হয়। তাই খামারিরা কম পরিমাণ মুরগি উৎপাদন করছেন। যার কারণে বাজারে সরবরাহ কম, দামও বেশি।

তবে আকার ও আগে কেনার করণে কিছু কিছু দোকানে মুরগির দাম ৫-১০ টাকা কম রয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, বড় মুরগির তুলনায় ছোট মুরগির দাম কিছুটা কম। এ ছাড়া মুরগির দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যারা রাতে মুরগি কিনছে তাদের এক দাম, আর যারা সকালে কিনছে তাদের আরেক দাম। গুলিস্তানের কাপ্তান বাজারের সিন্ডিকেটের কারণে দামের এমন হেরফের।

ঝিনুক নামের এক ক্রেতা বলেন, “বিক্রেতারা যখন খুশি তখন দাম বাড়িয়ে দেন। আর সাধারণ ক্রেতাদের নিরুপায় হয়ে সেটা কিনতে হয়। খেতে যেহেতু হবে, তাই বাড়তি হলেও কিনতে হয়।”

তবে এ সপ্তাহে কিছুটা স্থিতিশীল আছে ভোজ্যতেলের দাম। বর্তমানে বাজারে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৬২০ টাকা, তীর ৫৯০ টাকা, বসুন্ধরা ৫৯০ টাকা এবং পুষ্টি ৫৮০ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা এবং পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৯৩ টাকা। আগের সপ্তাহেও এই একই দামে বিক্রি হয়েছে সব ধরনের তেল।

আগের মতোই প্রতি হালি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা।

স্বস্তি আছে সবজির বাজারেও। বিক্রেতারা প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি করছেন ১২ থেকে ১৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, ব্রকলি ২০ টাকা, লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ২০ টাকা, মূলা ১৫ টাকা, করলা ৩০ টাকা, শালগম ১০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, মটরশুঁটি ৫০ টাকা, শসা ২৫ টাকা, মরিচ ৫০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ৫ টাকা, শিমের বিচি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা।

প্রতি আঁটি লাউর শাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, লাল শাক ৭ টাকা, কুমড়ার শাক ২০ টাকা, পালং শাক ৭ টাকা, মাইরার শাক ১০ টাকা, কলমির শাক ১২ টাকা এবং ধনিয়া ১০ টাকা।

গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা দাম কমেছে দেশি পেঁয়াজের। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আগের সপ্তাহে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, আদা ৭০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১২০ টাকা এবং দেশি রসুন ৮০ টাকা।