• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১, ০৯:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১, ০৯:৫০ পিএম

যৌন নিপীড়নের দায়ে জাবি শিক্ষক চাকরিচ্যুত 

যৌন নিপীড়নের দায়ে জাবি শিক্ষক চাকরিচ্যুত 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানওয়ার সিরাজকে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বধুবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।

তিনি বলেন, সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। অফিস বন্ধ থাকায় তার কাছে অফিস আদেশ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তী কার্যদিবসে অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানানো হবে। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর কোনো ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।

এদিকে অপসারণের ঘটনাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে ন্যায় বিচারের দাবিতে বুধবার বিকেলে জাবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সানওয়ার সিরাজ। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের’ প্রধান আমার বিরুদ্ধে একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমি বিভিন্ন সময় এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে নানা প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে চেয়েছি। কিন্তু সেল তা গ্রহণ না করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।”

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “অভিযোগকারী ছাত্রী যেসব কল রেকর্ডিং এবং মেসেঞ্জারের স্কিনশর্ট সেলের কাছে মেইলের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন তা বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন। দীর্ঘ ফোন কলের রেকর্ড কেটে জোড়া লাগিয়ে বিকৃত করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সেই সব কল রেকর্ডিং আমার কাছে রয়েছে। সেগুলো আমি সেলে জমা দিতে চাইলেও সেল তা গ্রহণ করেনি।” 

সানওয়ার সিরাজ আরও বলেন, “ছাত্রীর অভিযোগ করার পর সেলে কোনো বক্তব্য দেয়নি বলে গণমাধ্যমের খবর থেকে জানতে পেরেছি। তবে অভিযোগকারী একবার সেলের সঙ্গে দেখা করে জানায়, ‘সে অসুস্থ। তাই বক্তব্য দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। পরে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সে সেলের নিকট সময় প্রার্থনা করে। এরপর সেল তাকে যতবার ডেকেছে, সে সেলের ডাকে সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ গত দুই মাস আগে সেলের একজন সদস্য ওই ছাত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকে, তাতেও সে সাড়া দেয়নি।”

এসব বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, “অভিযোগের যথার্থ প্রমাণ থাকায় তাকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন