• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১, ০৮:০০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৮, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

র‌্যাবকে শিশুবক্তা রফিকুল

‘স্যার, আমার হুঁশ ছিল না, জোসের কারণে বলে ফেলেছি’

‘স্যার, আমার হুঁশ ছিল না, জোসের কারণে বলে ফেলেছি’

র‌্যাবের হাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বিতর্কিত ওয়াজ মাহফিল বক্তা রফিকুল ইসলাম ওরফে ‘শিশুবক্তা’ বলেন, “স্যার, আমার হুঁশ ছিল না। জোসের কারণে বলে ফেলেছি। বেহুঁশে থাকলে অনেকে তো অনেক কিছুই বলে ফেলে।”

দফায় দফায় রফিকুলের আকুতি ছিল, ভবিষ্যতে তিনি আর এমনটা করবেন না।

সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম তার এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি মানি, রাষ্ট্রপতি যদি আল্লাকে মানে। আমি রাষ্ট্রপতি মানি, রাষ্ট্রপতি যদি ইসলাম মানে। আমি প্রধানমন্ত্রী মানি, যদি সে ইসলাম মানে। এই কচুর প্রধানমন্ত্রী মানি না যদি সে ইসলামের বিরুদ্ধে যায়।... আমার পৃথিবীতে, আমার সংবিধানে, আমার ডিকশনারিতে কোনো প্রধানমন্ত্রী নাই, রাষ্ট্রপতি নাই যদি ইসলামের বিরুদ্ধে যায়। মানি সে প্রধানমন্ত্রী, মানি না সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমি মানি না, আমরে মারবা? রিমান্ডে নিবা? জেলে নিবা? ফাঁসি দিবা, তাই তো? তোমাদের সংবিধান যা বলে, তোমাদের আইন যা বলে তা করবা, আমার আল্লাহর আইন যা বলে, তাই তাই করবো।’’ 

এখনো ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্যসহ আরও অনেক উস্কানিমূলক বক্তব্য সরকারের ভিতরে এবং বাইরে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

এর আগে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কথাবার্তা এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করে র‌্যাব। বুধবার ভোরে নেত্রকোনা পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গাজিপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার লুৎফর কবির। এর আগে রফিকুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় র‌্যাব।

জিএমপি কমিশনার লুৎফর কবির বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গতকাল রাতে গাছা থানায় মামলা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয় তিনি আইন না মেনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”

গত ২৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করার সময় শাপলা চত্বর থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করে পুলিশ। পরে ‘শিশু’ মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।