• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২১, ০১:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১০, ২০২১, ০১:১৬ পিএম

নেই সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষিত

নেই সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষিত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিন চলছে। কঠোর নির্দেশনা দিয়ে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে তাগিদ দেয় সরকার। কিন্তু মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চলাচল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ায় অনেকটাই ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে এই বিধিনিষেধ।

শনিবার (১০ এপ্রিল) সকালে কঠোর বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি অফিস-আদালত সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাস্তায় মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কিছুটা কম। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও দোকানদাররা কর্মস্থলে যেতে রাস্তায় বের হয়েছেন। তবে অন্য দিনের মতো রাস্তায় যানবাহনের চাপ তেমন ছিল না।

গণপরিবহনগুলো সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করলেও অনেক যাত্রী, চালক ও হেলপারদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানায় অনীহা দেখা গেছে। গাড়িতে ওঠার সময়ও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। তবে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে কাঁচাবাজারগুলোতে। সেখানে বেশির ভাগ বিক্রেতাই মাস্ক পরছেন না। ক্রেতাদের অনেকের মধ্যেও এই অসচেতনতা দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্ব সেখানে পুরোপুরি উপেক্ষিত।

এদিকে সকাল থেকে খোলা রয়েছে শপিং মল। ক্রেতারাও ভিড় করছেন সেখানে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাজধানীর নিউমার্কেটে ক্রেতাদের বেশ ভিড় লক্ষ করা যায়। বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক পরলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেননি কেউই। তবে সেই তুলনায় বড় শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। শনিবারও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিক্রেতারা।

বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের বিক্রেতা ফিরোজ নামের বিক্রেতা বলেন, ‍“শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কিছুটা ক্রেতা এসেছেন। সামনে যেহেতু আবারও লকডাউন দেবে, তাই আজও কিছু ক্রেতা আসবে। কিন্তু এতে ক্ষতি পোষানো যাবে না।”

গাউছিয়া মার্কেটে শপিং করতে আসা ক্রেতা মারিয়া হোসেন ক্রেতা বলেন, “কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিকে মার্কেট বন্ধ ছিল। এখন আবার শুনছি পুরোপুরি লকডাউন দেবে। তাই এর মধ্যেই কিছু কেনাকাটা সেরে ফেলছি।”

নিউমার্কেটের বিক্রেতা আরমান বলেন, “কয়দিন দোকানপাট বন্ধ থাকায় কিছু ক্রেতা আসছেন। তবে তা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। এই লকডাউনের কারণে আমাদের পথে বসতে হবে।”

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়, গণপরিবহন ও দোকানপাট। কিন্তু অফিস-আদালত, তৈরি পোশাক কারখানা ও কলকারখানা খোলা থাকায় বিপাকে পড়েন কর্মজীবী মানুষরা। পরে মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

এদিকে সবকিছু খোলা রেখে শুধু মার্কেট বন্ধ রাখায় কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করেন ব্যবসায়ীরা। পরে শুক্রবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেয় সরকার। এতে সরকারের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ অনেকটাই অকার্যকর হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ১৪ এপ্রিল থেকে ফের এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে এবার অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সবকিছুই বন্ধ রাখার কথা ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।