• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২১, ০৮:৪৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১০, ২০২১, ০৮:৪৯ পিএম

১২ ও ১৩ এপ্রিল কীভাবে চলবে

১২ ও ১৩ এপ্রিল কীভাবে চলবে

করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ায়  ১৪ এপ্রিল থেকে ‘সর্বাত্মক’ লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। সংক্রমণ মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। আগামীকাল রোববার (১১ এপ্রিল) কঠোর বিধিনিষেধের শেষ দিন।

তবে সবার মনে প্রশ্ন এসেছে ১২ এবং ১৩ এপ্রিল কীভাবে চলবে।

রাজধানীতে বর্তমানে সবই চলছে। কঠোর বিধিনিষেধের শুরুতে কোনো গণপরিবহন চলেনি। পরে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ অন্য সিটি কর্পোরেশেনে গণপরিবহণ চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাইড শেয়ারের চালকরা আন্দোলন শুরু করে। পরে তাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের পাঁচদিনের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে শুক্রবার থেকে খুলেছে সারাদেশের শপিং মল ও দোকানপাট। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে সকাল ৯টা থেকেই বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা যাবে। এরপর আবারও যথারীতি সব দোকান ও শপিং মল বন্ধ হয়ে যাবে। শপিং মলে ও দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এপ্রিলের ৫ তারিখ থেকে এসবই চলছে। আগামীকাল রোববার (১১ এপ্রিল) শেষদিন। ১২ এবং ১৩ এপ্রিল কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কেউ কিছুই জানে না। সরকারও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে করোনার সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। গত সাতদিন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৩ জন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শনাক্তের অনুপাত ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু ৩০ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং সংক্রমণ ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাহলে ১২ এবং ১৩ এপ্রিল (সোমবার ও মঙ্গলবার) কী হবে। এই দুইদিন কী কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন ছাড়াই চলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ১২ এবং ১৩ এপ্রিল (সোমবার ও মঙ্গলবার) দুইদিন কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন কিছুই নেই। এই দুইদিন মানুষ গণহারে বাহিরে বের হয়ে আসবে। তারা গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাস বা লঞ্চ কাউন্টারে ভিড় করবে। কারণ ওই দুইদিন দুরপাল্লার যানবাহন চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। দুরপাল্লার যানবাহন  না পেলে এ পর্যায়ে তারা খণ্ড খণ্ডভাবে রাজধানী ত্যাগ করার চেষ্টা করবে। তখন করোনার সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এজন্য সরকারকে ১২ এবং ১৩ এপ্রিল বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া দরকার বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।  

১২ এবং ১৩ এপ্রিল বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 
দুদিনের বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত আসতে কালকের দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।” 

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বলেছে, অন্তত ১৪ দিন ‘পূর্ণ লকডাউন’ ছাড়া করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর আগে গত বুধবার রাতে কমিটির ৩০তম সভায় সারাদেশে দুই সপ্তাহ ‘পূর্ণ লকডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।