• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২১, ১০:৩৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৬, ২০২১, ১২:৩১ পিএম

জাগরণ সম্পাদক আবেদ খানের জন্মদিন আজ

জাগরণ সম্পাদক আবেদ খানের জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের অন্যতম মহীপাল, ‘গৌড়ানন্দ কবি’ খ্যাত বরেণ্য সাংবাদিক দৈনিক জাগরণের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেদ খানের জন্মদিন আজ।

১৯৪৫ সালের এই দিনে (১৬ এপ্রিল) খুলনা জেলার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি। সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। 

অবিভক্ত ভারতের দৈনিক আজাদ-এর সম্পাদক মাওলানা আকরম খাঁ তার নানা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে আবেদ খানেরও সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি ঘটে দৈনিক ‘জেহাদ’-এ। একই দৈনিকে সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

পরে ১৯৬৩ সালে দৈনিক সংবাদ এবং ১৯৬৪ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে। সেই থেকে টানা ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করেন। 

ইত্তেফাকে আবেদ খান পর্যায়ক্রমে শিফট ইনচার্জ, প্রধান প্রতিবেদক, সহকারী সম্পাদক ও কলামিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালের আগস্টে ইত্তেফাকে তার ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ওপেন সিক্রেট’ প্রকাশিত হতে থাকে। ‘ওপেন সিক্রেট’কে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ-সংক্রান্ত পড়াশোনায় ‘রেফারেন্স’ হিসেবে ‘ওপেন সিক্রেট’-এর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।

১৯৯৫ সালে আবেদ খান ইত্তেফাক থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর জনকণ্ঠে সম্পাদকীয় পাতায় তার ‘অভাজনের নিবেদন’ প্রকাশের পাশাপাশি প্রথম পাতায় ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ হতে থাকে। ‘গৌড়ানন্দ কবি ভনে শুনে পুণ্যবান’ কলামটি জনকণ্ঠে প্রকাশিত তার স্যাটায়ারধর্মী জনপ্রিয় কলাম। সেই সময় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম পাতায় তার ‘টক অব দ্য টাউন’ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদনটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। একই কাগজে সে সময় তার উপসম্পাদকীয় কলাম ‘প্রাঙ্গণে বহিরাঙ্গনে’ প্রকাশ হতে থাকে। দৈনিক সংবাদে তিনি ‘তৃতীয় নয়ন’ নামে একটি অন্তর্দৃষ্টি-বিশ্লেষণাত্মক কলাম ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকেন।

এর আগে ১৯৯৬-৯৯ সালে বিটিভিতে প্রচারিত তার অনুসন্ধানমূলক টেলিভিশন রিপোর্টিং সিরিজ ‘ঘটনার  আড়ালে’ টেলিভিশন-সাংবাদিকতার আরেকটি জনপ্রিয় চূড়া।

১৯৯৮ সালে নতুন দৈনিক প্রথম আলোতে ‘কালের কণ্ঠ’ শিরোনামে তার উপসম্পাদকীয় কলাম প্রকাশ হতে থাকে। পরে ২০০৯ সালে আবেদ খানের নেতৃত্বে ‘কালের কণ্ঠ’ নামের একটি দৈনিক পত্রিকা বাজারে আসে। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি একুশে টেলিভিশনের সংবাদ ও চলতি তথ্য বিষয়ে প্রধান হিসেবে কাজ করেন।

২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৩০ জুন কালের কণ্ঠ থেকে পদত্যাগের পর তিনি ২০১২ সালের জুনে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে তিনি এটিএন নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক জাগরণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।

এছাড়াও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান তিনি। পিআইবির চেয়ারম্যান থাকাকালে দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা গেলে ওই পদ ফাঁকা হয়।

এর আগে তিনি ২০০৩-২০০৫ সালে দৈনিক ভোরের কাগজ, ২০০৫-২০০৬ সালে দৈনিক যুগান্তর এবং ২০০৬-২০০৯ সালে দৈনিক সমকালে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অভাজনের নিবেদন, গৌড়ানন্দ কবি ভনে শুনে পুণ্যবান, কালের কণ্ঠ, প্রসঙ্গ রাজনীতি, হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে (গল্প সংকলন), গৌড়ানন্দসমগ্র, দেশ কি জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য হবে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালের ১ মার্চ তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা-ওয়ারী অঞ্চলে স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ কমিটির কনভেনর হিসেবে নিজেদের মাঝে স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের সূচনা করেন। জুন মাসে সংবাদ, ডেইলি পিপল, ইত্তেফাক ভবন এবং সারা ঢাকার ওপর বয়ে চলা বিশ্ব-ইতিহাসের এই অতি-ভয়াল ধ্বংসলীলার চাক্ষুষ সাক্ষী হিসেবে প্রথম তিনি কলকাতার আকাশবাণী বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন।