• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১, ০৩:২২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২২, ২০২১, ০৩:৩৬ পিএম

রানা প্লাজা ধসের দুই মামলা

আট বছরেও শুরু হয়নি সাক্ষ্য গ্রহণ  

আট বছরেও শুরু হয়নি সাক্ষ্য গ্রহণ  

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাকশ্রমিক মারা যান। আলোচিত এ ঘটনার পর কেটে গেল আট বছর। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের পৃথক দুই মামলায় এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি সাক্ষ্য গ্রহণ । 

এ মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলেও কিছুসংখ্যক আসামির উচ্চ আদালতে আবেদনের কারণে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতগুলো শুরু করতে পারেনি বিচারকাজ। আর এতে করে মামলার বিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হত্যা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাত আসামি হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ গঠনের পর কয়েকজন আসামি উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলাটি স্থগিত করেন। তাদের মধ্যে এখনো সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রেফাত উল্লাহ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হাজি মোহাম্মদ আলীর পক্ষে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফলে বিচার প্রক্রিয়ার কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। এ ছাড়া মামলার প্রতিটি ধার্য তারিখে সাক্ষীরা আদালতে এসে উপস্থিত হন তাদের সাক্ষ্য প্রদানের জন্য। কিন্তু আসামিদের করা আবেদনে উচ্চ আদালতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উচ্চ আদালত সশরীরে চালু না হওয়ার কারণে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে না। হত্যা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ১ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অপর দিকে ২০১৬ সালের ১৬ জুন ইমারত নির্মাণ আইনরে মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বজলুস সামাদ আদনানসহ তিন আসামি রিভিশন মামলা করেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল বলেন, আবেদনকারীদের মধ্যে নিউ ওয়েব বটমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুস সামাদ ও সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর দিকে ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামের রিভিশন মঞ্জুর করে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রিভিশনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা যাবে।

আসামি সোহেল রানার আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলায় প্রায় পাঁচ বছর আগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই আদেশের বিরুদ্ধে কয়েকজন আসামি উচ্চ আদালতে যান। তাদের পক্ষে মামলার কার্যক্রম স্থগিতাদেশ থাকায় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, মামলায় রানা ছাড়া সবাই জামিনে আছেন। মামলায় কোনো সাক্ষী হচ্ছে না আর আসামি রানাকে জামিন দিচ্ছে না আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত দ্রুত স্থগিতাদেশ নিষ্পত্তি করে মামলার কার্যক্রম চালু করা।

২০১৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের পৃথক দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে বাদীর দায়েরকৃত অভিযোগের আলোকে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হল। দুই মামলায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে খালেক কুলুসহ ৫৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের মধ্যে ১৭ জনের নাম উভয় মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ থাকায় ব্যক্তি হিসেবে আসামি ৪২ জন। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং সাক্ষী করা হয়েছে ৫৯৪ জনকে। এছাড়া ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং সাক্ষী করা হয়েছে ১৩৫ জনকে। 

এই দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় ৪১ জন আসামির মধ্যে দুইজন আসামি মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ৩৯ জন। অপর দিকে ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ১৮ জন। এ দুই মামলায় সোহেল রানা কারাগারে আটক রয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে নয় তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজাটি ধসে পড়লে ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক মারা যান। জীবিত উদ্ধার করা হয় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিককে। ঘটনার পরদিন সাভার থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ খান অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ২১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার হেলাল উদ্দিন ইমারত নির্মাণ আইনে ১৩ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।