• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২১, ০৫:২৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৯, ২০২১, ০৮:০৩ পিএম

‘বিয়ের প্রলোভনে মুনিয়াকে ঢাকায় ফেরান আনভীর’

‘বিয়ের প্রলোভনে মুনিয়াকে ঢাকায় ফেরান আনভীর’

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের কাছ থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়াকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন তার বোন ও ভগ্নিপতি। এই জন্য তাকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা নিয়ে গিয়ে কয়েকমাস নিজের কাছেও রাখেন বোন নুসরাত জাহান। কিন্তু সম্প্রতি আনভীর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আবার ঢাকায় নিয়ে আসেন।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে মোবাইল ফোনে জাগরণ অনলাইকে এসব কথা জানান মুনিয়ার খালাতো ভাই ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন।

ইকবাল হোসেন জানান, মুনিয়া ঢাকায় পড়াশোনা করার সময় আনভীরের সাথে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার অনেক পরে তার বোন এটা জানতে পারেন। পরে তার বোন ও ভগ্নিপতি আনভীরের কাছ থেকে তাকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এজন্য গত বছরের করোনার আগে তাকে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় নিজের কাছেও এনে রাখেন বোন নুসরাত জাহান। 

মুনিয়ার খালাতো ভাই আরো জানান, ৮-৯ মাস বোনের বাসায় থাকার পর মুনিয়া নিজেকে অনেকটা সামলে নিয়েছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসে আনভীর আবার মুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে ফুসলিয়ে-বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। সম্ভবত ১ মার্চ কুমিল্লা থেকে গুলশানের ওই বাসায় গিয়ে ওঠেন মুনিয়া। দেড় মাসের মাথায় সেখানেই রহস্যজনকভাবে মারা যান।

ইকবাল হোসেন আরো জানান, মুনিয়াকে ঢাকায় যেতে বারবার নিষেধ করেছিল তার বোন নুসরাত। কিন্তু মুনিয়া তখন তার বোনকে বলেছে, “আনভীর তাকে বিয়ে করবে, তাকে তাদের দেশের বাইরে স্থায়ীভাবে নিয়ে যাবে।” এই জন্যই সে বোনের নিষেধ অমান্য করে ঢাকা যায়।

মুনিয়ার মরদেহ যে বাসায় পাওয়া যায় সেই বাসা পুরোটাই আনভীর আর তার বাঁধানো ছবি দিয়ে ভরা বলে জানিয়েছেন ইকবাল হোসেন। সেইসব ছবি পুলিশের হেফাজতে আছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর গুলশানের নিজের ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করে গুলশান থানায় মামলা করেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান।

মামলার এজাহারে বাদী বলেন, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিরা। দুই বছর আগে মুনিরা এবং সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) মধ্যে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন। তাদের প্রায় সময় মোবাইলে ফোনে কথা বলতে দেখা যেত। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এদিকে মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ছয়টি ডায়েরি, তার ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস ও ওই ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটের সংগ্রহ করেছে পুলিশ। 

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল হাসান ফিরোজ এ কথা জানিয়ে বলেন, “ওই ফ্ল্যাটে মেয়েটি একাই থাকতেন। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে তার (মোসারাত জাহান মুনিয়া) সম্পর্ক ছিল। ওই ব্যবসায়ী মুনিয়ার ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন বলেও আমরা জানতে পেরেছি। তবে আর কে কে সেখানে আসা-যাওয়া করতেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”