• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২১, ১০:২২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১৭, ২০২১, ০৫:২৭ এএম

সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য মিল্লাতকেই দায়ী করেছিলেন নুসরাত

সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য মিল্লাতকেই দায়ী করেছিলেন নুসরাত

নিজের মৃত্যুর জন্য স্বামী মিল্লাত মামুনকে দায়ী করে নোট লিখে আত্মহত্যা করেন নুসরাত জাহান। এর আগে ১২ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নুসরাতের বাবা রত্ন কান্তি রোয়াজা শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

বুধবার (১৬ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) জামিল হোসাইন আসামি মিল্লাত মামুনকে আদালতে হাজির করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। 

রিমান্ড আবেদনে নুসরাতের সুইসাইড নোটের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ জুন) সকালে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-২-এর একটি দল মিল্লাত মামুনকে গ্রেপ্তার করে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “মিল্লাত মামুন ভিকটিম নুসরাত জাহানকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ক্রমাগত এমন অপমানে বিপর্যস্ত হয়ে নুসরাত আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের বিয়ের হলফনামার ফটোকপি, দুই পৃষ্ঠায় নুসরাতের লেখা সুইসাইড নোট এবং একটি ছবি উদ্ধার করা হয়। নুসরাত জাহান সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য তার স্বামী দায়ী বলে উল্লেখ করেন।”

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে তাকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি (মিল্লাত মামুন) ঘটনার প্রকৃত তথ্য না দিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য মিল্লাত মামুনের সাত দিনের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে ২০১৯ সালে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাত নুসরাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মিল্লাত জুয়া, নেশা এবং পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুসরাত তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, মিল্লাত তাকে শারীরিক নির্যাতনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। তাকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছে। না গেলে হত্যার হুমকি দেয়।