• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২১, ০২:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ২৯, ২০২১, ০২:৪৭ পিএম

চাঁদা না পেলেই গুলি!

চাঁদা না পেলেই গুলি!
জব্দকৃত ৬ চেম্বার বিশিষ্ট একটি রিভলবার ও এক হাজার পিস ইয়াবা। ছবি ● সংগৃহীত

চক্রটি প্রথমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার কাজ, মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতো। এর মধ্যে অনেক ঠিকাদার চাঁদা দিতে না পারলে তাদের গুলি করে ঢাকা বাইরে পালিয়ে যেত। গুলির ঘটনার পর অনেক ঠিকাদার ভয়ে চক্রটিকে চাঁদা দিতো। এছাড়া চক্রটি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় কিলিং মিশিনেও অংশ নিত।

সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন এলাকায় ঠিকদার আরব আলীর কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে গুলি করে চক্রটি। এ ঘটনায় চক্রটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন আরব আলী। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৮ জুলাই) চক্রের তিন জনকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের গুলশান বিভাগের একটি টিম।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. সাহজাহান ওরফে বাবু, মো. দুলাল প্যাদা ওরফে জিএমপি দুলাল ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি রিভলবার, একটি পিস্তল ও তিন হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলার বাদী মো. আরব আলী পেশায় একজন ঠিকাদার। গত ১৫ মার্চ বাদীর এলাকার লোকজন নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে এলাকার ৮০ ফুট প্রশস্ত সুয়ারেজ ড্রেনের কাজ জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়। কাজ চলাকালীন গ্রেফতাররা বিভিন্ন সময় বাদীর কাছে চাঁদা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে। ঠিকাদার আরব আলী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ মার্চ দুপুরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ৩৩/এ বাসার সামনে রাস্তার ওপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। এ সময় আরব আলীর ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

তিনি বলেন, এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. সাহাজাহান ওরফে সাবুকে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে পল্লবী থানার কালশী বাউনিয়া বাঁধের বাসা থেকে ৬ চেম্বার বিশিষ্ট একটি রিভলবার ও এক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযানের সময় কালশী এলাকা থেকে মো. দুলাল প্যাদা ও জিএমপি দুলাল ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও দুই হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা বিভিন্ন সময় কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কিলিং মিশিনে অংশগ্রহণ করতো। এছাড়াও তারা পরস্পর যোগসাজশে মাদক ব্যবসার বিস্তৃতি ও ভাষানটেক, কালশী, ক্যান্টনমেন্ট, মাটিকাটা এলাকায় চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্র ব্যবহার করতো। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে।

তাদের পৃষ্ঠপোষক কারা জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী ইব্রাহীম ও যুবরাজের তত্ত্বাবধানে তারা কাজ করতো বলে জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও এ চক্রের আরও আট থেকে দশ জনের নামের তালিকা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, ঢাকা শহরের কোথাও যদি অবৈধ জমি দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ডিবি। এসব ঘটনা ঘটলে ডিবি তাদেরকে ছাড় দেবে না। কোথাও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে থানায় জানাবেন। ঢাকায় এ ধরনের ঘটনার পর ঢাকার বাইরে পালিয়ে গেলে কেউ রক্ষা পাবে না।

জাগরণ/এমএইচ

আরও পড়ুন