• ঢাকা
  • বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ০৯:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ০৩:৫৭ পিএম

সাইক্লোন-টর্নেডো-হারিকেন অফারের জনক রাসেল

সাইক্লোন-টর্নেডো-হারিকেন অফারের জনক রাসেল

গরিবের টাকা দ্বিগুণ করার মেশিন। আর বাংলার ‘আলীবাবা-আমাজন’ আর সাইক্লোন-টর্নেডো-হারিকেন অফারের জনক রাসেল এখন হাজতে। তাই মাথায় হাত ইভ্যালিতে অতি লোভে টাকা লগ্নি করা লাখো গ্রাহকের।

প্রতিষ্ঠানটির এখন সম্পদের চেয়ে দায় ছয় গুণ বেশি। ভোক্তা অধিকারেও জমেছে অভিযোগের পাহাড়।

সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত, মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে গত আড়াই বছর ধরে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে গেছে ইভ্যালি।

টেলিভিশন-পত্রিকা আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাড়িকাড়ি টাকা ঢেলে সাইক্লোনের মতো নানা অফার দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ঠকিয়েছে ইভ্যালি।

ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান নাসরিন এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে।অথচ জনগণের কষ্টের টাকা হেফাজতের আশ্বাস দিয়ে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে আশ্রয় করে যাত্রা শুরু করেছিল ইভ্যালি।

শুরুতে ১০ টাকায় ১৬ জিবি পেন ড্রাইভ, ১৬ টাকায় মোবাইল ও ২৬ টাকায় টি-শার্টের অফার দিয়ে গ্রাহককে কাছে টানে ইভ্যালি।

এরপর আসে সেই অবিশ্বাস্য ‘সাইক্লোন ও আর্থ কোয়াক’ অফার! যেখানে মোটরসাইকেল, গাড়ি, মোবাইল ফোন, ঘরের সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রের মতো পণ্যে দেয়া হয় ১০০ ও ১৫০ শতাংশ ক্যাশব্যাকের মতো অত্যন্ত লোভনীয় অফার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির গ্রাহক ছিল ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দেনা দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকায়।

যেখানে চলতি সম্পদ মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এই মুহূর্তে ইভ্যালির দায় ৫৪৪ কোটি টাকা। আর তাদের সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১০৫ কোটি টাকা।

পণ্যমূল্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহ করে নি ইভ্যালি। আবার যেসব কোম্পানির কাছ থেকে ইভ্যালি পণ্য কিনেছে, সেই মার্চেন্টদের কাছেও এর বকেয়া পড়েছে ১৯০ কোটি টাকা।

এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এসে চোখের পানি ফেলে, প্রতারিত গ্রাহকের ক্ষোভ আর মনের আগুন নেভানোর চেষ্টা করে গেছেন ইভ্যালির সিইও রাসেল। তার জন্য এই মুহূর্তে ‘রিফান্ড’ এড়ানো গেলেও, রিমান্ড এড়ানোর সুযোগ নেই।

জাগরণ/এসএসকে