• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২১, ১২:২০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৮, ২০২১, ০৬:২০ পিএম

মুনিয়ার পয়সায় নুসরাত চলতেন!

মুনিয়ার পয়সায় নুসরাত চলতেন!
পিয়াসা, মুনিয়া ও নুসরাত (ডানে)

দুই দিনের রিমান্ড শেষে মুনিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি পিয়াসা মাহবুবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

দু’ দিনে পিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বারিধারায় তার বাড়ি থেকে পিয়াসাকে আটক করা হয়েছিল মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে। সেই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে। এর মধ্যে মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া একটি হত্যা এবং ধর্ষণের মামলা করেছেন। সেই মামলার একজন আসামি পিয়াসা মাহবুব। কিন্তু পিয়াসা বলেছে উল্টা কথা।

জিজ্ঞাসাবাদে পিয়াসা মাহবুব জানায়, এক সন্ধ্যায় নুসরাত জাহান তাকে টেলিফোন করেন এবং তার সঙ্গে দেখা করতে চান। পিয়াসা মাহবুব তাকে ২ দিন পর সময় দেন। সেখানে নুসরাত জাহান বারিধারায় পিয়াসা মাহবুবের বাড়িতে দেখা করেন।

পিয়াসা মাহবুব বলেন, আমি যখন তাকে ডাকলাম তখন তিনি (নুসরাত জাহান) একটি সুন্দরী কিশোরী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসলো। এই মেয়েটি তার ছোট বোন বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

পিয়াসা জানান, নুসরাত পিয়াসাকে অনুরোধ করেন যে তার বোন মডেলিং করতে চায়, নাটকে অভিনয় করতে চায়, সিনেমা করতে চায়। কাজেই এখানে যদি পিয়াসা মাহবুব একটু সহযোগিতা করেন।

পিয়াসা মাহবুব তাকে জানান, তিনি চেষ্টা করবেন। এরপর তিনদিন পর নুসরাত জাহান আবার টেলিফোন পিয়াসার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এভাবে কয়েক দফা যোগাযোগের পর একদিন নুসরাতকে তার ছোট বোন সহ আসতে বলেন।

তিনি বলেন, তার ছোট বোন যেন আধুনিক পোশাক-পরিচ্ছদ পড়ে আসে। কারণ, তার বাসায় একটি ডিজে পার্টি আছে। সেখানে বেশকিছু সিনেমা জগতের এবং বিভিন্ন মহলের লোকজন আসবে। সেখানে যদি কারও মুনিয়াকে পছন্দ হয় তাহলে তার ভাগ্য খুলে যেতে পারে। এভাবেই পিয়াসার ডিজে পার্টির আসরে নিয়মিতভাবে মুনিয়ার যাতায়াত শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে মুনিয়া একাই আসা শুরু করে।

পিয়াসা মাহবুব জানান, দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মুনিয়া তাকে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন যে, তার পক্ষে ঢাকায় থাকা সম্ভব হচ্ছে না, তিনি কুমিল্লা ফিরে যাচ্ছেন। এজন্য কিছু টাকা চান। পিয়াসা মাহবুব তখন তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।

কিছুদিন পর মুনিয়া আবার ঢাকা আসেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সে সময় পিয়াসা জানান যে, এখন করোনার সময়, বাড়িতে পার্টি হচ্ছে না। এজন্য তাকে আপাতত প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হলে তিনি যোগাযোগ করবেন। এরপর থেকে পিয়াসার সঙ্গে মুনিয়া এবং নুসরাতের কোনো যোগাযোগ হয়নি।

পিয়াসা জানান, নুসরাতই মুনিয়াকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন। মুনিয়া যেন আয় উপার্জন করতে পারে, সংসার চালাতে পারে, সেজন্য চেষ্টা তদবির করতো নুসরাত।

পিয়াসা মাহবুব বলেন, আমার ধারণা মুনিয়ার পয়সায় নুসরাত চলতেন। এই হত্যাকাণ্ড বা মৃত্যুর ব্যাপারে পিয়াসা মাহবুব কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, গত ছয় মাস ধরে তার সঙ্গে মুনিয়া বা নুসরাতের কোনও যোগাযোগ ছিল না। অন্য আসামিদের সঙ্গেও তার কোনও যোগাযোগ ছিল না বলে পিয়াসা মাহবুব উল্লেখ করেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পিয়াসা মাহবুব বলেছেন মুনিয়াকে আসলে হত্যা করা হয়নি, মুনিয়া নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কিছুদিন ধরেই মুনিয়া আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং বোনের সঙ্গে প্রায়ই তার আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হতো।

জাগরণ/এসএসকে/এমএ