• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২১, ১১:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২২, ২০২১, ১২:৫৫ এএম

কুমিল্লার সেই ইকবাল গ্রেফতার, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লার সেই ইকবাল গ্রেফতার, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা নগরীর পূজামণ্ডপ থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ উদ্ধার ও মণ্ডপে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার সৈকত থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য নিশ্চিত বলেন, নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের মধ্যেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় সে সৈকতে ঘোরাফেরা করছিল। তার বয়স ৩৫ বছর। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে তাকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ বলছে, ইকবাল হোসেন কুমিল্লা নগরীর পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদ থেকে পবিত্র কোরআন শরীফ সংগ্রহ করে নানুয়ারদীঘির পাড় পূজামণ্ডপে রাখেন। বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়।

বুধবার (২০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে ইকবাল হোসেনের নাম আসায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তবে কোরআনটি কোথায় থেকে আনা হয়েছিল এটা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়।

একটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নানুয়ার দীঘির পাড়ের অদূরে দারোগাবাড়ি মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন শরীফটি সংগ্রহ করে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।  ১৭ মিনিটের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাতে কয়েক দফায় ইকবাল হোসেন মাজার সংলগ্ন মসজিদে প্রবেশ করেন। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে তিনি মসজিদে যান। পরে বের হয়ে আসেন। এ সময় মসজিদে দুইজন মুসল্লি ছিলেন। পরে আবার রাত ২টা ১২ মিনিটে মসজিদের একটি বক্স থেকে কোরআন নামিয়ে ফ্লোরে রেখে বের হয়ে যান। সর্বশেষ রাত ২টা ১৭ মিনিটে আবারও মসজিদে গিয়ে কোরআন হাতে বের হয়ে যান। 

ইকবাল সুজানগরের নূর আহমেদ আলমের বড় ছেলে।

ঘটনাস্থলের আশেপাশের অন্তত ১২টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে মণ্ডপে কোরআন রাখা যুবক ইকবাল হোসেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হলেও এর নেপথ্যে কে বা কারা- সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পরিবারের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল হোসেন সবার বড়। এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত ইকবাল প্রায়ই নেশা করতো। নেশার টাকার জন্য পরিবারের শোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হতো সে। কখনও বাস চালকের সহকারী, কখনও রং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করলেও নেশার জগতে পা রাখায় কোথাও তাকে লোকজন কাজে রাখতে চাইতো না। প্রথম বিয়ে করেন বরুড়ায়। আয়েশা বেগম নামে তার সেই স্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার এক ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে করেন চৌদ্দগ্রামের কাদৈ গ্রামের রুমি আক্তারকে। অন্তঃসত্ত্বা রুমিও তাকে ছেড়ে গেছেন। আদালতে মামলাও করেছেন। সেই সংসারে তার একটি মেয়ে আছে। 

গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়ারদীঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় কুমিল্লা নগরের কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জেলার সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দির দুটি মণ্ডপে হামলা হয়। 

এর জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি, দাউদকান্দি ও দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা হয়। এসব মামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জাগরণ/এসএসকে/এমএ