• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২১, ১০:৪০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২২, ২০২১, ০৯:২১ এএম

জাবি‍‍’র আজীবন সম্মাননা পেলেন বরেণ্য সাংবাদিক আবেদ খান

জাবি‍‍’র আজীবন সম্মাননা পেলেন বরেণ্য সাংবাদিক আবেদ খান
সাংবাদিক আবেদ খানের হাতে আজীবন সম্মাননার স্মারক তুলে দিচ্ছেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগ' থেকে বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেদ খানকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্যে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আজ (২১ ডিসেম্বর, ২০২১) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে বিভাগটির ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে 'আজীবন সম্মাননা প্রদান' অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয় দেশবরেণ্য এই সাংবাদিককে। 

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক শামসুল মজিদ হারুনকেও আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। 
 

 আলোচনা সভায় কথা বলছেন সাংবাদিক আবেদ খান। ছবি- জাগরণ। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাবি'র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান ও একই বিভাগের জনাব শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ। আমিনা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জনাব শেখ আদনান ফাহাদ। 

অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াল সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং তাদেরকে ইতিহাস পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তোমাদের সকল ভালো কাজের সঙ্গে আমি সর্বদাই আছি।'

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আবেদ খানকে উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন মাননীয় উপাচার্য। ছবি- জাগরণ।  

অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিক আবেদ খানের অবদানকে স্মরণ করেন এবং বলেন, আমি আর মুক্তিযুদ্ধের কথা কি বলবো। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক এই মঞ্চে উপবিষ্ট রয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প ভালো শোনাতে পারবেন।'   

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে 'গণমাধ্যমে জনস্বার্থঃ কালের পরিক্রমা' শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে সাংবাদিক আবেদ খান তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের নানা গল্প উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে স্বপ্নের  বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। 

সাংবাদিকতা বিভাগের তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক হলেন চব্বিশ ঘণ্টার জন্যেই সাংবাদিক। ১২ ঘণ্টা সাংবাদিক আর ১২ ঘণ্টা সাংবাদিক নয়; তা কিন্ত নয়। ২৪টি ঘণ্টার প্রতি মুহূর্তেই সে সাংবাদিক।''

অনুষ্ঠান শেষে জাবি'র সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক বৃন্দের সঙ্গে জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সামনে গ্রুপ ছবিতে আবেদ খান। ছবি- জাগরণ।   

তিনি আরও বলেন, ''এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে সাংবাদিকতা যে শক্তির জোরে টিকে আছে তা হলো সততা ও শুদ্ধতা। সাংবাদিকতায় সততা ও শুদ্ধতা যদি না থাকে তা কিন্ত সাংবাদিকতা নয়। 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবেদ খান বলেন, ''একজন মানুষের আজীবনের প্রতিষ্ঠিত কোনও ব্যবসা বা যে কোনও জিনিস; যাকে সে জীবনের সমস্ত কিছু বিনিয়োগ করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন, একজন সাংবাদিক তার একটি কলমের খোঁচায় তার সমস্ত কিছু ধূলিসাৎ করে দিতে পারেন। এটাকে আমি কখনই সাংবাদিকতা বলতে পারি না।' 

সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে মূল ধারার মিডিয়ার পার্থক্য সম্বন্ধে তিনি বলেন, ''একজন সাংবাদিক ততক্ষণ কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন না যতক্ষণ না ঘটনাটির যথাযথ ক্রস চেক অর্থাৎ সন্দেহের সমস্ত জায়গাগুলোকে সে একসঙ্গে নানা জায়গায় নানাভাবে প্রশ্ন করে আসল সত্যটাকে বের করতে সক্ষম হন। আর এভাবেই পুরো ঘটনার বৃত্ত সম্পন্ন করে সে এক সময় বিন্দুতে অর্থাৎ সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছায় এবং তখনই একটি বস্তুনিষ্ঠ ও চমৎকার গল্প তৈরি হয়। এটার জন্যে একজন সাংবাদিককে সততার সঙ্গে সকল রকমের প্রচেষ্টাকে নিয়োগ করতে হয়। অপরদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এর কোনও কিছুকেই বিচার না করেই যা ইচ্ছা তাই বলে দেয়া হয় বা ঘটনাকে প্রকাশ করা হয়। এদিক দিয়ে অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে মূল ধারার মিডিয়ার বিস্তর তফাৎ পরিলক্ষিত হয়।'' 

হল রুম। ছবি- জাগরণ। 

নতুনদেরকে তিনি পরামর্শ দেন, 'এই পেশা যেমন মহান, ঠিক একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। আমি আশা করি, তোমরা সেই শক্তি ও শিক্ষা অবশ্যই অর্জন করবে।''       

বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতা নিয়ে আবেদ খান বলেন, ''এখন কর্পোরেট জগতে যে সাংবাদিকতা আছে, সেই সাংবাদিকতা মালিকের সাংবাদিকতা; ব্যবসায়ীর সাংবাদিকতা। তিনি বলেন, এখন সম্পাদক বলে কিছু নেই, এখন হয়ে যাচ্ছে সিইও, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার। সাংবাদিক বলে কেউ নেই, কর্মচারী! কে কত বড় অফিসার হবে তারই এক প্রতিযোগিতা। এভাবে সাংবাদিকতা হয় না।''  

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণদেরকে উৎসাহ ও উদ্দীপনায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশটি মুক্তিযুদ্ধের দেশ। এ মাস বিজয়ের মাস। যে জাতির একটা স্বাধীনতার দিবস থাকে, একটা বিজয় দিবস থাকে, সে জাতির পরাজয় হতে পারে না।'' 


 

এসকেএইচ//