• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ১২:৫৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৩, ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম

নিহত ব্যক্তির মাথাসহ সারা শরীরে অসংখ্য লোহার পেরেক!

নিহত ব্যক্তির মাথাসহ সারা শরীরে অসংখ্য লোহার পেরেক!
ছবি- জাগরণ।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যের টর্চার সেলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনে নিহত আনোয়ারুল ইসলামের (৩০) মাথাসহ সারা শরীরে অসংখ্য লোহার পেরেক লাগানো ছিল।

মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পুলিশের কাছে নিজের ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে আনোয়ারুল।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বিচারের দাবীতে মরদেহ নিয়েই মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। দুপুর আড়াইটা থেকে আদিতমারী উপজেরার নামুড়ি বাজার এলাকার লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কে মরদেহ রেখে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা।

এর আগে, টানা ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুধবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারুলের মৃত্যু হয়।

আনোয়ারুল জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে পাশের কালীগঞ্জের চলবলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মোজ্জাম্মেল হককে দেড় লাখ টাকা ধার দেন আনোয়ারুল। নির্বাচনে জয়লাভের পর সেই টাকা পরিশোধ করতে চাপ দেন তিনি। কিন্তু টাকা না দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান মোজাম্মেল, যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

গত ০৪ জানুয়ারি টাকা দেয়ার কথা বলে আনোয়ারুলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন মোজাম্মেল। এরপর নিজের টর্চার সেলে আটকে রেখে দু’দিন অমানুষিক নির্যাতন করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইউপি সদস্যের বাড়িতে আনোয়ারুলকে উদ্ধার করতে গিয়ে ধরা পড়েন তার প্রতিবেশী রোকনুজ্জামান। তার ওপরও অমানুষিক নির্যাতন চলে। পরে ৬ জানুয়ারি আনোয়ারুলের পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯-নম্বরে ফোন করলে পুলিশ মোজাম্মেলের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় আনোয়ারুলের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে তারা।

অবস্থা বেগতিক দেখে মুমূর্ষু আনোয়ারুল ও রোকনুজ্জামানকে স্থানীয় তেঁতুলিয়া মাদরাসা মাঠে ফেলে সটকে পড়ে অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত আনোয়ারুলের মাথাসহ সারা শরীরে অসংখ্য লোহার পেরেক লাগানো ছিল। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পুলিশের কাছে নিজের ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন আনোয়ারুল।

এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোজাম্মেল, তার ছোট ভাই মোশারাফ হোসেন ভুট্টু ও ছেলে সুজনসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ১১ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মোজাম্মেল ও তার ছোট ভাই। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত আনোয়ারুলের মরদেহ নামুড়ি বাজারে পৌঁছলে হাজার হাজার জনতা মরদেহ মহাসড়কে রেখে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে। মহাসড়ক অবরোধ করায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।  

আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

এসকেএইচ//