• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২২, ০৫:৩১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৯, ২০২২, ১১:৩১ এএম

করোনার উচ্চঝুঁকিতে ঢাকাসহ ১২ জেলা

করোনার উচ্চঝুঁকিতে ঢাকাসহ ১২ জেলা

দেশে গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। সংক্রমণের উচ্চমাত্রায় বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার সংখ্যা। ঢাকা ও রাঙামাটির সঙ্গে আরও ১০ জেলাকে রেড জোন বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব জেলায় সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া ইয়োলো জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে ৩২ জেলা আর গ্রিন জোন বা কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ১৬ জেলাকে ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়, গত ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনে দেশজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪০৫ জন, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৩ হাজার ৯৩১ জন বেশি। এই সময়ে শনাক্ত বেড়েছে ২২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই সঙ্গে এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের, যা আগের সাত দিনের তুলনায় ৩৭ জন বেশি। এই সময়ে প্রাণহানি ১৮৫ শতাংশ।

ঢাকা ও রাঙামাটি ছাড়াও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা জেলাগুলো মধ্যে রয়েছে, গাজীপুর, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড়। 

এর মধ্যে ঢাকাতেই সংক্রমণের হার ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ। বর্তমানে দৈনিক শনাক্ত রোগীর ৮০ ভাগই বিভাগীয় এই জেলায়। এ ছাড়া রাঙামাটিতে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ, গাজীপুরে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যশোরে ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বগুড়ায় ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, লালমনিরহাটে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং পঞ্চগড়ে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

৫ শতাংশের বেশি ও ১০ শতাংশের নিচে মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ৩২ জেলা হলো, সিলেট, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, নাটোর, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, শেরপুর, ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁও।

এ ছাড়া এখনো করোনা থেকে ঝুঁকিমুক্ত বাকি ১৬ জেলা। এসব জেলায় সংক্রমণের মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে।

এদিকে দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বেপরোয়া চলাচলে আবারও গত বছরের জুলাই-আগস্টের পথে ছুটছে সংক্রমণ। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত করোনার সর্বোচ্চ ভয়াবহতা দেখা গেছে গত বছরের জুলাই-আগস্টে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ। মাঝে চারটি মাস কিছুটা স্বস্তিতে কাটলেও আবারও পুরোনো পথে ছুটছে সংক্রমণের তীব্রতা। 

গত এক সপ্তাহের শনাক্তের হার সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। সেটি আরও স্পষ্ট করছে দৈনিক সংক্রমণের মাত্রা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আট হাজার ৪০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা গত ১৩ আগস্টের পর একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত। এ নিয়ে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৬ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৪ জনে পৌঁছেছে। শনাক্তের হার বেড়ে পৌঁছেছে ২৪ শতাংশের কাছাকাছি।