• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২২, ০১:১৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৯, ২০২২, ০১:১৯ এএম

‘খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে টুস করে নদীতে ফেলে দেয়া উচিত’

‘খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে টুস করে নদীতে ফেলে দেয়া উচিত’
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বে যারা আছে তারা সবাই সাজাপ্রাপ্ত। আর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়ে জেতা যায় না বলেই তারা নির্বাচনকে কলুষিত করছে। তিনি বলেন, বিএনপির আমলের নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত যে, তাদের নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কোনও অধিকারই নেই। 

বুধবার (১৮ মে) শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর  বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে ক্ষমতাসীন দলটি। এই আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতুকে জোড়াতালির বলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সেতুর ওপর থেকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়ার কথা, আর টাকা বন্ধের চেষ্টা করা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে পদ্মা নদীতে চুবানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া বলেছিল, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে।’’ পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে (খালেদা জিয়াকে) টুস করে নদীতে ফেলে দেয়া উচিত। আর যিনি আমাদের একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুই চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেয়া উচিত। মরে যাতে না যায়। একটু পদ্মা নদীতে দুইটা চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বিএনপির আমলের নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত যে, তাদের এ নিয়ে কথা বলার তো কোনও অধিকারই নাই, কোন মুখে তারা বলে? প্রত্যেকটা সময়ই তো আমরা দেখেছি তাদের ইলেকশন।

শেখ হাসিনা যোগ করেন, সেই ’৭৭ এর হ্যাঁ-না রাষ্ট্রপতি, ’৭৯ এর সাধারণ নির্বাচন, ’৮১ এর নির্বাচন প্রত্যেকটি নির্বাচনই তো আমাদের দেখা। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। তো যাদের নির্বাচনের এত কলুষিত রেকর্ড তাদের মুখে এখন নির্বাচনের প্রশ্ন। 

আজকে নির্বাচনে যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি সবগুলি আমাদেরই সিদ্ধান্ত, আমাদেরই চিন্তা। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অর্থই হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সত্য। 

গণতান্ত্রিক অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই শক্তিটা আছে বলেই এবং জনগণের শক্তিতে আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই এখানে কাজ করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর থেকে নানা রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় খালেদা জিয়া তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে তিনি সুযোগ দিয়েছেন বলেই এখন ঘরে থাকতে পারছেন। 

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং ওয়ান-ইলেভেনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতারসহ তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ২৫ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া, এটা একটা বড় সিগনাল ছিল তাদের কাছে।

দেশ চালানো এত সহজ না উল্লেখ করে সরকার প্রধান আরও বলেন, দুবছর ধরে সব জায়াগায় তারা সেনা মোতায়েন করে রেখে দেশ চালাচ্ছে, কত দিন রাখতে পারে? যেটা হবার, সেই একটা বিশৃঙ্খলা সব জায়গায়। ওই অবস্থায় তারা মুক্তি দিল আমাকে এবং নির্বাচন দিল আর সেই নির্বাচনেই কিন্তু আওয়ামী লীগ জয় লাভ করলো।

দেশে ফিরতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাধা দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন যদি জোর করে ফিরে না আসতাম আর জেল না খাটতাম, তা না হলে হয়তো দেশের জনগণের এত ভোট পেতাম না। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে কিন্তু আজকে তিন টার্ম সরকারে আছি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় যদি ক্ষমতায় থাকতে না পারি তাহলে দেশের উন্নতিটা দৃশ্যমান হয় না, উন্নতি করাও যায় না। কারণ ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে কাজগুলি করেছিলাম, তা তো অধিকাংশ খালেদা জিয়া এসে নস্ট করে দিল। কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ, কেন? 

যারা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা পাচ্ছে, তারা নৌকায় ভোট দেবে। ধানের শীষে ভোট দেবে না, এটা ছিল খালেদা জিয়ার যুক্তি। এভাবে যতগুলি কাজ আমরা হাতে নেই, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছিলাম, সেখানে কমিশন খেতে যেয়ে সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনও প্রায় ব্যাহত। সর্ব প্রথম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আমরা উন্মুক্ত করে দিই। 

বিদেশি বিনিয়োগ, আমেরিকার বিনিয়োগ প্রথম বাংলাদেশে আসে ইউএস একটা কোম্পানি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তারা বেসরকারি খাতে নির্মাণকাজ শুরু করে। সেই থেকে আমরা বেসরকারি খাতে সব কিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসতে দেয়নি ৭ বছর, ৮ বছর পর যখন আবার আসি আবার সেই কাজগুলি শুরু করি। আমরা ২০০৯ এর পর যে সরকার গঠন করেছি, তার পরেও আমাদের কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে, পেট্রোল বোমা মারে। দেশকে তারা বার বার ধ্বংসের দিকে নেয়ার চেষ্টা করেছে এবং সরকার উৎখাত করার উদ্যোগ নিয়েছে। 

আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাদের ডাকে তো জনগণ সাড়া দেয়নি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়া ২০০৭-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়েছে, সে জীবনে কোনো দিন রাজনীতি করবে না। এই মুচলেকা দিয়েই কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায়। এই মামলায় বিচারের রায়ে সে সাজাপ্রাপ্ত। 

এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে এখন বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি, অসুস্থ সেই জন্য। এটুকু মানবিকতা দেখিয়েছি, যে আমাকে হতার চেষ্টা করেছে বার বার তাকেই আমি এই করুণা ভিক্ষা দিয়েছি যে, সে এখন বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাকে সুযোগ আমরা দিয়েছি, নির্বাহী আদেশেই দেয়া হয়েছে।

দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে নানা বাধার কথা উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, ব্যাংকের এমডি না হতে পেরে ড. ইউনুস নানা জায়গায় যোগাযোগ করে পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করেছিলো। বিএনপি নেতারাও পদ্মাসেতু নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিলো। কিন্তু পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। 

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় শেষে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

জাগরণ/জাতীয়/এমএ/এসএসকে