• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২২, ০৮:৩৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২২, ২০২২, ০২:৩৫ পিএম

বুঝেশুনে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

বুঝেশুনে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের সভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশটাকে চিনতে হবে, জানতে হবে। বাংলাদেশের একেক এলাকা একেক রকম, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। সেসব মাথায় রেখেই আপনাদের কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বুঝেশুনে উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রোববার সকালে ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের প্রথম সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশটাকে চিনতে হবে, জানতে হবে। বাংলাদেশের কিন্তু একেক এলাকা একেক রকম, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। সেটা মাথায় রেখেই আপনাদের কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা ব্রিজটা যখন হয় আমি কিন্তু ব্রিজকে ছোটো হতে দিইনি। নদী যতটা ওই জায়গায় চওড়া সেটা মাথায় রেখে বাফার জোন রেখেই আমরা ব্রিজটা করেছি। সে জন্য ব্রিজটা সবচেয়ে দীর্ঘ হয়েছে।

‘যমুনা ব্রিজটা (বঙ্গবন্ধু সেতু) কিন্তু চার কিলোমিটারে কমিয়ে আনা হয়। আমি মনে করি এটা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু ডিজাইন প্ল্যান আগেই হয়ে গিয়েছিল, আমাদের বেশি কিছু করার ছিল না। আমি শুধু রেললাইনটা সংযোজন করতে পেরেছিলাম।’

দেশের নদ-নদীগুলোর গতি-প্রকৃতি এবং বর্ষা শেষে নদীর তলদেশে মাটির চরিত্রটা বদলে যায় বলেও সভায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যমুনায় একেবারে চুলের বেণি যেভাবে ওইভাবে হয় এবং প্রতিবারেই বদলায়। তেমনটাই হয় পদ্মা নদীতেও। কাজেই এগুলো মাথায় রেখেই আমাদের প্ল্যান করতে হবে।

‘আমাদের বাংলাদেশের অবস্থাটা কিন্তু অন্যান্য দেশের মতো নয়, একটু ভিন্ন। এই ভিন্নতা মাথায় রেখেই আমাদের পরিকল্পনা নেয়া এবং সেভাবে কাজ করতে হবে।’

ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের সভার আলোচ্য এজেন্ডা নিয়ে প্রণীত সুপারিশমালা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যানটা… যদি আমরা ভালোভাবে একটা গাইডলাইন তৈরি করে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি… আর যেহেতু এটা ২১০০ সাল পর্যন্ত, তাই সময়ের সঙ্গে এটা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে হবে। সেভাবেই কিন্তু আমাদের সব প্ল্যান হাতে নিতে হবে।’

দেশের উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি করা সবচেযে বড় কথা। সেটা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করব।’

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জোয়েনা আজিজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।