• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২২, ১২:১০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২, ২০২২, ০৬:১০ পিএম

এলপি গ্যাসের দাম কমল ৩৫ টাকা

এলপি গ্যাসের দাম কমল ৩৫ টাকা

চলতি অক্টোবর থেকে এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৫ টাকা কমে ১২০০ টাকা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিল ১২৩৫ টাকা। লিটার প্রতি দাম ৫৫ দশমিক ৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রোববার (২ অক্টোবর) ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন এই দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান আবদুল জলিল। সংবাদ সম্মেলনে আরও অংশ নেন কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, বিইআরসির সচিব খলিলুর রহমান খান।

টানা কয়েকমাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মে মাসে থেকে কমতে থাকে এলপি গ্যাসের দাম। চলতি মাসেও এলপি গ্যাসের দর কমলেও ডলারের দরের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের ভোক্তারা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এলপি গ্যাসের দাম গত এপ্রিলে (১২ কেজি) গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪৩৯ টাকায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এলপিজির দামের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এ বছর। এপ্রিল মাসে (সৌদি আরামকো) সর্বোচ্চ দর ওঠে প্রপেন ৯৪০ বিউটেন ৯৬০ ডলার। ২০১৪ সালের পর আর কখনও এতো বেশি দরে বেচাকেনা হয়নি বাংলাদেশে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এই জ্বালানি। চলতি মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম কমে যথাক্রমে ৫৯০ ও ৫৬০ ডলার হয়েছে। প্রোপেন বিউটেনের অনুপাত ৩৫ ও ৬৫ যার গড় দর দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৫৭০.৫০ ডলার।

ভোক্তা পর্যায়ে বিইআরসির ঠিক করে দেয়া দাম কার্যকর হচ্ছে না-এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, “কোনো ভোক্তা যদি বেশি দাম দিতে বাধ্য হন, তিনি যদি সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, “বেশি দামে যারা কিনছেন, তারা রশিদটা নিয়ে আমাদের জানান, দেখেন না আমরা কি করি। আমরা কিন্তু লিখিত অভিযোগ পাইনি। দাম কার্যকরের ক্ষেত্রে ভোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। কোন কোম্পানি মানি না মানবো না, এমনটি বলার সুযোগ নেই। কেউ বললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

গত বছরের ১২ এপ্রিলের আগে পর্যন্ত এলপিজির দাম কোম্পানিগুলো ইচ্ছামত ঠিক করতো। ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে আমদানি নির্ভর এই জ্বালানির ভিত্তি মূল্য ধরা হবে। সৌদির দর উঠানামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠানামা করবে। অন্যান্য কমিশন অরপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতিমাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

সাধারণত মাসের তিন-চার তারিখের মধ্যে দর ঘোষণা করা হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি মাসে ডলারের দর নিয়ে মতবিরোধ থাকায় জটিলতা দেখা দেয়। এলপিজি ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত দরে তারা ডলার কিনতে পারছে না।

এলপিজি আমদানিকারকরা অপরেশনাল কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে। ১১টি কোম্পানি বিইআরসিতে লিখিত আবেদন দেয়। তাদের দাবি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় জাহাজ ভাড়া বেড়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটের ভাড়াও বেড়েছে। সম্প্রতি কমিশনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে আমদানিকারকরা। সেখানে গণশুনানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোম্পানিগুলো আবেদন জমা দিলেই গণশুনানি গ্রহণ করা হবে।

জাগরণ/জ্বালানি/এসএসকে