• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২২, ০১:১৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৫, ২০২২, ০৭:১৭ পিএম

বিদ্যুতের ঘোড়াশাল কেন্দ্র থেকেই বিপর্যয়ের সূচনা!

বিদ্যুতের ঘোড়াশাল কেন্দ্র থেকেই বিপর্যয়ের সূচনা!
ফাইল ফটো

বিদ্যুতের ঘোড়াশাল হাব থেকেই বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। 

তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী জানান, ‘২০১৪ সালের বিপর্যয়ের পরও সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয় নি।’ 

তারা বলছেন, ‘বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিতরনের সাথে সঞ্চালন ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতার কারণেই মঙ্গলবারের (৪ অক্টোবর) বিদ্যুত বিপর্যয়ের কারণ। 

দেশের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার বেলা দুইটা পাঁচ মিনিটে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সব এলাকার বিদ্যুৎ একসাথে চলে যায়। 

পূর্বাঞ্চল গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকায় দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষকে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। কোনও কোনও এলাকা এরচেয়েও বেশি সময় অন্ধকারে ছিল।

সংস্কার কাজ শেষে রাত ৯ টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো একে একে পুরো লোডে ফিরে আসতে সময় লাগে আরো প্রায় তিন ঘণ্টা। তবে কি কারণে এই বিপর্যয় সেটা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। 

তবে আসল কারণ জানতে বুধবার নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক ইয়াকুব এলাহী চৌধুরী জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওয়ার কন্ট্রোল রুমগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন মেশিনারি পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বিকেল চারটায় সেখান থেকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেয়।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন মনে করছেন, বিদ্যুতের ঘোড়াশাল হাবে কোনও ত্রুটির কারণেই এমনটা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন লোড ডেসপাস সেন্টার-এনএলডিসি থেকে নির্ধারিত কোডের ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিতরনের সমন্বয়টা ঠিকমতো না হবার কারণেই এই বিপর্যয়। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, সামগ্রিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণেই সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে।

ভবিষ্যত এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সবার আগে উৎপাদন ও বিতরন ব্যবস্থাকে এনএলডিসির নিয়ম মেনে চলার তাগিদও দেন এই বিশেষজ্ঞ। 

জাগরণ/বিদ্যুৎওজ্বালানি/এসএসকে