• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৩, ১২:৪০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৫, ২০২৩, ১২:৪০ এএম

গাজীপুর সিটি নির্বাচন আজ

গাজীপুর সিটি নির্বাচন আজ
ছবি ● ফাইল ফটো

দেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের সিটি করপোরেশন গাজীপুরে ভোটের দিন আজ বৃহস্পতিবার। নগরপিতা বেছে নেয়ার দিন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। আর এবারই প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেবে এই নগরীর ভোটাররা।

গাজীপুর সিটিতে ভোট যুদ্ধে আছেন ৩৩২জন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। নগরজুড়ে জল্পনা- কে হচ্ছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তৃতীয় মেয়র।

নির্বাচন কমিশন ৯ মে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ২৩ মে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ১৫ দিন ধরে গাজীপুর নগরী জুড়ে চলে জমজমাট প্রচারণা। নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দিন-রাত প্রচার চালিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন ভোটারের এই সিটির নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪৮০টি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে তিন হাজার ৪৯৭টি ভোটকক্ষ।

বুধবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইভিএমসহ ৪৬ ধরনের সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেয়ার কাজ শুরু হয়।

ইসি সূত্র জানায়, ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪৮০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ৪৮০ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩ হাজার ৪৯৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, ৬ হাজার ৯৯৪ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ১০ হাজার ৯৭১ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, ৫,২৪৬টি ইভিএম

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে ও কক্ষে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ব্যবহার করার জন্য পাঁচ হাজার ২৪৬টি ইভিএম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‘ইভিএমে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে মোট ৪৮০ জন ট্রাবলশুটার, প্রতি দুই কেন্দ্রে একজন করে মোট ২৪০ জন (ভ্রাম্যমাণ) টেকনিক্যাল এক্সপার্ট, ১৪ জন সহকারী প্রোগ্রামার এবং চারজন প্রোগ্রামার থাকবেন।’

নির্বাচন কমিশনা সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ৪৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ৩৫১টি, যা মোট কেন্দ্রের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। আর ১২৯টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৫৭টি ওয়ার্ডে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৭৬ জন। সঙ্গে থাকবেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও। র‌্যাবের ৩০টি টিম থাকবে। বিজিবির থাকবে ২০টি প্লাটুন, যার প্রতিটিতে ২০ জনের বেশি সদস্য থাকবেন।

স্ট্রাইকিং ফোর্স পুলিশের ১৯টি ও মোবাইল টিম হিসেবে ৫৭টি টিম থাকবে।

ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ একজন এসআই অথবা এএসআই ও চারজন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন অঙ্গীভূত আনসার পিসি, একজন অস্ত্রসহ আনসার এপিসি, লাঠিসহ চারজন নারী ও ৬ জন পুরুষ আনসার/ভিডিপি সদস্যসহ মোট ১৭ জন মোতায়েন থাকবে।

আর সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ একজন এসআই অথবা এএসআই ও তিনজন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন অঙ্গীভূত আনসার পিসি, একজন অস্ত্রসহ এপিসি, লাঠিসহ চারজন নারী ও ৬ জন পুরুষ আনসার/ভিডিপি সদস্যসহ মোট ১৬ জন মোতায়েন থাকবে।

ভোট যুদ্ধে ৩৩২ প্রার্থী

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে এবার মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে মোট ৩৩২ জন প্রার্থী সরাসরি ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেয়র পদে আটজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৯ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৫ জন।

‘নৌকার সমর্থক ছাড়া ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে দেয়া হবে না’- এমন বক্তব্য দেয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আজিজুর রহমান শিরিষের।

মেয়র পদে যারা লড়ছেন

নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আজমত উল্লা খান, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির এম এম নিয়াজ উদ্দিন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ এরশাদ ও মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন (সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা), ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রশীদ এবং হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম লড়াই করছেন।

মেয়র প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন

মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আজমত উল্লা খান বাড়ির পাশে টঙ্গী দারুস সালাম মাদ্রাসা, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির এম এম নিয়াজ উদ্দিন ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গী কলেজ রোড এলাকার নিউ ব্লুন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজ, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ এরশাদ নগরের চাংকির টেক এলাকার হাজী আলমাছ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম নলজানির বাড়িআলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে তারা জানিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের জায়েদা খাতুন নগরীর কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতাল ও ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রশীদ উত্তর খাইলকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার সব ব্যাংকের কার্যালয়ও বন্ধ থাকবে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। দ্বিতীয় সিটি নির্বাচন হয় ২০১৮ সালের ২৬ জুন। এবার তৃতীয়বারের মতো এই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাগরণ/গাজীপুরসিটিনির্বা্চন/এসএসকে