• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩, ০১:০৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩, ০১:০৫ এএম

পদ্মা সেতু

ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে আজ

ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে আজ
ছবি ● ফাইল ফটো

পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ রেল চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই রুটে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হবে  বৃহস্পতিবার।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, আগামী ১০ অক্টোবর উদ্বোধনের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত নবনির্মিত রেল লাইনে একটি পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হবে।

তিনি বলেন, আগামী মাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ঢাকার সঙ্গে সংযোগকারী ৮২ কিলোমিটার রেলপথের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা দেয়ার জন্য ১০ অক্টোবরকে অস্থায়ী তারিখ ধরে উদ্বোধনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। উদ্বোধনের তারিখ প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচির উপর নির্ভর করবে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান বলেন, চীন থেকে আমদানি করা সাতটি নতুন কোচ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একটি নতুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন), একটি পাওয়ার কার (ডব্লিউপিসি), একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডাইনিং কার এবং গার্ড ব্রেক (ডব্লিউজেডিআর), একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কার (ডব্লিউজেসি), দু’টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার (ডব্লিউজেসিসি) এবং একটি শোভন চেয়ার কোচ (ডব্লিউিইসি) বগি থাকবে।’

এর আগে পদ্মা সেতুতে পাথরবিহীন রেললাইন স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পর গত ৪ এপ্রিল ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চালায় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এবার ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার নবনির্মিত ব্রডগেজ রেললাইনে ট্রায়াল করবে কর্তৃপক্ষ।

ট্রায়াল রানে রেলমন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ট্রেনে থাকবেন বলে জানান পরিচালক আহসান।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ঢাকা ও যশোরের মধ্যে রেল সংযোগের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

রেললাইনটি তিনটি ধাপে নির্মিত হচ্ছে (ঢাকা ও গেন্ডারিয়ার মধ্যে একটি ৩ কিলোমিটার সংযোগ নির্মিত হচ্ছে): ৩৭ কিলোমিটার গেন্ডারিয়া-মাওয়া অংশ, একটি ৪২ কিলোমিটার মাওয়া-ভাঙ্গা অংশ এবং একটি ৮৭ কিলোমিটার ভাঙ্গা জংশন-যশোর অংশ। প্রায় ৪৩ দশমিক ২ কিলোমিটার লুপ, সাইডিং এবং ওয়াই-সংযোগ মোট লাইনের দৈর্ঘ্য ২১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার।

ঢাকা-যশোর পর্যন্ত পুরো রেলপথ প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ২০টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ১৪টি নতুন এবং ৬টি ইতোমধ্যে রয়েছে। আগের স্টেশনগুলোও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একবার সম্পূর্ণ হলে ট্রেনগুলো ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে।

ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রতিটি লেভেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হওয়ায় ঢাকা-যশোর রেললাইনের কোথাও কোনো রেল ক্রসিং থাকবে না।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনের মতে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গেন্ডারিয়া এবং কেরানীগঞ্জ স্টেশনে রেলওয়ে টার্ন-আউটের কিছু অসমাপ্ত কাজ (একটি রেললাইন থেকে অন্য রেললাইনে স্থানান্তর) ছিল যা  ২৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হয়েছে।’

জাগরণ/যোগাযোগ/এসএসকে