• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০১৯, ০১:২৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৬, ২০১৯, ০১:২৩ পিএম

 রবীন্দ্রনাথ এখনো আমজনতার নন : দায়টা কার?

  আহমদ রফিক
 রবীন্দ্রনাথ এখনো আমজনতার নন : দায়টা কার?

‘ভারত বিচিত্রা’য় পঙ্কজ সাহার ছোট্ট অথচ তথ্যবহুল, চমক লাগানো রবীন্দ্রবিষয়ক লেখাটি (‘আমজনতার রবীন্দ্রনাথ’) পড়ে শুধু মজাই লাগেনি, আমার রবীন্দ্রচর্চার একসময়কার অবস্থানটি নতুন সমর্থন পেয়ে বেশ সুদৃঢ় হলো। রবীন্দ্রনাথ যতই বলে থাকুন, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, তিনি এখনো ‘আমজনতার লোক’ হয়ে উঠতে পারেননি, অথবা আমজনতা তথা সাধারণ মানুষ তাঁর একান্তজন হয়ে উঠতে পারেনি এবং তাঁর মৃত্যুর ৭৮ বছর পরও।

এই না-পারার দায় রবীন্দ্রনাথের নয়, এ দায় এবং ব্যর্থতা আমাদের। কারণ আমরা তাঁকে বিনোদনের সঙ্গী করেই খুশি থেকেছি, রবীন্দ্রসংগীতে প্রাণমন ভরে নিয়ে চরম উপভোগ্যতায় পরমার্থ খুঁজেছি। তা কী পশ্চিমবঙ্গে, কী বাংলাদেশে। পশ্চিমবঙ্গে তুলনামূলকভাবে অধিক মাত্রায় যে রবীন্দ্রচর্চা চলছে, তা একাডেমিক চরিত্রের, শিক্ষিত এলিটবৃত্তে বাঁধা। সেখানে আমজনতার সংশ্লিষ্টতা নেই।

রবীন্দ্রনাথকে অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টির সারাৎসার, তার ভাবনাচিন্তার মর্মবস্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার আন্তরিক চেষ্টা শিক্ষিত রবীন্দ্রপ্রেমীদের পক্ষ থেকে করা হয়নি। তাই ভুবনডাঙা পার হয়ে শান্তিনিকেতনের অদূরবর্তী গ্রামের সাধারণ মানুষও ঠাকুরকবির দূরদর্শী চিন্তার আলো থেকে বঞ্চিত। তাদের কেউ তাঁর নাম শুনে, কেউ না শুনেই খুশি। পরবর্তী সময়ে শিক্ষিত প্রজন্ম জানবে, এমন একটি ভরসা কারো কারো মনে।

আমার ধারণা ভুল ছিল না, প্রমাণ করে দিলেন পঙ্কজ সাহা তাঁর গোপন ক্যামেরা ও শব্দ গ্রহণের কেরামতিতে। এদিক থেকে বাংলাদেশ আরো পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা স্কুল শিক্ষায়তনের চৌহদ্দির বাইরে রবীন্দ্রনাথ এই নামটি, শব্দটি প্রায় অচেনা সাধারণ মানুষের কাছে, অশিক্ষিত বা আমজনতার কাছে।

তাই আশির দশকের শেষ দিকে যখন রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্র গড়ে তুলি, তখন এর গঠনতন্ত্রের ভূমিকায় প্রথম কথাটাই ছিল জনমানসের সঙ্গে রবীন্দ্রচেতনার সেতুবন্ধ ঘটানো। সহজ ভাষ্যে অন্যতম লক্ষ্য আমজনতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটানো। এই ‘পরিচয়’ বা ‘পরিচিতি’ শব্দটি নিয়েই বিপত্তি ঘটে আমার শান্তিনিকেতন যাত্রায়। কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট নব্বইয়ের দশকে রবীন্দ্রচর্চায় আমাদের জ্যেষ্ঠ সহযাত্রী।

দুই.

একবার আমি একাই কলকাতায়। উদ্দেশ্য শান্তিনিকেতন গিয়ে পতিসর সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ। তখন কি জানি, এ ব্যাপারে রবীন্দ্রভবনও খুব একটা আলোর নিশানা দেখাতে পারবে না। ওই যাত্রায় আমার সঙ্গী ও গাইড টেগোর রিসার্চের সেক্রেটারি বন্ধু দেবব্রত পালিত। আমরা উঠেছি তাঁর ‘ছুটি’ নামের বাড়িটিতে। কী উপলক্ষে মনে নেই, সন্ধ্যাবেলায় বিশ্বভারতীর তরুণ অধ্যাপক অমিত্র সূদন ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা, তাঁর বাড়ি ‘আনন্দমঠ’-এর সামনে। অতি উৎসাহী পালিতবাবু আমাকে তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই দু-চার কথার পর তিনি বললেন, ‘কাল সকালের দিকে বরং আমাদের বাংলা বিভাগে চলে আসুন, অন্যদের সঙ্গেও পরিচয় হবে, সেখানেই কথা হবে।’ দ্রুত কথা শেষ করে সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে তিনি ‘আনন্দমঠ’-এ ঢুকে গেলেন। কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে আমরাও ‘ছুটি’র উদ্দেশে পা চালাই।

পরদিন সকালে আমরা যথারীতি অকুস্থলে। পরিচয়পর্ব শেষে আমি বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা ও রবীন্দ্র প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কিছু কথা বলার পর রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্রের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে যেই বলেছি, ‘আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য রবীন্দ্রনাথকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচিত করানো’, অমনি দ্বিতীয় সারিতে বসা পাকা চুল প্রবীণ এক অধ্যাপক কাষ্ঠহাসি হেসে বলে উঠলেন, ‘এতকাল পরও যদি রবীন্দ্রনাথকে পরিচিত করাতে হয়, তাহলে সে চেষ্টা না করাই ভালো।’

তাঁর কথা শুনে উপস্থিত সবাই নড়েচড়ে বসলেন। লক্ষ করলাম, অমিত্র সূদনের বিব্রত মুখভাব। তেমনি আমার সঙ্গী পালিতবাবু। আমি একটু কঠিন স্বরেই বললাম, আপনি এই বীরভূমের গ্রামাঞ্চলে গিয়ে খবর নিয়ে দেখবেন তো, কয়জন সাধারণ মানুষ রবীন্দ্র রচনার সঙ্গে পরিচিত? আমাদের দেশের কথা না-ই বা বলি? অধ্যাপক মহোদয় আবারও একই রকম আলতো হাসি নিয়ে ওই একই কথার পুনরুক্তি করলেন একটু ভিন্ন ভাষ্যে।

এবার অমিত্র সূদন বললেন, থাক না স্যার, এ আলোচনা। ওঁদের কথাই না হয় শুনি আমরা। বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা সম্পর্কে তো আমরা কিছুই জানি না। পালিতবাবুও তাঁর কথায় সায় দিলেন। তবু আলাপের তাল কেটে গেল।

এরপর বসে থাকা অর্থহীন। আমরা উঠে এলাম। বেরিয়ে এসেই পালিতবাবু বললেন, ‘আপনি পরিচয়ের কথাটা বলতে গেলেন কেন? উনি সুখময় মুখোপাধ্যায়, প্রবীণ অধ্যাপক; কিন্তু স্বভাবটাই হলো সবাইকে সমালোচনা করার। আবার বলি—কথাটা কি ভুল বলেছি। কয়জন সাধারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথ পড়েন বা রবীন্দ্রনাথকে জানেন, বোঝেন, বলুন তো?’ তিনি অবশ্য স্বীকার করলেন, ‘তা ঠিকই। এদিক থেকে ভারত বাংলাদেশে তফাত অল্প। চলুন, বরং রবীন্দ্রভবনে গিয়ে কাজে হাত লাগাই।’

দীর্ঘ কয়েক দশক পর এইতো কিছুদিন আগে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সোমেন্দ্রনাথ বসুর কৃতিসন্তান বর্তমান বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অভ্র বসু এ ঘটনা শুনে হেসে উঠে বললেন, ‘সুখময়বাবু এমনই ছিলেন, তাঁর মতামতের বাইরে সমালোচনায় তুখোড়, প্রায় সমবয়সীদেরও রেহাই দিতেন না উনি, সুযোগ পেলেই হলো—আপনি কিছু ভুল বলেননি। এখনো দেশের সাধারণ মানুষের রবীন্দ্রনাথকে জানতে অনেক বাকি।’

আমি বলি, ‘অনেক বাকি নয়, তারা সামান্যই জানে। রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্রের তৎপরতা চালাতে আমার অভিজ্ঞতা এমন কথাই বলে। তাই ইচ্ছা ছিল, বিভিন্ন বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের মূল বক্তব্যগুলো ছোট ছোট পুস্তিকার আকারে ছেপে দেশের স্কুল লাইব্রেরিগুলোতে পাঠাই। কিন্তু আর্থিক কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে মানুষের অনেক কিছু জানার আছে। কিন্তু আমরা শিক্ষিত রবীন্দ্রানুরাগীরা সে কাজটি যথাযথভাবে করছি না, রবীন্দ্রনাথকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির সীমিত বৃত্তে বন্দি করে রেখেছি। ‘শাদা বলার সংস্কৃতিতে’ বৃত্তাবদ্ধ রবীন্দ্রনাথ। তা-ও আবার মূলত গানের আসরে, অর্থাৎ বিনোদনে। শিক্ষিত শ্রেণির মননচর্চায়ও রবীন্দ্রনাথের অবস্থান সংকীর্ণ, জনমানস তো দূরস্থ।

বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্রের অভিজ্ঞতা বাস্তবিকই খুব একটা সুখপ্রদ ছিল না। শহর ঢাকাও যে সামান্যই ব্যতিক্রম ছিল তার প্রমাণ মিলেছে অনেক কষ্টে সংগ্রহ করা বইয়ে গড়ে তোলা ‘রবীন্দ্র পাঠাগারে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও এক-আধঘণ্টা সময় ব্যয় করতে দেখিনি। অথচ পাঠাগারে ছিল খ্যাতনামাদের লেখা রবীন্দ্রবিষয়ক বই, এমনকি কিছুসংখ্যক দুর্লভ গ্রন্থ। আর রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্রের অফিসটিও ছিল সুগম্য এলাকায়। প্রথমে বিজয়নগরে এবং পরে শান্তিনগরে বড় রাস্তার ওপরে। আসলে আগ্রহের অভাবই বড় কথা, যদিও এ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বেশ কয়েকজন অধ্যাপক।

তিন.

এরই মধ্যে প্রায় তিন দশক সময় পার হয়ে গেছে। রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্র নানা সমস্যার মুখে নিষ্ক্রিয়। নতুনরা এসেছেন পুরনোদের শূন্যস্থানে। যেমন—‘খামখেয়ালী সভা’। কয়েক বছরেই এঁরা বেশ আসর জমিয়ে বসেছেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা, নাটক, উপন্যাস ও প্রবন্ধ পাঠের কর্মসূচি নিয়ে, সাড়াও মিলছে ভালো। সময়ের স্রোতে বুড়িগঙ্গা দিয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে।

এর মধ্যেই ব্যাপকভাবে ভারত-বাংলাদেশ মিলে যৌথভাবে উদ্যাপিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের সার্ধজন্মশতবার্ষিকী। এর অনুষ্ঠানমালায় বিচিত্রগামী রবীন্দ্রনাথের প্রকাশ (২০১১)। কিন্তু এত আনুষ্ঠানিকতার পরও দূর-তিমির কিন্তু কাটেনি। রবীন্দ্রনাথ এখনো মহানগরীতে শিক্ষিত মননশীল শ্রেণিতে বন্দি। যাদের উদ্দেশে বলা—‘আমি তোমাদেরই লোক’, সেই তারা এখনো দূরে।

কথাটা স্বীকার করেন বাংলাদেশের ‘খামখেয়ালী সভা’র সংগঠকরা। আমিও আগের ধারণা পাল্টাইনি। তবে মানি, অবস্থার উন্নতি ঘটেছে মহানগরীতে, শিক্ষিত শ্রেণিতে। সেখানে রবীন্দ্রানুরাগীর সংখ্যা যথেষ্ট মাত্রায় বেড়েছে। রবীন্দ্রচর্চা শুধু ২৫শে বৈশাখ বা ২২শে শ্রাবণে বা গানের জলসায় সীমাবদ্ধ নেই। তবুও...।

তবু আমার পূর্বকথিত পরিচয়ের বিষয়টি যে এখনো এক ট্র্যাজিক সত্য, তার প্রমাণ পেয়ে অবাক হই। সূত্র বা উৎস পূর্বোক্ত ভারত বিচিত্রার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ সংখ্যার (মে, ২০১৯) ছোট্ট শেষ লেখাটিতে। পঙ্কজ সাহার অভিজ্ঞতা আর আমার অনুমান—দুয়ে মিলে এক সত্যে পরিণত হলো। ওর ক্যামেরা ও ভিডিও চিত্র গ্রহণ প্রমাণ করে দিল আমজনতা এখনো রবীন্দ্রনাথ থেকে অনেক দূরে এবং তা রবীন্দ্রনাথের বীরভূমের গ্রামে এবং অন্যত্র। কিছুটা ভরসা যদিও শহর কলকাতা।

তাঁর লেখা থেকে দু-একটি ছোটখাটো উদাহরণ তুলে ধরেই লেখার ইতি টানছি। তাতেই বোঝা যাবে এখনকার সুখময়বাবুরাও রবীন্দ্রনাথ ও আমজনতাকে নিয়ে ভুল স্বপ্নের জগতে বাস করছেন। দুঃখ, সুখময়বাবু আজ বেঁচে নেই, থাকলে পঙ্কজবাবুর লেখা তাঁর মোহমুক্তি ঘটাতে পারত।

আর সেটা বোঝাতে পঙ্কজবাবুর ভাষাতেই বলি, ‘এক গ্রামে গিয়ে এক কৃষককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনেছেন?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ওই ঠাকুরের কথা আর কী বলব,...।’ এক ক্ষেতমজুর বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? না, আমাদের গ্রামে ওই ঠাকুরের কোনো মন্দির নাই।’

পরবর্তী সাক্ষাৎকারগুলো আরো মজার, হাসি সামলানো কঠিন। তবে কান্না পেতে পারে কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতার ‘রাস্তায় বাসস্ট্যান্ডে জনে জনে জিজ্ঞেস’ করে জবাব শোনার পর। কারণ ওঁরা কেউ স্বীকার করেননি যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কবিতা পড়েননি, কিন্তু মজাটা হলো, ‘খুব কমজনই বলতে পেরেছেন স্কুলের পাঠ্যে রবীন্দ্রনাথের কোন কোন লেখা ছিল।’

রবীন্দ্রনাথের কবিতা নিয়ে, তাঁর উপন্যাস নিয়ে একই রকম অভিজ্ঞতা ক্যামেরাম্যান লেখকের। ‘সঞ্চয়িতা’, ‘গীতবিতান’-এর বাইরে কমজনই কবির রচনাগ্রন্থের নাম উল্লেখ করতে পেরেছেন। তবে সম্ভবত ইচ্ছা করেই পঙ্কজবাবু তাঁর লেখার ইতি টেনেছেন ‘মধুরেণ সমাপয়েত’-এ।

আমার ধারণা, বাংলাদেশের গ্রাম-গ্রামান্তরে অনুরূপ প্রচেষ্টার পরিণাম আরো ট্র্যাজিকই হবে। হাসির দমক আরো বেশি হতে পারে। তবে কে জানে, পঙ্কজবাবু এখানে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতেন কি না, বিশেষ করে কালিগ্রাম পরগনার কোনো গ্রামে বা পতিসরে।

কারণ পতিসর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে রবীন্দ্রভবনে আমার অভিজ্ঞতা খুবই দুঃখজনক। রবিজীবনীকার প্রশান্তকুমার পালের ভবিষ্যদ্বাণীই সঠিক প্রমাণিত হয়। তিনি তখন রবীন্দ্রভবনের অধ্যক্ষ। পতিসর থেকেই তো শ্রীনিকেতন, বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন, লেনার্ড এলমহার্স্টের দাক্ষিণ্যে, শ্রমে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মূল কর্মভূমি পতিসর সম্পর্কে রবীন্দ্রভবনে রক্ষিত মাইক্রোফিল্মে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান পাওয়া গেল না। তুলনায় পতিসর কিছুটা জেগে আছে, চেষ্টা করছে অন্ধকার থেকে আলোয় আসতে। তবু শেষ কথা হলো, রবীন্দ্রনাথের দুর্ভাগ্য, তাঁর স্বদেশ বঙ্গদেশ নিয়ে—হোক তা পশ্চিম বা পূর্ব। সেখানে তিনি বিশেষ শ্রেণিতেই এখনো আবদ্ধ।

 

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী