• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২০, ১২:০৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০২০, ০৫:২০ পিএম

দৃশ্যে যুবদল নেপথ্যে জামায়াত

আগুন-সন্ত্রাস আসন্ন প্রলয়ের অশনিসঙ্কেত নয় তো?

এস এম সাব্বির খান
আগুন-সন্ত্রাস আসন্ন প্রলয়ের অশনিসঙ্কেত নয় তো?
জাগরণ গ্রাফিক্স ডেস্ক

ঠাৎ করে ঢাকা শহর অশান্ত হয়ে উঠল। বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর। ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের দিন আকস্মিকভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ঘাপটি মেরে থাকা আগুন-সন্ত্রাসের সেই ভয়াল দৃশ্য। শঙ্কিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী আগুন নয়; এ আগুনের অর্থ আরও গভীর। আসন্ন কোনো প্রলয়ের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যেই সম্ভবত এ ঘটনা ঘটিয়েছে অশুভ শক্তি। নির্বাচন পটভূমি মাত্র। আর নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র যেখানে নিত্যবিষাদে পরিণত হয়েছে, সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এমন ঘটনায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

বিষয়টি মূলত সামনে আসে এ ঘটনায় বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়ায়। জানা যায়, যুবদলের নেতাকর্মীদের এ কাণ্ডে বিএনপিরই কয়েকজন নেতা চরম ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে এই ধ্বংসাত্মক মানসিকতাই ডুবিয়েছে বিএনপিকে। তাদের দেয়া তথ্যমতে, তারেকপন্থিদের এই রাজনৈতিক চর্চা যেদিন থেকে শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই ক্রমাগত ধ্বংসের পথে এগিয়ে গেছে বিএনপি। তাদের এমন দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয় দলটির অধিকাংশ নেতাদের ‘নীরব ক্ষুব্ধতায়’।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংকটের সময় তারা ধারণা করেছিল যে, এই সংকট ঘনীভূত হবে, প্রচুর মানুষ মারা যাবে । কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং করোনা নিয়ন্ত্রণের সফল দেশগুলোর মধ্যে একটি রয়েছে বাংলাদেশ। আর এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কিভাবে আন্দোলন করবে তার একটি উপায় খুঁজছিল। আর সে কারণে তারা বাসে অগ্নিসংযোগের পদটি বেছে নিয়েছে।

এদিন একদিকে আগুন আরেকদিকে মুহুর্মুহ ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ ঘটনায় ঢাকা শহরের পৃথক নয়টি স্থানে বাসে আগুন দেয়া হয়। যদিও এ সমস্ত আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি কেউ। কিন্তু এ ঘটনা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ প্রগতি সরণিতে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা কারা করল কিভাবে করল তা নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাথমিক যে তথ্য পাওয়া গেল তা হলো, যুবদলের ক্যাডাররা বাসে আগুনের মতো নারকীয় তাণ্ডব ঘটিয়েছে। এ দাবি সরকার তোষণের উদ্দেশ্যে নয়। যৌক্তিক বিশ্লেষণ এবং অনুসন্ধানে প্রমাণিত। প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে যে, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ছিল যুবদলের নেতা জাহাঙ্গীর। সেই নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি হয়েছে এবং ভোটাররা তাদের মতামত দিতে পারেননি। এ অভিযোগেই তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে বলা হচ্ছে। সাদামাটাভাবে এটি নির্বাচনী ক্ষোভ বা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হলেও গোয়েন্দারা মনে করছেন, এর নেপথ্যের কারণ আছে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, যুবদল বাসে হামলা এবং আগুন লাগানোর মতো ঘটনাগুলো ঘটালেও নেপথ্যে ছিল জামায়াত-শিবিরচক্র। 

এ ঘটনার পেছনের কতগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে । দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইস্যু খুঁজচ্ছে। কিন্তু কোনো ইস্যুকেই তারা কাজে লাগাতে পারছে না। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংকটের সময় তারা ধারণা করেছিল যে, এই সংকট ঘনীভূত হবে, প্রচুর মানুষ মারা যাবে । কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং করোনা নিয়ন্ত্রণের সফল দেশগুলোর মধ্যে একটি রয়েছে বাংলাদেশ। আর এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কিভাবে আন্দোলন করবে তার একটি উপায় খুঁজছিল। আর সে কারণে তারা বাসে অগ্নিসংযোগের পদটি বেছে নিয়েছে। এ অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে তারা ধারণা করছিল যে, অনেকগুলো লক্ষ্য তাদের অর্জিত হবে।

প্রথমত, এ ঘটনার ফলে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবে এবং তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহী হবে। দ্বিতীয়ত, এ ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে যাবে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত সে সমস্ত যুবদল জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনবে। আর এটিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি-জামাত জোট আন্দোলন করবে। তৃতীয়ত, এর মাধ্যমে ঢাকা শহরে একটি অরাজক পরিস্থিতি এবং অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। আর এ কারণেই এ ধরনের ঘটনার জন্য তারা ঢাকাকে বেছে নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির যুবদলটি জামায়াত অধ্যুষিত হয়ে পড়েছে। জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে যুবদল চলছে।

বিএনপি-জামাত সবসময় মনে করে যে, সারাদেশে আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই। বরং ঢাকাতে কিছু করতে পারলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যাবে। আর এ কারণেই তারা আজ বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দিয়ে জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। এ ঘটনাটিকে অনেকে মনে করছে টেস্ট কেস। কিছুদিন ধরেই জামায়াত তাদের কর্মীদের জমায়েত করছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির যুবদলটি জামায়াত অধ্যুষিত হয়ে পড়েছে। জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে যুবদল চলছে। আর তাই যুবদলের মোড়কে বৃহস্পতিবারে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে ঢাকা শহরে, সেই তাণ্ডবটি একটি নীলনকশার অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন যে, এ ঘটনার ফলাফলের ওপর তারা ভবিষ্যতে এ রকম আরও কিছু ঘটনা ঘটাতে পারে।

লেখক : সাংবাদিক