• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২০, ০৯:২৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২১, ২০২০, ০২:১০ পিএম

শেখ হাসিনা : মানবিক সম্পর্ক তাঁর কাছে আজো অমূল্য

ইয়াসিন কবির জয়
শেখ হাসিনা : মানবিক সম্পর্ক তাঁর কাছে আজো অমূল্য
স্বাধীনতা পদক প্রদানের সেই বিশেষ মুহূর্তে কবি সুফিয়া কামালের সান্নিধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ইয়াসিন কবির জয়।

একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছে রাষ্ট্রব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনই মুখ্য। আর সেক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ব্যক্তি হিসেবে নিজের মানবিক গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো সম্ভব হয় না তাঁর পক্ষে। কেউ কেউ হয়তো পরোয়াই করেন না তেমন কিছু। আবার সবার সেই গুন থাকেও না। কারণ, সবাই তো আর চাইলেই বাঙালির অবিসংবাদিত মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হতে পারেন না। সাম্প্রতিক সময়ের কথাই যদি ধরা যায় এই করোনাকালীন পরিস্থিতির মাঝে, তাহলে আমরা দেখবো- একজন রাষ্ট্রপ্রধান সিদ্ধান্ত নিলেন, আজ থেকে দেশ লকডাউন। ব্যস! দেশ লকডাউন হয়ে গেল। সব কিছু বন্ধ হয়ে গেল। এখানে সেই রাষ্ট্রনায়কের কোনো অসুবিধা বা সমস্যার কিছু নেই। তিনি তার মতোই আরাম আয়েশে দিন কাটাবেন। যেভাবে তার দিন কাটছিল সেভাবেই তার দিন চলবে। উপরন্তু নিজের দূরদর্শী সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্য তিনি মানুষের বাহবাও পাবেন।

কিন্তু তাতে ভুগবে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো, যারা দিন আনে, দিন খায়। একদিন কাজে না গেলে যাদের খাবার জোটে না। ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতাদের এসব ভাবতে হয় না। আবার অনেক রাষ্ট্রনায়ক আছেন যারা সমালোচনা এড়াতে চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছেন। এখানেই ব্যতিক্রম বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি চাইলেই সংবিধান অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে লকডাউন কিংবা কারফিউ জারির সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ তাকে ভাবতে হচ্ছে দেশের কোটি মানুষের কথা।

শেখ হাসিনা সবার আগে চিন্তা করছেন দেশের মানুষের কথা। বঙ্গবন্ধু যেমন সারাটা জীবন খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। অভাবী মানুষের অভাব ঘোচাতে চেয়েছেন। শেখ হাসিনারও মূল চিন্তা অভাবী মানুষদের নিয়ে। এজন্য তিনি শত সহস্র সমালোচনা, লক্ষ কোটি অভিযোগ মাথা পেতে নিতেও পিছপা হন না।

ইউরোপে চাইলেই একজন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি বলে দিতে পারেন যে আজ থেকে সব বন্ধ। কিন্তু বাংলাদেশ ইউরোপ না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগে ভাবতে হচ্ছে দেশের গরীব মানুষগুলো কীভাবে চলবে, সব কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তাদের বাড়িতে দুবেলা দু মুঠো খাবার আসবে কোত্থেকে? এসব বিষয় মাথায় রেখেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। এটাই হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতা। আজ করোনা মোকাবেলায় তিনি যে ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলোর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতার ছাপ স্পষ্ট। তিনি তার নির্দেশনায় বলেছেন-

• করোনা ভাইরাসের কারণে কোনো ব্যক্তি যদি স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয় তাহলে সরকারের ‘ঘরে ফেরার কর্মসূচি’র মাধ্যমে তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে গিয়ে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

• ভাসানচরে এক লাখ লোকের আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। এ সময় যদি দরিদ্র কোন ব্যক্তি ভাসানচরে যেতে চান তাহলে তারা যেতে পারবেন।

• করোনাভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় অন্যসংস্থানের অসুবিধা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনাগুলোর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আবার প্রমাণ করলেন তিনি যা-ই করুন না কেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন সবার আগে। ইউরোপ আমেরিকাতেও করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে এভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা ভাবা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে এদেশে করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাছাড়া কোনো দেশ মাত্র ৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর লকডাউন ঘোষণা করেনি। অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে। কাজেই সার্বিক দিক বিচার বিশ্লেষণ করেই শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে তার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া জড়িত নয়। যেটা জড়িত সেটা হলো তার মানবিকতা এবং জনগণের প্রতি তার ভালোবাসা।

শুধু মানবতাবোধ নয়, মানবিক সম্পর্কগুলোও তাঁর অনন্য মুল্যায়ণে পেয়েছে ভিন্ন উচ্চতা। আর এ শুধু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হয়েও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা একজন কৃতী মানুষকে সম্মান প্রদর্শনের নজির তৈরি করেছিলেন আজ থেকে ২২ বছর আগে, আমি ছিলাম তার সাক্ষী। 

অসুস্থ থাকায় ২৪ মার্চ ১৯৯৮, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি কবি সুফিয়া কামাল। অনুষ্ঠান শেষে কবির ধানমন্ডিস্থ বাসভবন 'সাঝের মায়া'য় গিয়ে তাঁর গলায় স্বাধীনতা পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় কবি বঙ্গবন্ধুকন্যার কপালে চুমু দিয়ে দোয়া করেন।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজো তিনি ছুটে চলেছেন একই রকম ভাবে- মানবিক সম্পর্ক তাঁর কাছে আজো অমূল্য। জয়তুঃ শেখ হাসিনা।

লেখক : সাংবাদিক

সম্পাদনা : এস এম সাব্বির খান