• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২০, ১২:২০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৬, ২০২০, ০৫:২৪ পিএম

ইতিহাসের অবিসংবাদিত নিয়ামক

আবেদ খান
ইতিহাসের অবিসংবাদিত নিয়ামক
আবেদ খান

কিছু মানুষ থাকে যাঁরা ইতিহাসে উদ্ধৃত হন, কেউ আছেন যাঁরা ইতিহাসের অংশ হয়ে যান আর এমন সামান্য কয়েকজন আছেন যাঁরা নিজেরাই ইতিহাসের স্রষ্টা হয়ে যান। বঙ্গবন্ধু এই শেষোক্ত পর্যায়েরই মানুষ যাঁকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ইতিহাস, সৃষ্টি হয়েছে এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের একটি বিশাল জাতির জন্মগাঁথা। এই একটি মানুষ যাঁর জীবনের প্রতিটি স্তরে রচিত হয়েছে এক মহান মুক্তিসংগ্রামের অমর পঙ্ক্তি। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে কখনও তার আত্মপরিচয়ের সন্ধান ছিলো না, কখনও আত্মশাসনের ইতিহাস ছিলো না। এই মহান মানুষটি জাতির এই অপ্রাপ্তির যাতনার অবসান ঘটিয়েছেন। এখন বাঙালি জাতির একটা ঠিকানা আছে, একটা জাতীয় সঙ্গীত আছে, একটা পতাকা আছে, একটা স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড আছে। এসবকিছুর পেছনে যার অখণ্ড অবদান আছে, তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিশ্বনন্দিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। আজ থেকে পয়তাল্লিশ বছর আগে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে ভেবেছিলো বাংলাদেশের হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। কিন্তু বাস্তব সত্যি হলো যতই সময় অতিক্রান্ত হচ্ছে ততই তিনি অধিকতর ঔজ্জ্বল্য নিয়ে পরিব্যাপ্ত হচ্ছেন। তাঁর দেশপ্রেম, তাঁর দূরদর্শিতা, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর জাদুকরি সাংগঠনিক ক্ষমতা, তাঁর মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও একইভাবে সকলকে সম্মোহিত করে চলেছে।

বঙ্গবন্ধু যে কতখানি সাহসী এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন তার দু’টি উদাহরণ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। এই দু’টি ঘটনার কথা সম্ভবত: অনেকে জানেন। তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও সেই শৈশব থেকে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের আরও অনেক অনেক উদাহরণ আছে, কিন্তু আমি যে দু’টি ঘটনার কথা বলছি সেদুটি শুধু সাহসী বললেও কম বলা হবে। রীতিমতো চমকে দেয়ার মতো।

প্রথম ঘটনাটির সময়কাল ষাটের দশকের শেষার্ধে। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ হিসেবে ৬ দফা পেশ করেছেন এবং সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন মুক্তিসনদের পতাকা নিয়ে। ক্ষমতায় তখন পাকিস্তানের লৌহমানব বলে আত্মদাবীকৃত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান। তিনি সে সময় আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য সবরকম দমননীতির কৌশল প্রয়োগ করেই চলেছেন। বঙ্গবন্ধুকে বারবার মামলা দিয়ে, বন্দি করে নাস্তানাবুদ করা হচ্ছে, কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে শীর্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক পর্যন্ত সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের। অবশেষে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করা হলো রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। সামরিক আইনে গ্রেফতার করা হলো বঙ্গবন্ধুকে, গ্রেফতার করা হলো সামরিক বাহিনীতে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে, কয়েকজন উচ্চপদস্থ আমলা, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বেশ কয়েকজন নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকেও। শুরু হলো সামরিক আদালতে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। বিচার ক্ষেত্র ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। প্রতিটি অভিযুক্তকে অমানুষিক এবং লোমহর্ষক নির্যাতন করা হয়েছে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য। উদ্দেশ্য শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহী চিত্রিত করে ফাঁসিরকাষ্ঠে ঝুলিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়া যে, পাকিস্তান ভাঙার চেষ্টা যে-ই করবে তাকে ভোগ করতে হবে এই ধরনের বীভৎস নির্যাতন, ঝুলতে হবে ফাঁসির দড়িতে। আইয়ুব খানের সামরিক জান্তার নিশ্চিত ধারণা ছিলো শেখ মুজিবের ৬ দফার অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতা। অতএব যেভাবেই হোক বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রক্ত ঝরিয়ে রক্ষা করতে হবে পাকিস্তানকে। 

সামরিক আদালতে বিচার নিয়ে পত্রিকায় এমন একটি শব্দও লেখা যাবে না বা আকারে ইঙ্গিতে এমনভাবে প্রকাশ করা যাবে না বিচারের প্রহসনকে স্পষ্ট করে। মোটামুটি মানুষকে নানা কৌশলে এমন ধারণা দেয়া হচ্ছে যা থেকে বোঝা যায় যে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলার আসামিদের একমাত্র পরিণতি ফাঁসির কাঠগড়া। বিচারকের আসনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যারা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশপ্রাপ্ত কী রায় দিতে হবে। সাক্ষী আর আসামিদের আনা হলো সামরিক এজলাসে। মুহূর্তেই ঘটে গেল নাটকীয় ঘটনা। যেসব আসামিকে রাজসাক্ষী বানানো হয়েছিলো তাঁরা একে একে আদালতকে জানাতে শুরু করলেন কী অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য। হতচকিত সামরিক আদালতে একের পর এক রাজসাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা শুরু হলো। মামলার এক নম্বর আসামি শেখ মুজিবকে কাঠগড়ায় একটা কাঠের চেয়ার দেয়া হয়েছিল বসার জন্য। অনতিদূরে প্রেস বক্স। সেখানে দৈনিক আজাদ পত্রিকার পক্ষ থেকে রিপোর্টার হিসেবে উপস্থিত আছেন সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ। সামরিক কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশ কোনোভাবেই আসামিদের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে পারবেন না এমনকি আভাসে-ইঙ্গিতে অথবা চোখে চোখেও নয়। তেমনটি ঘটলে কঠোর শাস্তি। কিন্তু হাস্য-পরিহাসরত শেখ মুজিব সামরিক আদালতের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষাই করেন। এমন সময় তাঁর চোখ পড়লো তাঁরই অত্যন্ত প্রিয়ভাজন সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদের দিকে। তিনি উচ্চস্বরে ডাকলেন, ফয়েজ, অ্যাই ফয়েজ-ফয়েজ আহমেদ সামরিক নির্দেশনামা মোতাবেক ঘাড় নিচু করে আসনে বসে রইলেন। সামরিক আদালতের বাঘা বাঘা কর্মকর্তাদের ভ্রু কুঞ্চিত। দু’তিনবার ফয়েজ আহমেদকে ডাকলেন তিনি। হঠাৎ যেন গোটা সামরিক এজলাস এক বজ্রকন্ঠে প্রকম্পিত হলো। সকলে এ গর্জনে স্তম্ভিত হয়ে গেলো। 

‘কী রে ফয়েজ কথা ক’স না কেনো? শোন আমার বাংলাদেশে থাকতে হলে শেখ মুজিবের কথাই শুনতে হবে।’ থতমত খেয়ে বিপর্যস্ত বিহ্বল দৃষ্টিতে বসে রইলেন বিচারকরা। সেদিনের মতো বন্ধ হয়ে গেলো মামলার কার্যক্রম। এই হলেন আমাদের সাহসী নেতা।

আর একটি ঘটনা স্বাধীনতার পরবর্তীকালের। সেই ঘটনার কথা লিখেছেন আর একজন। তিনিও বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য প্রয়াত খ্যাতনামা সাংবাদিক এম আর আখতার মুকুল তাঁর ‘মুজিবের রক্ত লাল’ গ্রন্থে। 

১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলজিয়ার্সের চতুর্থ জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ঐ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ। ইন্দিরা গান্ধী, শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, নরোদম সিহানুক, বাদশাহ ফয়সল, হুয়ারি বুমেদিন, আনোয়ার সাদাত, আলেন্দেসমেত অনেক বিশ্ব নেতা। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের চেষ্টায় সম্ভব হলো একটি অতিশয় দুরূহ সাক্ষাৎকার। সৌদি বাদশাহ ফয়সল এবং বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকারটি ছিলো বেশ স্বল্পকালীন। সৌদি আরব বাংলাদেশকে তো তখন স্বীকৃতি দেয়ইনি- বরং পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন তৎপরতায় সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে যে কথাবার্তা হয়েছিলো দোভাষির মাধ্যমে দু’জনের মধ্যে সেটা হুবহু তুলে ধরছি যেভাবে লেখা আছে মুকুল ভাই-এর গ্রন্থটিতে-

বাদশাহ: এক্সলেন্সি, আমি শুনেছি যে আসলে বাংলাদেশ আমাদের কাছে কিছু সাহায্যের প্রত্যাশী। কিন্তু কথা হচ্ছে আপনারা কোন ধরনের সাহায্য চান? দয়া করে বলুন আপনারা কী চান? অবশ্য এসব সাহায্য দেয়ার জন্য আমাদের কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

মুজিব: এক্সলেন্সি, বেয়াদবি নেবেন না। আমি হচ্ছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার তো মনে হয় না, মিসকিনের মতো বাংলাদেশ আপনার কাছে কোনও সাহায্য চেয়েছে?

বাদশাহ: তাহলে আপনারা কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়ার কাছ থেকে কী চাচ্ছেন? 

মুজিব: বাংলাদেশের পরহেজগার মুসলমানরা পবিত্র কাবা শরীফে নামাজ আদায়ের অধিকার চাচ্ছে। এক্সলেন্সি আপনি বলুন সেখানে তো কোনও শর্ত থাকতে পারে না। আপনি সুমহান এবং প্রতিটি বাঙালি আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপনি হচ্ছেন পবিত্র কাবা শরীফের হেফাজতকারী। এখানে সমস্ত মুসলমানের নামাজ আদায়ের হক রয়েছে। সেখানে আবার শর্ত কেন? এক্সলেন্সি আপনাদের কাছ থেকে ভ্রাতৃসুলভ সমান ব্যবহার প্রত্যাশা করছি।

বাদশাহ: এসব তো আর রাজনৈতিক কথাবার্তা হলো না। এক্সলেন্সি, বলুন আপনারা কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়ার কাছ থেকে কী চাচ্ছেন? 

মুজিব: এক্সলেন্সি, আপনি জানেন এই দুনিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার পর বাংলাদেশ হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, কেন সৌদি আরব আজও পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না?

বাদশাহ: আমি পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা ছাড়া আর কারও কাছে জবাবদিহি করি না। তবুও আপনি একজন মুসলমান, তাই বলছি সৌদি স্বীকৃতি পেতে হলে বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ করতে হবে। 

মুজিব: এই শর্তটা কিন্তু অন্তত: বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হলেও এ দেশে প্রায় এক কোটির মতো অমুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে। সবাই একই সঙ্গে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হয় শরিক হয়েছে না হয় দুর্ভোগ পোহায়েছে। তাছাড়া এক্সলেন্সি, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা তো শুধুমাত্র রাব্বুল মুসলেমিন নন- তিনি হচ্ছেন রাব্বুল আলামীনও। তিনি তো শুধুমাত্র মুসলমানদের আল্লাহ নন, তিনি হচ্ছেন সবকিছুর একমাত্র অধিকর্তা। তিনি হচ্ছেন সবকিছুর একমাত্র স্রষ্টা। এক্সলেন্সি, বেয়াদবি মাফ করবেন। আপনাদের দেশটার নামও তো ইসলামিক রিপাবলিক অব সৌদি অ্যারাবিয়া নয়। এই মহান দেশটার নামও তো আরব জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ও রাজনীতিবিদ মরহুম বাদশাহ ইবনে সউদ-এর সম্মানে ‘কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়া’। কই, আমরা কেউই তো এ নামে আপত্তি করিনি?

বাদশাহ: এছাড়া আমার অন্য একটা শর্ত রয়েছে এবং তা হচ্ছে অবিলম্বে সমস্ত পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ছেড়ে দিতে হবে।

মুজিব: এটা তো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যাপার। দু’টো দেশের মধ্যে এ ধরনের আরও অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়েছে; যেমন ধরুন বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ পাকিস্তানি নাগরিককে দেশে ফিরিয়া নেয়া এবং বাংলাদেশের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা; এমন বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। এসবের মীমাংসা কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই শুধুমাত্র ৯১ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নটি পৃথকভাবে বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয় হবে না। আর এজন্য সৌদি আরবই বা এত উদগ্রীব কেন?

বাদশাহ: এক্সলেন্সি, শুধু এটুকু জেনে রাখুন, সৌদি আরব আর পাকিস্তান একই কথা। পাকিস্তান সবচেয়ে অকৃত্রিম বন্ধু। তাহলে এক্সলেন্সি, আর তো কথা থাকতে পারে না! তবে আমাদের দুটো শর্তের বিষয় চিন্তা করে দেখবেন। একটা হচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ঘোষণা, আর একটা বিনাশর্তে যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি। আশা করি, বাংলাদেশের জন্য সাহায্যের কমতি হবে না।

মুজিব: একটা বিষয় বুঝিয়ে বললে খুশি হতাম।

বাদশাহ: এক্সলেন্সি, বলুন কী বিষয়?

মুজিব: প্রায় দু’বছর পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ায় সেখানকার পরহেজগার মুসলমানরা যে পবিত্র হজ আদায় করতে পারছেন না, সে কথা ভেবে দেখেছেন কি এক্সলেন্সি? এভাবে বাধা সৃষ্টি করা কি জায়েজ হচ্ছে? পবিত্র কাবা শরীফ তো দুনিয়ার সমস্ত দেশের মুসলমানদের নামাজ আদায়ের হক রয়েছে। তাহলে কেন এই বাধার সৃষ্টি? কেন আজ হাজার হাজার বাঙালি পরহেজগার মুসলমানকে ভারতের পাসপোর্টে হজ আদায় করতে হচ্ছে? আকস্মিকভাবে এখানেই আলোচনার পরিসমাপ্তি।

এম আর আখতার মুকুল এর পরে লিখেছেন বঙ্গবন্ধু বিদায়ের পূর্বমুহূর্তেই তাঁর এককালীন রাজনৈতিক পিতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর উচ্চারিত একটা আরবি কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেন, ‘লা-কুম-দ্বীন-কুম ওয়ালি ইয়া দ্বীন।’ (তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার)।

এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উদাহরণ থেকে প্রতীয়মান হয় সে সময় নীতির প্রশ্নে বা দেশের প্রশ্নে যুদ্ধবন্দিদের কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এতটুকু আপোষ করেননি। এই সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পরপরই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সরকারগুলোর ভূমিকা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোর কার্যক্রম থেকে আজ আমরা অনায়াসে বুঝে নিতে পারি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নষ্ট রাজনীতির প্রবর্তন, লালন পরিচর্যার পেছনে কারা কারা অদ্যাবধি সক্রিয়।

এসকে

আরও পড়ুন