• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮
প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২১, ০৭:৫৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৪, ২০২১, ০৮:০৭ পিএম

ইসরায়েলের জন্ম : ইতিহাসের কালো দিন

ইসরায়েলের জন্ম : ইতিহাসের কালো দিন

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত খুবই সহিংস ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে চলা সংঘাত ও অসন্তোষের পর ইসরায়েল তেল আবিবের কাছে কেন্দ্রীয় একটি শহর লড-এ জরুরি অবস্থা জারি করেছে। ইসরায়েল বলছে সেখানে দাঙ্গায় জড়িয়েছে ইসরায়েলি আরবরা। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই দাঙ্গা। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েল সরকার সেদেশের আরব সম্প্রদায়ের ওপর জরুরিকালীন ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। কিন্তু কারা এই ইসরায়েলি আরব?


১৯৪৮ সালের এ দিন (১৪ মে) মধ্যরাতে ব্রিটিশ সরকার প্যালেস্টাইনে তাদের ম্যান্ডেট (শাসন) অবসান ঘোষণা করে। ওই দিন দুপুরে তেল আবিবে ইহুদিরা এক তরফাভাবে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকার গঠন করে ‘ইসরায়েল’ নামের রাষ্ট্র সৃষ্টির ঘোষণা দেয়। ব্রিটেন অবশ্য তাদের দাবি অস্বীকার করে। শুধু তাই নয়, ব্রিটেন এ-ও ঘোষণা দেয় আরবরাও যদি অনুরূপ সরকার গঠন করে, তাহলেও তা তারা অস্বীকার করবে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র রাতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি জানায়। এরপর স্বীকৃতি দেয় গুয়াতেমালা। ইসরায়েলের জাতীয় পরিষদের ঘোষণায় জানানো হয় ১লা অক্টোবর গণপরিষদ শাসনতন্ত্র ঘোষণা করবে।

এদিকে মিশর প্যালেস্টাইন দখলের জন্য সৈন্য প্রেরণ করে। পরবর্তীকালে জর্ডান, সিরিয়া ও ইরাকের সেনাবাহিনীও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। মুসলমান সৈন্যরা প্রথমে বেশ সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিল। পরে ইসরায়েলের আধুনিক অস্ত্র ও রণনীতির কাছে পর্যদস্তু হয়ে যায়। ৯ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতি হয়। পূর্বে ব্রিটিশদের ভূমি বণ্টনের প্রস্তাব দু’পক্ষই প্রত্যাখ্যান করলেও এবার তা মেনে নেয়। যে যতটুকু ভূমি দখল করেছে তাতেই স্থির থাকার সিদ্ধান্ত হয়। এতে দ্বিগুণ আরব পায় ইহুদিদের সমান ভূমি।

প্যালেস্টাইনের পূর্বাংশ ইহুদিদের এবং পশ্চিমাঞ্চলের দখল আরবদের পক্ষে জর্ডানের রাজা প্রথম আব্দুল্লাহ নেন। ইসরায়েল তেলআবিব শহর এবং জর্ডান আমানকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। জেরুজালেমের কথা দুই পক্ষই ভুলে যায়। জেরুজালেম নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয় আরো পরে।

১৯৫৬ সালে মিশর সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে ইংল্যান্ড ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের জাহাজ প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। ২৯ অক্টোবর ১৯৫৬ ইসরায়েল-মিশর যুদ্ধ শুরু হয়। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ যুদ্ধে মিশরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইসরায়েল দখল করে ফেলে। সোভিয়েত ইউনিয়নের চাপে শেষেমেশ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

১৯৬৭ সালে মিশর তাইরান প্রণালী দিয়ে ইসরায়েলের জাহাজ যেতে বাধা দেওয়ায় আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। ইসরায়েলের সৈন্য মিশর সীমান্তে ঢুকে পড়ে। মিশরের সিনাই উপদ্বীপ দখল করে ফেলে। ফলে সুয়েজ খালের আংশিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মিশর। সে যুদ্ধে মিশরের ১৫ হাজার এবং জর্ডানের ৬ হাজার সৈন্য নিহত হয়। যুদ্ধ শেষে মিশর বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

১৯৭৩ সালে শেষ যুদ্ধেও মুসলমানরা পরাজিত হয়। ১৯৭৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল অধিকৃত সিনাই উপদ্বীপ মিশরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ১৯৭৭ সালে দক্ষিণপন্থী লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের ক্ষমতায় গেলে ইসরায়েল আরো কট্টর হয়ে ওঠে। তারা জেরুজালেমের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ১৯৮০ সালে ইসরায়েল অখণ্ড জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়। কিন্তু পূর্ব জেরুজালেম তাদের দখলেই ছিল না।

১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয়। পিএলও-ও প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০-এ আল আকসা মসজিদে ইসায়েলি  নেতা অ্যারিয়েল শ্যারনের ঢোকাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই ইনতিফাদ ঘোষণা করে। এসময় গাজায় নিজের অধিকার শক্ত করে হামাস রকেট হামলা শুরু করে।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও)। ১৯৬৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির চেয়ারম্যান ছিলেন ইয়াসির আরাফাত। ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর আলজিয়ার্সে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও) ও প্যালেস্টাইন জাতীয় পরিষদ (পিএনসি) ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এই পিএলও’র সঙ্গে অসলো চুক্তি হয়। ২০১২-এর ২৯ নভেম্বর প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়।

সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করতে ১৯৮৭ সালে গঠিত হয় হামাস। কট্টরপন্থী এ সংগঠনটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে হামাস পিএলও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে প্যালেস্টাইন অটোমান সিরিয়ার অংশ ছিল। ৪০০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯১৭ সালে লর্ড এলেনবি এ অঞ্চল দখল করেন। ১ জুলাই ১৯২০ পর্যন্ত ব্রিটিশ আর্মি এ অঞ্চল শাসন করত। ২৫ এপ্রিল ১৯২০-এ সান রেমো সম্মেলনে বিট্রেনের প্যালেস্টাইনের দাবি স্বীকৃতি পায়। ১৯২২ সালের ২৪ জুলাই লীগ অব ন্যাশনস ব্রিটেনকে প্যালেস্টাইন শাসনের ম্যান্ডেট দেয়। ক্রমবর্ধমান ইহুদি-মুসলিম দাঙ্গার কারণে ১৯৩৯ সালে ব্রিটেন ১০ বছরের মধ্যে স্বাধীনতা দানের প্রতিশ্রুতি দেয়।

ব্রিটিশ শাসন শুরুর সময় প্যালেস্টাইনের জনসংখ্যা ছিল ৭ লাখ। এদের বেশির ভাগই ছিল দরিদ্র ও অনুন্নত। ব্রিটেনের দাবি অনুসারে, তাদের শাসন একটা দরিদ্র এলাকাকে সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করেছিল। ১৯০৯ সালে প্যালেস্টাইনের মূল শহর তেলআবিবে মাত্র ৬০টি বাড়ি ছিল। সে তেলআবিব হয়ে ওঠে একটি আধুনিক শহর। উন্নত সেচ ব্যবস্থার কারণে কৃষি ও পশুপালনে প্রভূত উন্নতি হয় এ অঞ্চলের। ব্রিটিশ আমলে কমলা লেবুর চাষে ব্যাপক উন্নতি হয় এবং সড়ক ও রেলপথ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় ম্যালেরিয়া দূর হয়। বন্দর চালু হয়। শিশুমৃত্যুর হার কমায় মাত্র দুই যুগে জনসংখ্যা আড়াই গুণের বৃদ্ধি পেয়েছিল।

১৯৪৮ সালের মে মাসে প্যালেস্টাইনের জনসংখ্যা হয় ১৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ৬ লাখ ৩০ হাজার ইহুদি এবং ১১ লাখ ৮১ হাজার মুসলমান ছিল। অথচ ১৯২২ সালে ইহুদি ছিল মাত্র ৮৪ হাজার এবং মুসলমান ছিল ৫ লাখ ৮৯ হাজার।

১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেলফোর ইহুদিদের জাতীয় আবাসভূমি দানের প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯২২ সালে মুসলমানরা লীগ অব ন্যাশনসের ম্যান্ডটের বিরোধিতায় সংগ্রামে নামে। ১৯২৯ সালে প্রথম ইহুদি-মুসলমান দাঙ্গায় ১৩৩ জন ইহুদি ও ১১৬ জন মুসলমান নিহত হয়। ১৯৩৩ সালে এ দাঙ্গা প্রকট আকার ধারণ করে। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এ দাঙ্গা চলতে থাকে। এতে অন্তত ৪ হাজার মানুষ নিহত হয়। মারা যায় ৩৫ জন ইংরেজ।

১৯৩৭ সালে রয়েল কমিশন নামে একটি কমিশন গঠন করে ব্রিটেন। সেই কমিশন প্যালেস্টাইনকে দু’ভাগ করার সুপারিশ করে। সেটা কোনো পক্ষই মেনে নেয়নি। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে এখানে ইহুদিদের অভিবাসন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ হোয়াইট পেপার মুসলমান ও ইহুদিদের ১০ বছরের মধ্যে স্বাধীনতা দানের প্রতিশ্রুতি দেয়। সেখানে বলা হয়, পাঁচ বছরের ৭৫ হাজার ইহুদি আমদানির পর আর ইহুদিদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু ইহুদিরা সেই বাধা উপেক্ষা করে বলপূর্বকভাবে প্যালেস্টাইনে প্রবেশ করতে থাকে। ব্রিটেন প্রথমে বাধা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

১৯৪৫ সালে মহাযুদ্ধের পর লীগ অব ন্যাশনস প্যালেস্টাইনে ১ লাখ বাস্তুহারা ইহুদিকে ঠাঁই দিতে বলে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেন স্বাধীনতার প্রস্তুতি হিসেবে এ অঞ্চলকে ৫ বছরের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইহুদি ও আরব কেউ-ই এ প্রস্তাব মেনে নেয়নি। ব্রিটেন এ প্রস্তাব জাতিসংঘে তুললে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইন দুই ভাগে বিভক্ত করার সুপারিশ করে। তবে তখন ইহুদিরা এটি সমর্থন করে। জাতিসংঘ দেশভাগের পরিকল্পনা সাধারণ পরিষদে সংশোধিত আকারে উপস্থাপন করতে বলে।

ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর পৌত্র ইয়াকুব (ইসহাকের পুত্র)কে ইসরায়েল বলে সম্বোধন করা হতো। তার বারো সন্তানের বংশধররা পরবর্তী সময়ে বনি ইসরায়েল নামে পরিচিত হতো, যা বর্তমানে তাদের ইহুদি বলা হয়।

এই বারো ভাইয়ের একজন ইউসুফ, ভাইদের চক্রান্তে মিশরে নির্বাসিত হন। একসময় তিনি মিশরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠল তার স্বজাতিরা গিয়ে তার কাছে আশ্রয় নিতে থাকে। পরে বনি ইসরায়েলরা মিশরের রাজক্ষমতায় যায়। এরপর ফারাওরা ক্ষমতায় এলে বনি ইসরায়েলরা নির্যাতিত হতে থাকে। নবী মুসা (আ.) তখন মুক্তিদাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তার নেতৃত্বে বনি ইসরায়েলরা এসে আবাস গাড়ে সেসময় ‘কেনান’ দেশ বলে পরিচিত আজকের প্যালেস্টাইনে।

বনি ইসরায়েলের প্রথম রাজা হন তালুত বা সল। তাকে পরিজিত করে দাউদ বা ডেভিড ক্ষমতায় যান। তার পুত্র সুলেমান রাজ্যের সীমানা আরো বিস্তৃত করেন। সুলেমান পুত্র রেহোবামের শাসন আমলে বনি ইসরায়েলদের রাষ্ট্র দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। উত্তরে ইসরায়েল দক্ষিণে জুডাহ। এখনও ইহুদিদের মধ্যে এই দুটি ধারা বিদ্যামান।

তার আমলেই ব্যবিলনীয়দের আক্রমণে বনি ইসরায়েলরা ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর কখনো পারসিক, কখনো গ্রিক, কখনো রোমানদের দখলে ছিল এই ভূখণ্ড। রোমানদের সময় ইহুদিদের আবার বিতাড়িত হতে হয়। ৬৬ সালে বিদ্রোহ করার দায়ে ইহুদিদের ওপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। ১০ লাখ ইহুদিকে মেরে ফেলে রোমানরা। ১৩১ সালে সম্রাট হাদ্রিয়ান ইহুদি ধর্মকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

ইহুদিরা বিতাড়িত হয়ে সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তাদের মনে ছিল প্যালেস্টাইনকে নিজেদের ভূমি করার স্বপ্ন। নির্বাসিত হয়ে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান বিত্তে সমৃদ্ধ হতে লাগল। ১৮৯৬ সালে সাংবাদিক থিওডর হার্জল ‘দ্য জিউস স্টেট’ বইতে একটি আলাদা ইহুদি রাষ্ট্র সৃষ্টির কথা লিখেন। হার্জলের উদ্যোগে ‘ওয়ার্ল্ড জিয়োনিস্ট অর্গানাইজেশন’ গঠন করেন। তবে ১৯১৭ সালে বেলফোরের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইহুদিদের অভিবাসন প্রক্রিয়া জোরদার হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের ‘ইহুদি নিধন’যজ্ঞ শুরু হলে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদি প্যালেস্টাইনে ভিড়তে থাকে। 

৬৩৪-৩৬ সালে ইসরায়েলের প্রধান শহর জেরুজালেম রোমানদের কাছ থেকে মুসলমানরা দখল করে নেয়। ৬৯১ সালে গোল্ডেন মস্ক এবং ৭০৫ সালে মসজিদুল আকসা নির্মাণ করে মুসলিম শাসক আব্দুল মালিক। ১০৯৯ সালে খ্রিস্টানরা জেরুজালেম দখল করে নেয়। ১১৮৭ সালে মুসলমানরা আবার তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।

মুসলিম বিশ্বাস অনুসারে মুহাম্মদ (স.) ৬১১ সালে মক্কা থেকে জেরুজালেমে মিরাজে গিয়েছিলেন। সেখানে থেকে স্বর্গীয় ঘোড়া বোরাকে চেপে স্রষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেরাতেই নামাজ বাধ্যতামূলক হয়েছিল। তাই সেদিনকে শবে মেরাজ বলা হয়।

এই জেরুজালেম খ্রিস্টানদের কাছেই পবিত্র স্থান। ঈশ্বরপুত্র যিশুকে এখানকার গলগথায় ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। আবার এখানে একদিন তার পুনরুত্থান হবে তাই তাদের বিশ্বাস। ইহুদিদের মতে এখানেই রয়েছে সেই প্রাচীনতম পাথর। যাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর উৎপত্তি। আবার সেই পাথরের উপরেই ইব্রাহিম (আ.) তাঁর পুত্র ইশাহ (আ.)কে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে কোরবানি দিতে চেয়েছিলেন। এর জন্য পৃথিবীর তিনটি প্রধান ধর্মের কাছেই জেরুজালেম এতো পবিত্র। আর সেই পবিত্র ভূমি দখলে রাখতেই এত দাঙ্গা-হাঙ্গামা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি।

লেখক : কথাসাহিত্যিক।