• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২১, ০২:২৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৬, ২০২১, ০২:২৮ পিএম

পরিবেশকর্মীদের কাজের সীমানা থাকবে কেন?

পরিবেশকর্মীদের কাজের সীমানা থাকবে কেন?

অলকনন্দা প্যাটেলের লেখা ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ বইয়ের শুরুতে পুরনোকালের ঢাকা শহরের কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন “ধানমণ্ডি প্রায় বাঘ-ভালুকের দুনিয়া—সেখানে কেউ থাকে বা যায়, সেটা বিশ্বাস হতো না। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ছিল নীলক্ষেত; যেন আকাশছোঁয়া অনেক খোলা মাঠ। দিগন্তরেখা যেখানে নেমে এসেছে।” আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের লেখায় ঢাকার জনসংখ্যার একটি চিত্র পাওয়া যায়। তিনি তাঁর ‘প্রাণ থেকে প্রাণে’ (প্রথম খণ্ড) বইয়ে লিখেছেন “আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল আড়াই লক্ষ। পাড়াগুলো ছিল ছিমছাম, শান্ত। সবাই সবাইকে চিনত।”  

দেশভাগের আগের ঢাকা আর বর্তমান ঢাকার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। ঢাকা শহরে বন বলে অবশিষ্ট কিছু নেই। যা আছে তা ছোট বড় কয়েকটি পার্ক বা উদ্যান মাত্র। যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেগুলোও ভালভাবে নেই। কোনো কোনোটি দখল হয়ে গেছে। কোনোটিতে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে পার্কের কিছু অংশ ব্যবহার হচ্ছে হাঁটাচলার জন্য আর কিছু অংশে তরুণদের গাঁজা টানার আড্ডা চলে বলে যাওয়া যায় না। শহরে অলি-গলিতে যেটুকু মাঠ আছে সেখানে প্রায় সপ্তাহে মেলা বসে। ফলে মাঠকে ঘিরে বয়স্কদের হাঁটাচলা, বালকদের খেলাধুলায় নিয়মিত ব্যাঘাত ঘটতে দেখা যায়।

ঢাকা শহরের আড়াই লক্ষ জনসংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ২ কোটিরও অধিক হয়েছে। শুধু জনসংখ্যা বাড়েনি, আয়তনও বেড়েছে; কিন্তু শহরকে ঘিরে মানুষের হাঁটাচলা, বিনোদনের জন্য পার্ক, মাঠ কিছুই বাড়েনি। বর্তমানে দিনকে দিন গাছপালাও কমছে। ২০ বছর আগে যে পরিমাণ গাছপালা দেখেছি, সে গাছপালা আর নেই। গাছপালা যত্ন নেওয়ারও যেন কেউ নেই। পেরেক দিয়ে বিজ্ঞাপন টাঙানো ছাড়া কোন গাছ নেই। একেকটি গাছে খুঁজলে শতশত পেরেক পাওয়া যাবে। শত অত্যাচারের পরও গাছগুলো অল্পবৃষ্টি পেলে হেসে ওঠে, পাতাগুলো সবুজ সতেজ হয়, গাছেরা ফুলফল দেয়ার চেষ্টা করে।

প্রতি বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস, ধরিত্রী দিবস, বিশ্ব পানি দিবস এলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুই একটি পোস্টার প্রকাশিত হয়, দিনটিকে ঘিরে আলাপ-আলোচনা হয়। র‌্যালি হয়। তারপর বছরের অন্যান্য দিনগুলোতে আর কিছু দেখা যায় না।

দিবস ছাড়া দেখা যায় যদি কোনো পার্কের গাছ কাটা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামো নিমার্ণের জন্য গাছ কাটা পড়ে, তাহলে সেই স্থানকে ঘিরে কিছু প্রতিবাদ, আলোচনা হয়। সরকারি কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেখা গেলেও আমরা প্রতিবাদ করি।

ঢাকা শহরে প্রতিটি পরিবার দিনে যে পরিমাণ পলিব্যাগ ব্যবহার করে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। প্রতিটি আইটেমের জন্য একটি পলিব্যাগ। পলিব্যাগটি আর দ্বিতীয়বার ব্যবহার হয় না। পলিব্যাগের মুখ এমনভাবে বেঁধে দেয়া হয় যা আর খোলা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পলিব্যাগটি ছিড়ে বাজারগুলো বের করে আনতে হয়।

ঢাকা শহরে শাক-সবজি বিক্রেতা ভ্যানওয়ালারা প্রতিদিন আধা কেজি থেকে এক কেজি পরিমাণ পলিব্যাগ ব্যবহার করে। আর নির্দিষ্ট জায়গায় বসে শাকসবজি বিক্রেতারা প্রতিদিন ১ কেজি থেকে ২ কেজি পলিব্যাগ ব্যবহার করে থাকে। প্রত্যেক মুদির দোকানদারও আধা কেজি থেকে  ২ কেজি পর্যন্ত পলিব্যাগ ব্যবহার করে। আমরা ৫ টাকার কাঁচা মরিচের জন্য যেমন পলিব্যাগ ব্যবহার করি, একটি ফুলকপির জন্যও আলাদা আরো একটি পলিব্যাগ ব্যবহার করি। ফলে সারা দেশকে আমরা পলিব্যাগ দিয়ে ঢেকে ফেলছি।

আমরা গাছ কাটলে প্রতিবাদ করছি ঠিকই, অন্যদিকে প্রতিদিন প্রতিটি ঘরে মাত্রাতিরিক্ত হারে পলিব্যাগ ব্যবহার হলেও আমলে নিচ্ছি না। এছাড়া প্রত্যেক বাসাবাড়ি থেকে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয়, সেই বর্জ্যগুলো কিভাবে কোথায় ফেলছি তা হিসাবে আনছি না। আমরা শিক্ষিত, চাকরিজীবী, বড় বড় অফিসার, ব্যবসায়ীরা সুন্দর সুন্দর দালানকোঠাতে বসবাস করছি, কিন্তু জানালা খুলে নিচে টিস্যু, সিগারেটের প্যাকেট ফেলায় কোন সমস্যা মনে করি না। রান্না ঘরের ময়লা জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দিচ্ছি, তাতে কেউ কিছু মনে করেন না।

স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ফুটপাতে কোমল পানীয়ের বোতল ও ক্যান ফুটপাতে ফেলে চলে যাচ্ছে, কেউ কিছু মনে করি না। আমাদের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের ছাত্রছাত্রীদেরকে পরিবেশ-বান্ধব নাগরিক হিসেবে গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা নেয়ার দায়িত্ব উপলব্ধি করেন না। যদিও স্কুল কলেজে পরিবেশ পড়ানো হয়। ছাত্রছাত্রীদেরকে সে বিষয়ে পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। ছাত্ররা ‘এ প্লাস’ পেয়ে কৃতি ছাত্রের উপাধি পায়। স্কুল কলেজ সুনাম অর্জন করে, কিন্তু ছাত্ররা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলাকে পরিবেশ দূষণ মনে করে না।

শহরের অলিগলিতে সুপারশপের অভাব নেই। প্রত্যেকটি সুপারশপ বিনামূল্যে শপিং ব্যাগ সরবরাহ করছে। প্রতিদিন হাজারে হাজারে পুনর্বার ব্যবহার উপযোগী শপিং ব্যাগ বিলি হয় কিন্তু কাউকে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করতে দেখা যায় না। সুপারশপগুলো এ ব্যাপারে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করে না।

শহরে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হর্ন, সময়ে অসময়ে বালকদের আতশবাজি ফুটানোকে আমরা কোন কিছু মনে করছি না। লকডাউনে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে মোটর সাইকেলগুলো বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে চলে যায়। এ দৌরাত্ম্যকে আমরা মেনে নিয়েছি। শব্দ দূষণে প্রতিনিয়ত আমরা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছি, যা আমলে নিতে পরিনি এখনো।

পরিবেশ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে প্রশ্ন করার সময় এসেছে। পরিবেশ মানে শুধু গাছপালা নয় আরো বড় কিছু। পরিবেশ মানে আমাদের সকলের সারাদিনের সকল ধরনের কর্ম তা উপলব্ধি করানো দরকার।

একজন শহরের নাগরিক গাছপালা না কেটেও তার দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবেশবিরোধী কর্ম সম্পাদন করতে পারে, তাকে তা উপলব্ধি করা উচিত। অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে দেখেছি, সেখানে বাজার করতে প্রায় সকলে শপিং ব্যাগ সঙ্গে রাখে। না থাকলে ২০-৩০ সেন্ট দিয়ে কিনতে হয় এবং শপিং ব্যাগগুলোর গায়ে বারংবার ব্যবহার করার জন্য লেখা থাকে। ঢাকা শহরে আমরা একেকজন ‘মোঘল বাদশা’ সেজে শপিং মলে, সুপারশপে, কাঁচা বাজারে হাজির হই। এত সৌখিন হলে পরিবেশ বাঁচবে কী করে?

পাঠক খেয়াল করেছেন কিনা জানি না, এখন নদীর ছোটছোট মাছ, মলাঢেলা কিংবা কাঁচকি মাছ খেতেও অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বাজারে এইসব মলাঢেলার সাথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পলিথিনের টুকরো পাওয়া যায়। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে নদীর মাছ খাওয়াও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

আগে এক সময় যাত্রীবাহী বাসে অধূমপায়ীদের ভ্রমণ করা ছিল কঠিন ব্যাপার। আইন হওয়ায় যাত্রীবাহী বাসে ভ্রমণ করা অনেকটা সহজ হয়েছে। কেউ ধূমপান করলে বলার সাথে সাথে ফেলে দেয়। পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ না হওয়াই তা দিনদিন ভয়ানক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সরকারিভাবে পরিবেশবান্ধব শপিংব্যাগ ‘সোনালি’ আবিষ্কার হলেও উৎপাদন থেমে আছে।

পুরানো দিনের ঢাকা ফিরিয়ে আনতে না পারি, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হলেই শহরকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে পারি। ঢাকা শহরে সারাদিন ঘোরাঘুরি করলেও খুব একটা বিদেশী পর্যটক দেখা যায় না। বিশ্বকাপ ফুটবল সেই কবে শেষ হয়েছে, একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে কিছু কিছু পতাকা এখনও ঝুলছে ময়লা কাপড়ের টুকরো হয়ে। মাথার ওপরে তারের জটলা দেখলে আমাদের শহর সমাজে রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

ঢাকা শহর উদ্যানে গাছপালা কাটা পড়লে শহরের পরিবেশকর্মীসহ তারকাদেরও সামিল হতে দেখা যায়। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের পর পাহাড় নেড়া হয়ে যাচ্ছে, ঝর্ণা, ছড়ার পানি শুকিয়ে ছড়ায় থাকা পাথরগুলোও মিলিয়ে যাচ্ছে, শহরের পরিবেশকর্মীদের এই নিয়ে চিন্তিত হতে দেখা যায় না। একইভাবে ঢাকা শহরে কোন উদ্যানে গাছকাটা পড়লে পাহাড়ের কোন পরিবেশকর্মীকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। অপরপক্ষে পৃথিবীর ফুসফুস বলে খ্যাত অ্যামাজন রিজার্ভ ফরেস্ট কাটা পড়লে, আগুনে পুড়ে যেতে থাকলে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।

আমাদের ভাবনায় আমাজন ফরেস্ট বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যক, আর নিজের দেশের পাহাড়, বন, ঝর্ণা, পরিবেশ গুরুত্ব পায় না। ফলে পাহাড় আর পাহাড় নেই। দিনদিন সমতল হয়ে শহরে পরিণত হচ্ছে। বান্দরবানে একটি ইউনিয়নে ৩০টি ইটভাটা আছে ( দেখুন: ‘ফাইতংয়ের পাহাড়টি কেটে প্রায় শেষ’, বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, প্রথম আলো ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০; ‘৩০টি ইটভাটায় পুড়ছে ফাইতং’, প্রণব বল, প্রথম আলো ২২ ডিসেম্বর ২০১৯)। সেই এলাকার বাসিন্দাদের চাষবাস, ফসলের অবস্থা আর বসবাস কেমন পরিস্থিতির মধ্যে হতে পারে, তা আমরা ভাবতে পারি না। আমাদের পার্বত্য অঞ্চলও একদিন সমতল হয়ে শহরে রূপ লাভ করবে আর বনবিভাগের অধীনে থাকা কিছু গাছপালা কাটা পড়লে প্রতিবাদ হতে দেখা যাবে।

শহরে শত শত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও সেখানে ছাত্রদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ে ধারণা দিতে আমরা পুরোপুরি ব্যর্থ। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেলেও ডাস্টবিন ব্যবহারের নজির চোখে পড়ে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছকাটার জন্য আন্দোলন হয় কিন্তু সারা ক্যাম্পাসে যেখানে সেখানে ময়লা স্তুপ চোখে পড়ে। লেকের পাড়ে প্লাস্টিক বোতলের ছড়াছড়ি দেখা যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবেশ আন্দোলন হলেও ছাত্রদের মাঝে দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবেশ সচেতনতা দেখা যায় না।

এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সচেতনতা ইত্যাদি বিষয়ে নানা প্রকল্প আছে। অধিকাংশ প্রকল্পই পাড়া বা গ্রামকেন্দ্রিক। আমরা এনজিওকর্মীরা গ্রামবাসীদেরকে পরিবেশ সচেতন করার জন্য কাজ করছি। তবে এনজিওদের এখন গ্রামবাসীর বদলে শহরবাসীদের সচেতন করার কাজ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, গ্রামবাসীরা আমাদের মতো পলিব্যাগ ব্যবহার করে না। আমাদের মতো যেখানে সেখানে ময়লা নিক্ষেপ করে না। আমাদের মতো যখন তখন আতশবাজি ফুটায় না, উচ্চস্বরে হর্ন বাজিয়ে গাড়ি, মোটর সাইকেল চালিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে না।

বন গাছপালা পাথর ঝর্ণা, ছড়া, লেক শহরবাসীদের বিনোদন ছাড়া জীবনজীবিকায় খুব একটা প্রভাব ফেলে না। কিন্তু গ্রামবাসীদের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। গ্রামবাসীরা নদীর পানিতে মাছ ধরে। বন থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে যা শহরবাসীদের চিন্তা করতে হয় না। তাই গ্রামবাসীরা নিজেদের প্রয়োজনে বন, নদী, পাহাড়, পাথর বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করে। তাদের কাছে গিয়ে শহরবাসী, এনজিও কর্মীদের শিক্ষকের ভূমিকা নেয়ার কিছু নেই। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি সচেতনতা সৃষ্টি করতে হয় তা শহরবাসীদেও মধ্যে করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পরিবেশ বিষয়ে উঠান বৈঠক করা উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ডাস্টবিন ব্যবহার করে না, কিন্তু গ্রামবাসীরা পচনশীল বর্জ্য মাটিতে পুতে দেয়। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে শেখার বদলে আমরা তাদেরকে শেখাতে যাই! যেখানে শেখানো উচিত সেখানে যাই না। শিক্ষিত শহরবাসীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা দরকার সবার আগে। জলবায়ু পরিবর্তনে গরীব দেশের ভূমিকা যেমন অল্প, একইভাবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ খারাপ হওয়ার পিছনে গ্রামের ভূমিকা অল্প, শহর ও শিক্ষিত সমাজের ভূমিকাই মূখ্য।

মোহাম্মদপুর এলাকায় শিয়া মসজিদ হয়ে বেড়িবাধের দিকে যেতে যে খালটি পড়ে, তা ছোট হতে হতে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। খালের দু’ধারে প্রচুর অট্টালিকা গড়ে উঠেছে, কিন্তু ড্রেনের দুর্গন্ধে সেখানে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। খালের পানি এমন মারাত্মক দূষিত হলে গ্রামবাসীরা মিলেমিশে নিজেরা দূষণরোধে কাজ করতো। শহর সমাজে শিক্ষিত পয়সাওয়ালাদের সেই সচেতনাবোধ তৈরি হয়নি।

পরিবেশ বিষয়ে সকল সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে শহরমুখী করা দরকার। পাশাপাশি পরিবেশ বিষয়ে আঞ্চলিকতা, এলাকা বিভাজন থাকা উচিত নয়। সকল বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ন্যায় সাদা, লাল, সবুজ হলুদ দল থাকা উচিত নয়। পাহাড় নিয়ে শুধু পাহাড়বাসীরা, শহরের পরিবেশ নিয়ে শুধু শহরবাসী পরিবেশকর্মীরা আন্দোলন করবেন, তা হতে পারে না। পরিবেশ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি কাজের পরিসরও ব্যাপক হওয়া দরকার। পরিবেশ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে এলাকা ভাগাভাগি, দলাদলি, পাহাড় ও সমতল বিভাজন থাকা উচিত নয়। পরিবেশকর্মীর পরিবেশ ভাবনা হবে আকাশের মতো বিশাল, সীমাহীন। পরিবেশ হোক সবার, আন্দোলন হোক সকলের।

 

 লেখক: উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক