• ঢাকা
  • বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১, ০১:১১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১, ০৭:১১ পিএম

দ্বিতীয় পর্ব

নারীর সম-অধিকারে ধার্মিকদের এত আপত্তি কেন?

নারীর সম-অধিকারে ধার্মিকদের এত আপত্তি কেন?
ছবি- জাগরণ গ্রাফিক্স ডেস্ক।

১১. সমাজে প্রচলন ছিল বাল্যবিবাহের। বাচ্চা মেয়েদের ৬/৭ বছরে বিয়ে দেয়া হতো। এতে তারা বলাৎকারের শিকার হতো, অনেকে মারা যেত। ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার  ১০ বছরের কম বয়সী স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেন। এ প্রসঙ্গে ১৮৯০ সালের একটি ঘটনা তুলে ধরছি। স্বামী হরি মাইতি, বয়স ৩৫ বছর। স্ত্রী ফুলমনি, বয়স ১০ বছর। ফুলমনি যেদিন দশম জন্মবার্ষিকী পালন করে, সেদিন হরি মাইতি তার সঙ্গে মিলিত হয়। এতে ফুলমনির প্রচুর ব্লিডিং হয় এবং সে মারা যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়। মামলায় হরি মাইতি বেকসুর খালাসও পান। কারণ ওই দিন ফুলমনির ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। আইনে উল্লেখ ছিল ১০ বছরের কম বয়সী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তখন ব্রিটিশরা মেয়েদের বিয়ের বয়স ১২ বছর করতে চাইলে মহান ধার্মিক ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কেননা শাস্ত্রে আছে- কন্যা বিয়ের পূর্বে ঋতুবতী হলে পিতা, মাতা ও বড় ভাই নরকবাসী হবেন। দেশবাসী বলে উঠলো- ব্রিটিশরা এদেশে এসেছে আমাদের ধর্ম নাশ করতে। তখন বিদ্যাসাগর সরকারকে প্রথম রজঃস্রাবের পরই স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে এ মর্মে একটি আইন প্রণয়ন করার পরামর্শ দেন। ধার্মিকরা বিদ্যাসাগরকেও ব্রিটিশের দালাল বলে অভিহিত করেন। ফলে সরকার এ ব্যাপারে আর এগোতে পারেনি।

১২. হিন্দু মন্দিরে চরক পূজা হতো। অসহায় শুদ্রদের ধরে মেরুদণ্ডে বড়শি বিঁধিয়ে তাকে ঝুলানো হতো। ১৮৬৩ সালে ব্রিটিশরা আইন করে চরক পূজার ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে নির্দেশ জারি করে যে, কোনও জীবন্ত মানুষকে বড়শি বিদ্ধ করে ঝুলানো যাবে না।

ড. আম্বেদকর (১৮৯১-১৯৫৬) ছিলেন ভারতের সংবিধান রচয়িতা। তিনি ছিলেন মুচির ছেলে। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় তাঁর গলায় ঘণ্টা ঝুলানো থাকত। ঘণ্টার শব্দে ব্রাহ্মণ সন্তানেরা সতর্ক থাকতো যাতে ছোঁয়া না লাগে। তাঁকে হাঁটতে হতো বাতাসের ভাটির দিকে যাতে তাঁর স্পর্শ করা বাতাস অন্যের গায়ে না লাগে। প্রাইমারি স্কুলে ক্লাসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাঁকে ক্লাস করতে হতো। প্রাইমারি পাসের পরে তাঁকে ক্লাসের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তবে তাঁকে ক্লাসের পেছনের এক কর্নারে পাটি বিছিয়ে বসতে দেয়া হয়, বেঞ্চে নয়। কারণ, সে শুদ্র।

১৩. ব্রাহ্মণদের মধ্যে বহু বিবাহের প্রচলন ছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত ‘বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কি না’- এতদ্বিষয়ক প্রথম পুস্তক পাঠ করলে দেখা যায়, ব্রাহ্মণরা নির্লজ্জভাবে বহুবিবাহে লিপ্ত ছিল। এরা একাধারে ৫, ১০, ২০, ৫০, ৭০, ৮০, ১০০ বা ততধিক পর্যন্ত বিয়ে করত। সমাজে বর্ণ-প্রথা বিদ্যমান ছিল। মানুষ উচু বর্ণের পাত্রের কাছে কন্যাদানের জন্য উদগ্রীব ছিল। অনেক ব্রাহ্মণের পেশাই ছিল বিয়ে করা। এরা এক গ্রামে বিয়ে করে, সেখানে আমোদ প্রমোদে কিছুদিন থেকে মেয়ের বাবার কাছ থেকে যৌতুক নিয়ে আরেক গ্রামে যেত বিয়ে করতে। এভাবে একের পর এক বিয়ে করতেই থাকত। স্ত্রীদের কোনও খোঁজ খবর নিত না। এসব স্ত্রীরা পিতৃগৃহে অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হতো। এর কুফল লক্ষ্য করে বিদ্যাসাগর দাবি করলেন বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করতে। ১৮৬৭ সালে ব্রিটিশ সরকার বহুবিবাহ বন্ধ করতে একটি কমিটি গঠন করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার বড় ধরনের সংস্কারে হাত  দিতে চাননি।

১৪. ব্রাহ্মণদের দৃষ্টিতে শুদ্ররা অশুচি, অস্পৃশ্য, দাসেরও দাস। তাদের ছায়া মাড়ালে ব্রাহ্মণের জাত যায়। ড. আম্বেদকর (১৮৯১-১৯৫৬) ছিলেন ভারতের সংবিধান রচয়িতা। তিনি ছিলেন মুচির ছেলে। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় তাঁর গলায় ঘণ্টা ঝুলানো থাকত। ঘণ্টার শব্দে ব্রাহ্মণ সন্তানেরা সতর্ক থাকতো যাতে ছোঁয়া না লাগে। তাঁকে হাঁটতে হতো বাতাসের ভাটির দিকে যাতে তাঁর স্পর্শ করা বাতাস অন্যের গায়ে না লাগে। প্রাইমারি স্কুলে ক্লাসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাঁকে ক্লাস করতে হতো। প্রাইমারি পাসের পরে তাঁকে ক্লাসের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তবে তাঁকে ক্লাসের পেছনের এক কর্নারে পাটি বিছিয়ে বসতে দেয়া হয়, বেঞ্চে নয়। কারণ, সে শুদ্র। শুদ্রের সব জায়গায় প্রবেশের অধিকার ছিল না। তাই ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার আইন করে শুদ্রদের সর্বজনীন স্থানে প্রবেশের অধিকার দেন। মহাত্মা গান্ধী শুদ্রদের হরিজন বলে আখ্যায়িত করলেও ব্রাহ্মণরা তাদের মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেনি। অবশেষে ক্ষোভে-দুঃখে আম্বেদকর শেষ জীবনে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। এমনকি পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহর পিতা পুঞ্জলাল ঠাকুর ওরফে জিন্নাবাই পুঞ্জ ওরফে পুঞ্জ জিন্না ব্রাহ্মণদের বাড়াবাড়িতে ক্ষুদ্ধ হয়ে শিয়া মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। এভাবে বহু হিন্দু মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান হয়ে গেছে।

আজকের আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এক সময় ভারতের অংশ ছিল। এসব দেশ ও ভারতের মুসলমানরা হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের অনুসারী ছিল। তারা কেন হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করল? এই সমস্ত বিষয়গুলোর আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণের দাবি রাখে বলে মনে করি।

এ প্রবন্ধের প্রথম কিস্তি প্রকাশের পর আমার অনেক হিন্দু বন্ধু, সহকর্মী, ছাত্র বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি। আমি তো তুচ্ছ মানুষ। মানবতার অবতার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও হিন্দু সমাজ মেনে নেয়নি। কারণ তিনি হিন্দু সমাজকে সংস্কার করতে চেয়েছিলেন, হিন্দু সমাজকে কু-প্রথা ও অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করে মানবিক ধারায় প্রবাহিত করতে চেয়েছিলেন। মহান ধার্মিক ভাইয়েরা বিদ্যাসাগরকে নাস্তিক, ধর্মদ্রোহী, আততায়ী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, ধর্মবিরুদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিদ্যাসাগর আততায়ী হয়েছেন। আততায়ী বধে কোনো দোষ নেই। এ প্রসঙ্গে অন্য সময় লেখা যেতেই পারে।

সমাজে টিকে থাকতে হলে, যুগের সাথে পাল্লা দিতে চাইলে, আপনার প্রতিপক্ষ কে- তা আগে চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিপক্ষের কৌশল রপ্ত করে নিজেকেও কৌশলী হতে হবে; প্রতিপক্ষের শক্তি, সংগঠন সম্পর্কে অবহিত হয়ে নিজেদের শক্তি অর্জন করতে হবে; সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে টিকে থাকা যায় না, টেকসই হওয়া যায় না। হিন্দুরা সেটা করতে পারেনি বিধায় বাংলায় তারা টিকে থাকতে পারেনি; পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেও পারেনি। হিন্দুদের প্রতিপক্ষ মুসলমান। মুসলিম ধর্মে বর্ণভেদ প্রথা নেই। সেখানে যে কেউ ইমাম হতে পারে। ইমাম বংশানুক্রমিক নয়। ব্রাহ্মণ বংশানুক্রমিক। বংশানুক্রম  যোগ্যতা বা সমতার মাপকাঠি হতে পারে না। মুসলিম মেয়েরা পিতা-মাতার সম্পত্তিতে ভাইয়ের অর্ধেক পায়। সেখানে হিন্দুদের উচিত ছিল সম্পত্তিতে ভাই-বোনের সমান অংশ দেয়া। নারীকে পুরুষের সমান অংশ দিয়ে হিন্দু ধার্মিকরা মুসলিমদের দেখিয়ে দিতে পারতেন- আমরা তোমাদের চেয়ে উদার; তোমরা নারীদের অর্ধেক দিয়েছ, আমরা পুরোটাই দিয়েছি। মুসলিমরা যে কোনও ধর্মের লোককে নিজেদের ধর্মে আত্মীকৃত করে নেয়। হিন্দুদেরও উচিত ছিল মুসলিমদের কাছ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করা। হিন্দুদের টিকে থাকতে হলে তাদেরকেও আত্মীকরণ নীতি গ্রহণ করতে হবে। আমি দুই একজন হিন্দুকে বলেছিলাম, আপনেরাও আত্মীকরণ নীতি অনুসরণ করেননি কেন? তাদের উত্তর হলো- বর্ণ প্রথার কারণে। কেউ যদি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে আসতে চায়, সে কোন বর্ণের অন্তর্ভুক্ত হবে? বর্ণভেদের কারণেই নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মুসলমান হয়েছে। উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মানুষই মনে করত না। শুদ্র শ্রেণি ছিল দাসেরও অধম। দাসদের ন্যায় শুদ্ররাও সম্পত্তির মালিক হতে পারত না। আজকের আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এক সময় ভারতের অংশ ছিল। এসব দেশ ও ভারতের মুসলমানরা হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের অনুসারী ছিল। তারা কেন হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করল? এই সমস্ত বিষয়গুলোর আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণের দাবি রাখে বলে মনে করি।

হিন্দু ধর্ম হচ্ছে ক্ষয়িষ্ণু ধর্ম। ‘ক’ এই কাজ করেছে, তাকে ত্যাগ কর। ‘খ’ ওই কাজ করেছে, তাকে ত্যাগ কর। কোনও হিন্দু মেয়ে অন্য ধর্মের ছেলের সঙ্গে প্রণয়ে পড়েছে বা বিয়ে করেছে, হিন্দুরা ওই মেয়েকে ত্যাগ করেছে। হিন্দু ছেলে অন্য ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করেছে, হিন্দুরা তাকে ত্যাগ করেছে। হিন্দু বিধবাকে নিজেরা বিয়ে করতে চায় আবার অন্য ধর্মের কারও সঙ্গে গেলে কুলত্যাগী বলে ঘোষণা দেয়। এ দিক দিয়ে মুসলমানরা উদার। মুসলিম মেয়ে বা ছেলে অন্য ধর্মের ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে করলে আপত্তি নেই। শুধু কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেই হলো। অন্য ধর্মের লোককে মুসলিম বানাতে পারলেই পুণ্যি। হিন্দু ধর্মকে টিকে থাকতে হলে তাকে ক্ষুয়িষ্ণু নীতি পরিত্যাগ করে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের বর্ধিষ্ণু নীতি গ্রহণ করতে হবে।

ধর্মশাস্ত্র হলো এমন এক গ্রন্থ যাকে যেদিকে খুশি সেদিকে ব্যবহার করা যায়। আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি একে কোন দিকে ব্যবহার করবেন? শাস্ত্রে বিধবা বিবাহের নিষেধও আছে। আবার এর অনুমোদনও আছে। ধার্মিকরা শাস্ত্র থেকে নিষেধের পক্ষে তথ্য যুক্তি দিয়েছে। অধার্মিকেরাও শাস্ত্র থেকেই অনুমোদনের পক্ষে তথ্য ও যুক্তি দিয়েছে। শাস্ত্রে যেমন জাতিভেদ তথা বর্ণ বিভাজন (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র) এর কথা আছে। আবার একই শাস্ত্রে অদ্বৈতবাদের কথাও আছে। অদ্বৈত মানে দুই নয়, এক। স্রষ্টা সৃষ্টি করে সৃষ্টির মাঝে তিনি বিলীন হয়ে বা মিশে আছেন। সৃষ্টির মাঝেই তিনি। সৃষ্টির বাইরে তাঁর অস্তিত্ব নেই। তাই সৃষ্টিকে সেবা করলেই তাঁর সেবা হয়ে যায়। শঙ্করাচার্য, রামানুজ, রজ্জব, দাদু, কবির এঁরা তো অদ্বৈতবাদের কথাই বলে গেছেন। এ অদ্বৈতবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বামী বিবেকানন্দ বলেন,

‘’বহু রূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?

জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।‘’

অদ্বৈতবাদের মূল কথা জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বারিতে যেমন সিন্ধু, তেমনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আত্মার সমষ্টিতেই পরমাত্মা। যে ধর্মে অদ্বৈতবাদের মতো এত বড় দর্শন বিদ্যমান, সেই ধর্মে জাত-পাত, বর্ণপ্রথা, নারী-পুরুষের বৈষম্য কিভাবে থাকে? সে ধর্মের ধার্মিকরা কিভাবে বলে নারীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করা যাবে না; করলে ধর্ম নাশ হয়ে যাবে। হিন্দু ধর্মে তো এ কথাও আছে, নর সেবাই নারায়ণ সেবা। অর্থাৎ মানুষকে সেবা করাই ভগবানকে সেবা করা। নারীও একজন মানুষ। আর সে মানুষকে তার পৈত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ধার্মিকরা কিভাবে ভগবানের উপাসনা করে? (চলবে)

 

লেখক ●সহযোগী অধ্যাপকইতিহাস বিভাগসরকারি রাজেন্দ্র কলেজফরিদপুর।।

দ্রষ্টব্যঃপ্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত এবং এর দায়-দায়িত্বও লেখকের একান্ত নিজস্ব  

জাগরণ/এসকেএইচ 

আরও পড়ুন