• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০১৯, ০২:৪৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২২, ২০১৯, ০৩:০৩ পিএম

‘২১ আগস্ট নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক রাজনীতি করছে আ.লীগ’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘২১ আগস্ট নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক রাজনীতি করছে আ.লীগ’
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী -ছবি : জাগরণ

একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীল নকশার অংশ, যার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কি না তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতো। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ হল কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশী রায়ে সাজা দেয়া। 

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই।

এ সময় গ্রেনেড হামলায় বিএনপিকে জড়িত করে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবাদুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি বলেন, কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, দু’একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযাগ্য করা যাবে না।

এ সময় মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিতে গ্রেনেড নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বন্দুক ব্যবহারের কথা বলা হয়নি। কিন্তু সিকিউরিটি অফিসার নাজিব আহমেদ বলেন, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে অসংখ্য গুলি করা হয়েছে। এ বন্দুক ও গুলি এলো কোথা থেকে ? ২০০৮ সালের ১১ই জুন বর্তমান আইজিপি ও তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ। জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান বা বিএনপির নাম ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলাটি তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এফবিআইকে তদন্ত কাজে কোন প্রকার সহায়তা করা হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও দেখতে দেয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিল না-এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। এ রকম অনেক প্রশ্নের কোন সমাধান হয়নি আজও। 

রিজভী বলেন, যে কোন সরকারের আমলেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। এর জন্য সেই সরকার দায়ী হতে পারে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুমুখী চক্রান্তকারীদের এজেন্টরা দেশে-দেশে নানা নাশকতা করেছে। ২১শে আগস্টের জন্য যদি বিএনপি সরকার দায়ী হয়, তাহলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না? 

২১ শে আগস্টের বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও নেতারা নির্বিঘ্নে এবং ক্রমাগত এমন বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন যা মামলার রায়কে প্রভাবিত করে আসছে এমন অভিযোগও করেন রিজভী।


টিএস/একেএস

আরও পড়ুন

Islami Bank