• ঢাকা
  • সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ০৫:৩৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৫, ২০১৯, ০৬:৩৬ পিএম

ঢাকায় বাড়ি রয়েছে

প্লটের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বিএনপির এমপি রুমিন 

জাগরণ প্রতিবেদক
প্লটের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বিএনপির এমপি রুমিন 
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও তার প্লট চেয়ে আবেদন

ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও সরকারের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লটের আবেদন করেছেন বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।তিনি ঢাকায় কোনো বাড়ি বা প্লট নেই বলে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বরাবর প্লটের  আবেদন করেছেন। 
 
আবেদন পত্রে দেয়া রুমিনের এ তথ্যকে অসত্য বলে জানিয়েছেন তার বাবা বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক অলি আহাদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নব্বইর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের অন্যতম নেতা মনি দৈনিক জাগরণকে বলেন, রুমিনের নামে লালমাটিয়ার ৩/৩/বি-তে একটি প্লট আছে। ১৯৭৩ সালে সরকার থেকে দেয়া ওই প্লটটি নিয়ে অলি আহাদের ভাগ্নে সাহিদ হাসান মিহিরদের সঙ্গে অনেক ঝামেলা গিয়েছে। মিহিরদের দাবি অলি আহাদের কোনো সন্তান নেই। তাই তার মামা (অলি আহাদ) লালমাটিয়ার প্লটটি তাদের হলফনামা করে দান করেছে। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ঝামেলা চলেছে। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমি ও অলি ভাইর ব্যক্তিগত সেক্রেটারি মুন্সি মজিদ, এ দুজন মিলে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ও পরবর্তীতে মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কাছে বারবার গিয়েছি। তারা এ বিষয়ে খুবই সহযোগিতা করেছেন। ওনারা কাগজপত্রের সব কিছু ঠিক করে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন জায়গাটি রুমিনকে বুঝিয়ে দিতে। পরবর্তীতে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর গিয়ে সেই প্লটটি উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেন।
 
মনি আরও বলেন, অলি আহাদের স্ত্রী রাশেদা বেগম ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক। তিনি তার পৌত্রিক সূত্রে ধানমন্ডির বাড়িটি পেয়েছেন। যেহেতু অলি-রাশেদা দম্পত্তির অন্য কোনো সন্তান নেই, তাই এ বাড়িটির উত্তোরাধীকারী রুমিন। এছাড়াও  রুমিনদের চট্টগ্রামের ষলোশহরে একটি প্লট আছে। 

বিএনপির আলোচিত এ নারী সংসদ সদস্য বর্তমান সংসদ ও সরকারকে অবৈধ বলে বক্তব্য রেখে আলোচনায় এসেছেন সরকারের কাছে তার প্লট চেয়ে আবেদনকে কিভাবে দেখছেন, জিজ্ঞাসাবাদে  সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি দৈনিক জাগরণকে বলেন, তার এ দাবি অবৈধ। কারণ আমি বর্তমান সংসদ ও এর সকল সদস্যকেই বৈধ মনে করি না। এই সংসদে যারা আছে তারা সবাই অবৈধ। অতএত, সেই সংসদের একজন সদস্য হিসেবে রুমিনের সুবিধা দাবিকেও আমি অবৈধ মনে করি।

সাইফুদ্দিন মনি বলেন, ছাত্রজীবনে রুমিন ফারহানা কোনো রাজনীতি করেননি। তার পিতার নির্দেশ ছিল পিতা যতদিন জীবিত থাকবেন মেয়ে রাজনীতি করবে না। পিতা তাকে বলে গেছেন, আমার মৃত্যুর পর চাইলে রাজনীতি করতে পারো। ২০১২ সালে তার পিতার মৃত্যুর পরই রুমিন বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পরে ২০১৬ সালের কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ পান তিনি।
জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচনে দেয়া হলফনামায় রুমিন ফারহানা নিজেই স্বীকার করেছেন, তার ১৮৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আছে। ওই ফ্ল্যাট মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। 

এ বিষয়ে কথা বলতে রুমিন ফারহানার মোবাইলফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, তিনি (রুমিন ফারহানা) পারিবারিক কাজে ব্যস্ত আছেন। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

এদিকে, সরকারের কাছে রুমিনের প্লটের আবেদনের বিষয়ে বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন, ‘কি বিষয়ে ভাইয়া ! চির কৃতজ্ঞ থাকার বিষয়ে !’

এ প্রতিবেদক হা বলার সঙ্গে সঙ্গে আলাল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি নই, বিএনপির যারা মুখপাত্র আছেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন। তাদের কথা বলতেই হবে। ব্যাখ্যা দিতে হবে।’
এদিকে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা দৈনিক জাগরণকে বলেন, রুমিন সংসদে যোগ দিয়ে আমাদের নেত্রীর মুক্তি চেয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছে তাতে দলের নেতাকর্মীরা কিছুটা হলেও উজ্জীবিত হয়েছিলো। কিন্তু সংসদে যোগ দেয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় এ অবৈধ সরকারের কাছে এতটা তড়িঘড়ি করে নিজের সুবিধার জন্য প্লটের আবেদন করাতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। আমরাও বিব্রত।   

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান দৈনিক জাগরণকে রুমিন ফারহানার ‘চির কৃতজ্ঞ থাকার বিষয়ে’ জানতে চাইলে বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবশ্যই কথা বলব, তবে তা দলীয় ফোরামে। 

বিএনপির নারী সংসদ হিসেবে রুমিন ফারহানার সরকারি প্লট পাওয়ার আবেদনকে সমর্থন করে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, রুমিন ফারহানা একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারের কাছে প্লট চেয়ে আবেদন করতেই পারে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্লট পাওয়া তার অধিকার। সেতো আওয়ামী লীগের কাছে প্লটের আবেদন করেনি। এটা নিয়ে সমালোচনার কিছু নেই। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের অন্যতম এক শরিক দলের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক জাগরণকে বলেন, রুমিনের বাবার বাড়ি এলিফ্যান্ট রোডে, লালমাটিয়াতে যে প্লট সেখানে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। তাছাড়া, বাবা-মার একমাত্র সন্তান হিসেবে তাদের সব সম্মতিই রুমিনের। সেখানে তিনি কিভাবে সরকারের কাছে ‘চির কৃতজ্ঞ’ থাকার অঙ্গীকার করে প্লটের আবেদন করতে পারেন। যে সংসদ ও সরকারকে তিনি নিজেই অবৈধ বলে দাবি করে থাকেন। আসলে রুমিনের সংসদে যোগ দেয়াইটাই ডাবল স্ট্যার্ন্ডাড। 

রুমিন ফারহানার প্লটের জন্য আবেদনের বিষয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন সাবেক ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল নেত্রী মুন্নি চৌধুরী। তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভদ্রমহিলা মনোনীত সাংসদ হয়েই শপথ নিয়ে বললেন এ সংসদ অবৈধ। তাহলে তো সোজাসাপ্টা প্রশ্ন আপনি অবৈধ সন্তান হতে এত আগ্রহী কেন? মুখে খই ফোটা রমণী আপসে পোষ মানলেন কী কারণে? এ সবাই জানে। সবাই বোঝে। আসলে,যেখানে ফেলো কড়ি, মাখো তেল সেখানে।’

তিনি লিখেছেন, ‘সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে কে থাকে? লুটপাট করার অভিযোগ খালি একতরফা হবে এটা কি কোনো কাজের কথা? তারচেয়ে ছেড়ে দে মা লুটপাট করে খাই।’
মুন্নি আরও লিখেছেন, ‘হাইকমান্ড বলে উনি নাকি বিশাল মেধাবী। আরে ভাই বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে আমরাও কম জানিনা। দলে অনেক মেধাবী নারী নেত্রী ছিল তাদের কি যোগ্যতা কম ছিল সংসদে কথা বলার ?। কথায় আছে না পুরান পাগলে ভাত পায় না নতুন পাগলের আমদানি। মজার ব্যাপার বাংলাদেশের মিডিয়া কিছু শুয়োরবৎসকে এই এক যুগ ধরে প্রোমোট করে নেতা বানানোর কাজ করছে বিএনপির ঘরে ঢুকে চুরি করার জন্য। আমরা কবে মানুষ হব।’ 

টিএস/বিএস 
 

আরও পড়ুন