• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০১৯, ০৮:১৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৩০, ২০১৯, ০৮:১৫ পিএম

সকল গুম-খুনের বিচার একদিন না একদিন করা হবে : মির্জা ফখরুল

জাগরণ প্রতিবেদক
সকল গুম-খুনের বিচার একদিন না একদিন করা হবে : মির্জা ফখরুল
ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-ছবি : জাগরণ

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দখল করার পর গুমের সাথে পরিচয় হয়েছে বাংলাদেশের। এর আগে বাংলাদেশের মানুষ ‘গুম’ কি জিনিস জানতো না। জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসলে সব গুম-খুনের বিচার করা হবে। কথাগুলো বললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

গুমের শিকার তিন বিএনপির নেতা-কর্মীর পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

৩০ আগস্ট (শুক্রবার) জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব এসব পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিএনপি মহাসচিব প্রথমে যান রাজধানীর উত্তরখানে ছাত্রদল নেতা নিজামুদ্দিন মুন্নার বাসায়। এরপর যান শাহীনবাগে তেজগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুমনের বাসায়। পরে তিনি বনানীতে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর বাসায় যান। এ সময় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের তিনি সহমর্মিতা জানান। 

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে দেশে প্রতিনিয়ত গুমের ঘটনা ঘটছে। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। বিএনপি চেষ্টা করছে গুম হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকার। একদিন না একদিন এর বিচার হবেই বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দেন তিনি। 

মহাসচিব বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করলাম। আজকে সেই দেশে একমাত্র যুবক ছেলেরা রাজনীতি করার কারণে তারা গুম হয়ে যাচ্ছে। তাদের পরিবার জানে না তারা কোথায় আছে কি করছে। শিশু সন্তানরা জানে না তাদের বাবা কোথায় আছেন। তাদের পরিবারের লোকরা এখনও ভাবছেন এ বোধহয় বাসায় ফিরবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই সরকার যারা দাবি করে যে তারা জনগণের প্রতিনিধি তারা শুধু শক্তি দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের ওপর নির্যাতন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে ছাত্র আন্দোলন করেছি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা কখনও গুম হয়ে যাওয়ার খবর শুনি নি। গুম হয় লাতিন আমেরিকাতে। জাতিসংঘের চার্টার্ডে বলা হয়েছে, এটা চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। বর্তমান সরকার আজকে এই অপরাধ সংঘঠিত করছে। কি আশ্চর্যের ব্যাপার তারা সবখানেই পার পেয়ে যাচ্ছে। ব্যারিস্টার নিখোঁজ হচ্ছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিখোঁজ হচ্ছে, ১৭ মাস নিখোঁজ হওয়ার পর বাসায় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে একজন অ্যাম্বসেডারকে।

তিনি মন্তব্য করে বলেন, এগুলো একমাত্র তখনই সম্ভব যখন জনগণের কাছে সরকারের কোনও জবাবদিহি থাকে না। কোনও দায় থাকে না। কিন্তু একদিন না একদিন তাদের এই জবাব দিতেই হবে। 

বিকালে পুরান ঢাকার বংশাল চৌরাস্তা ইসলামী ব্যাংক ভবনের নিচতলায় নিখোঁজ ছাত্রদল ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি গুমের শিকার ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি নেতাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

টিএস/এসএমএম

আরও পড়ুন