• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০২:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০২:৩২ পিএম

‘মানুষের অধিকার কেড়ে নিতেই খালেদাকে আটকে রাখা হয়েছে’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘মানুষের অধিকার কেড়ে নিতেই খালেদাকে আটকে রাখা হয়েছে’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবসহ দলীয় নেতারা - ছবি: জাগরণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আজকের শাসকগোষ্ঠী জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের পক্ষে এই গণতন্ত্রকে ধংস করা, স্বার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া সম্ভব হতো না যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন। সে কারণে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তার প্রাপ্য জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করছি। আজকের যৌথসভায় সেই আন্দোলনের আর একটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি। 

তিনি বলেন, আপনারা জানেন গতকাল বুধবার আমরা ঢাকায় মানববন্ধন করেছি। আজকে বৃহস্পতিবার সারাদেশে মানববন্ধন চলছে। 

ফখরুল অভিযোগ করেন, একই ধরণের মামলায় অন্য যারা সাজা পেয়েছেন তারা জামিনে আছেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগেও বলেছি পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় খুব কম গণতান্ত্রিক দল আছে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এত বেশি সাফার করেছে। ২ মাসে আগের হিসাবে আমাদের ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলা, ৫০০ ওপরে নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল (বুধবার) সংসদে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, করলে বিরোধীদের অস্তিত্ব থাকতো না। একথাটা বলে উনি কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে অস্তিত্ব রক্ষা না করার জন্যই তারা কাজ করে যাচ্ছেন? 

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শুধু মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাতো এখন বলতে পারবো না, তবে মানববন্ধন হবে, এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, রোববার মৎস্যজীবীদল, সোমবার মুক্তিযোদ্ধা দল, মঙ্গলবার তাঁতীদল, বুধবার অ্যাব মানববন্ধন করবে, এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল অংগ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করবে।
 
ছাত্রদলের কাউন্সিলে একজন সভাপতি প্রার্থীর পিতা আওয়ামী লীগ নেতা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে এটা থাকতেই পারে যে, বাবা একটা রাজনীতি করবেন, আমি একটা রাজনীতি করবো। আমার ছাত্রজীবনে আমার বাবা একটা রাজনীতি করতেন। আমি একটা করতাম। কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। না বাবার হয়েছে, না আমার হয়েছে। এখনতো ছেলে বিপদে পড়ে যাচ্ছে, তার বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে থাকে তাহলে তার ছেলে বিএনপি বা ছাত্রদল করলে তার বিপদ হবে। আবার বাবার বিপদ হবে, তার ছেলে ছাত্রদল করলে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না।

মহিলাদল নেত্রী রাজিয়া আলিমকে গতকাল বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, গ্রেফতার এখনও চলছে। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যৌথসভায় অংশ নেয়া এক নেতা দৈনিক জাগরণকে জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে পূর্বঘোষিত দুদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।

তিনি বলেন, এ উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। নেত্রীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এ মানববন্ধনে কেন্দ্রের সিনিয়র নেতারাও অংশ নেবেন।

টিএস/বিএস 
 

Islami Bank