• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ০৭:০৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১০, ২০১৯, ০৭:০৩ পিএম

একদিনে ৫৯ জন এমপির সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা গ্রহণ, অভিযোগ অলির

জাগরণ প্রতিবেদক
একদিনে ৫৯ জন এমপির সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা গ্রহণ,  অভিযোগ অলির
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ -ছবি : জাগরণ

একদিনে ৫৯জন এমপি সাধারণ পাসপোর্টে ভারতের ভিসা নিয়েছে রেখে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় মুক্তিমঞ্চের প্রধান নেতা ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ। তিনি বলেন, এটা সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার। লাল পাসপোর্ট থাকা অবস্থায় সাধারণ পাসপোর্টে কিভাবে তারা ভিসা নিলো।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হল রুমে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের নেতা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পারওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের একাংশের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কাসেমীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ করে অলি আহমদ বলেন, ছাত্রদের হাতে সরকার অস্ত্র তুলে দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে শায়েস্তা করার জন্য। এদের হাতে অবৈধ টাকাও তুলে দেয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি ও গুণ্ডামি করার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছে। অবুঝ ছেলে-মেয়েরা রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক শ্রেণির শিক্ষকও তাদের সঠিকপথে রাখার পরিবর্তে বিপথগামী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে নতুন প্রজন্ম যারা আগামীতে সরকার পরিচালনা করবে তাদের ধ্বংস করার নীল নকশা করা হয়েছে। লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। মান নাই বললেই চলে। জাতি হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৪ ভিসির দুর্নীতির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অশান্ত। ছাত্র, অভিভাবক অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মারামারি হত্যাকাণ্ড দুর্নীতি চাঁদাবাজি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন। তাই আমরা মনে করি, অদক্ষ শিক্ষকদের চাকরি থেকে বের করে দিতে হবে। দুর্নীতিবাজ ভিসিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাদের গ্রেফতার করতে হবে, অপসারণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তিতে অবুঝ ছেলে-মেয়েদের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। লেজুরবৃত্তির রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও বর্তমানে নেই। এ ব্যাপারে সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না।

অলি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মান ও আদর্শ সমুন্নত রাখার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান অবস্থায় বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দায় এড়াতে পারে না। গত ডিসেম্বর মাসে ছাত্র যুবকদের ভোট ডাকাতির শিক্ষা দিয়েছি। এখন তাদের সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তাদের অনেকে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। ক্যাসিনো মাদকে লিপ্ত হয়েছে। ঘৃন্য কর্মকাণ্ডের ফলে একটি জেনারেশন ধ্বংসের পথে ধাবিত হয়েছে। ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবহার সঙ্গে জড়িত লীগের অনেক নেতাকের এখনও গ্রেফতার করা হয় নি। গ্রেফতারকৃত লীগের নেতারা বলছে, তারা মন্ত্রীদের মার্সিডিজ গাড়ি দিয়েছে। বস্তায় বস্তায় টাকা দিয়েছে। অনেক মন্ত্রী-এমপি বড় বড় নেতা জি কে শামীম ও ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেয়েছে। এখনও তারা কেন গ্রেফতার হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিভিন্ন হলে রেইড বা অভিযান চালানো হবে। অর্থাৎ ছেলেদের বলা হয়েছে তোমাদের কাছে যদি কোনও অবৈধ কিছু থাকে তাহলে দ্রুত সরিয়ে ফেল, পুলিশ যাবে। ক্যাসিনোর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এক জায়গায় রেইড হয়েছে, অন্য জায়গায় সতর্ক করা হয়েছে তোমরা পালাও। কেউ কেউ পালিয়ে ভারতে গেছে।

জাতীয় মুক্তিমঞ্চের প্রধান নেতা বলেন, একজনের নাম সম্রাট। তিনি ক্যাসিনো সম্রাট। নামে সম্রাট না। তার টাকার ভাগ পান নাই ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এমন নেতা খুব কম আছে। সম্রাট, শামীম ও অন্যান্য গ্রেফতারকৃতদের পার্টনাররা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বান্দরবনে যারা ৫ তারকা হোটেল নির্মাণ করছে তারা শামীমের পার্টনার।

অলি বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত হুকুমদাতা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয় নি। অনুরূপভাবে ক্যাসিনো মাদক এবং মাদক অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত গডফাদারদের আড়াল করার পাঁয়তারা চলছে। সম্রাটকে ক্যাঙারুর চামড়া রাখার দায়ে ৬ মাসের জেল দিলেও দেড় হাজার ইয়াবা রাখার জন্য কোনও মামলা দেয়া হয় নি।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা পাচার করে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণ করেছে। একইভাবে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, কানাডা, আমেরিকায় অনেকে ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। আশা করবো সরকার সে সব নাম পত্রিকায় প্রকাশ করবে। যে গরিবের টাকা নিয়ে বাইরে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছে সে টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গত ৪০ বছরে কয়েকটা সরকার ছিল। কোনও সরকারের সময় শেয়ার মার্কেটের টাকা লুট হয় নি। শুধু তিনবার আওয়ামী লীগ সরকার ছিল তখনই লুট হয়েছে। এর কারণ সরকারের বড় বড় মন্ত্রীরা এর সঙ্গে জড়িত।

এলডিপির প্রধান বলেন, পত্রিকায় দেখেছি ২৭ জন এমপির ওপর বিভিন্নভাবে গোয়েন্দারা নজর রাখছে। অনেক মন্ত্রী বস্তায় বস্তায় টাকা ও মার্সিডিজ গাড়ি নিয়েছে। এখনও সরকার তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় নি কেন। বরং তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। আমাদের দাবি অবিলম্বে গ্রেফতার করে তাদের কাছে থেকে জনগণের লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হোক।

সাবেক বিএনপি নেতা অলি বলেন, সরকার বার বার ভারতের কাছে কূটনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। ভারতের যা কিছু দরকার এই সরকার সবকিছু দিয়েছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ভারত জানে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত নয়, দুর্বল সরকার, নতজানু সরকার। সুতরাং তাদের কাছে যে কোনও জিনিস আদায় করে নেয়া সম্ভব। ভারতের সঙ্গে অনেকগুলো অমিমাংসীত ইস্যু আছে, বিশেষ করে নদীর পানি। এই সরকার ২০০৮ সালের পর থেকে ক্ষমতায় আছে কিন্তু কোনও নদীর পানি আনতে পারে নি। অন্যদিকে ভারতের যা দরকার সবকিছু দিয়ে দিয়েছে। সকল পর্যায়ে দুর্নীতিতে জাতি আজ অতিষ্ট। তাহলে কেন আজ অপেক্ষা? ঘর থেকে বের হোন। শান্তিপূর্ণ ও আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করুন।

টিএস/এসএমএম

আরও পড়ুন