• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯, ৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০১৯, ১০:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ০৯:০৭ এএম

স্ত্রী ছাড়া কেউই পাশে নেই ওমর ফারুক চৌধুরীর

মেহ্দী আজাদ মাসুম
স্ত্রী ছাড়া কেউই পাশে নেই ওমর ফারুক চৌধুরীর
ওমর ফারুক চৌধুরী

রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি আর অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া ৭১ বছর বয়সী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর পাশে স্ত্রী ছাড়া আর কেউই নেই। নেই হাজারও নেতা-কর্মীর উপচেপড়া ভিড় ও বিশাল গাড়িবহর। দলের শীর্ষ নেতারাও তার পাশে নেই। যারা তার হাত ধরে যুবলীগের প্রথম সারিতে আসীন হয়েছেন, কামিয়েছেন অর্থ-যশ-খ্যাতি। তারাও তাকে এখন এড়িয়ে চলছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করে নানা রকম অপকর্মের তথ্য। ধরা পড়েন দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু নেতারা। ক্যাসিনো সম্রাটদের অবৈধ অঢেল অর্থ আর সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসার পর অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কটাক্ষ করেছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তবে তার একদিন পর ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘সংশোধন হোন, পতন শুরু হলে স্ত্রী ছাড়া আর কাউকেই পাশে পাবেন না।’  সেই বচন নিজের বেলাতেই প্রযোজ্য উঠেছে হয়েছে ওমর ফারুক চৌধুরীর।

যুবলীগে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। তলব করা হয়েছে তার ব্যাংক হিসাব। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে দেশের বাইরে যাওয়ায়। রোববার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ডাকা যুবলীগের কেন্দ্রীয় বৈঠকে তাকে যেতে মানাও করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দিয়েছেন।

৩ বছর মেয়াদী যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব টেনে ৭ বছর পার করেছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। যথাসময়ে সম্মেলন করেন নি বা আয়োজনের উদ্যোগও নেন নি। সব জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামী ২৩ নভেম্বর (শনিবার) সংগঠনটির জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

২০১২ সালের ১৪ জুলাই সর্বশেষ জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওমর ফারুক চৌধুরী। তরুণ ভাবাপণ্ন ৭১ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একক ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। শুরুতে সাবেক নেতাদের পরামর্শ ছাড়াই একটি ঢাউস কমিটি গঠন করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি অনেককেই কমিটিতে স্থান করে দিয়েছেন। পদভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এমনকি ফ্রীডম পার্টি ও যুবদলের কাউকে কাউকে টাকার বিনিময়ে ঠাঁই করে দিয়ে যুবলীগে- এ রকম গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সেই ওমর ফারুক চৌধুরী এখন একা। তার পাশে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই।

একাধিক সূত্র জানান, ওমর ফারুক চৌধুরীর সাথে থাকতে গিয়ে, না জানি কোন বিপদে পড়তে হয়, এ ভাবনায় তার সঙ্গ ত্যাগ করেছেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। 

এমএএম/এসএমএম

আরও পড়ুন