• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ১০:২৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ১০:৩৫ পিএম

শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা নিতে গণভবনে যাচ্ছেন যুবলীগ নেতারা

আল হেলাল শুভ
শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা নিতে গণভবনে যাচ্ছেন যুবলীগ নেতারা

সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের কয়েকজন নেতার অপকর্মের কারণে বেশ ‘বদনাম’ কুঁড়াতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সহযোগী সংগঠন যুবলীগকে। যুবলীগের ওইসব নেতাদের কর্মকাণ্ডে যারপরনাই ক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ক্যাসিনো কাণ্ডে বর্তমানে যুবলীগ ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত। সংগঠনের চেয়ারম্যানকেও খুঁজে পাচ্ছেন না নেতা-কর্মীরা। যুবলীগের সম্মেলন- ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের তারিখ ২৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় সংগঠনের আগামী সম্মেলনে যুবলীগের নেতৃত্ব কেমন হবে, এ বিষয়ে সর্বাঙ্গীন দিক-নির্দেশনা পেতেই দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোববার (২০ অক্টোবর) সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। ওই সাক্ষাতে যে আলোচনা হবে তাতেই নির্ধারণ করা হবে যুবলীগের ভবিষ্যত নেতৃত্ব- এমনটাই বলছেন যুবলীগ নেতারা।

যুবলীগের নেতারা বলছেন, রোববার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যন্ত নেতারা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন। ওই সাক্ষাতেই সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে সম্বক দিক-নির্দেশনা নিয়ে আসবেন তারা। যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় প্রধানের চিন্তা ও সংগঠনের আগামী নেতৃত্বে তিনি কেমন নেতৃত্ব চান যে বিষয়ে সম্বক ধারণা পেতেই তারা রোববার গণভবনে যাচ্ছেন। এ সময় সম্মেলনের আগে সংগঠনের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করবেন যুবলীগ নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা হবে। ওই বৈঠকে ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান একাধিক যুবলীগ নেতারা।

সম্মেলনের আগে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী থাকবেন না বলেই প্রায় এক রকম নিশ্চিত হওয়া গেছে দলীয় সূত্রে। 

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের নেতৃত্ব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা গণভবনে যাবেন।

যুবলীগ সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে রোববার সাক্ষাৎ করে যুবলীগ নেতারা দিক-নির্দেশনা চাইবেন। বৈঠকে যুবলীগ নেতারা সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও সেখানে তুলে ধরবেন। যুবলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। যুবলীগের শীর্ষ নেতারা মূলত গণভবনে যাচ্ছেন সরাসরি দলীয় প্রধানের মুখ থেকে সংগঠন নিয়ে তার সকল চিন্তা ও নির্দেশনা পেতে। যুবলীগের চেয়ারম্যানের বিষয়েও ওই বৈঠকে স্পষ্ট একটি নির্দেশনা পেতে চান যুবলীগের শীর্ষ নেতারা। এ কারণে যুবলীগের চেয়ারম্যানের বিষয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

যুবলীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসসহ দলীয় কোনও কর্মসূচিতে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোনও ধরনের ভূমিকা নেই। এমন অবস্থায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা পাওয়াটা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক জাগরণকে বলেন, যুবলীগ শীর্ষ নেতারা গণভবনে যাচ্ছেন দলীয় প্রধানের কাছ থেকে দিক-নির্দেশনা নেয়ার জন্য। নেত্রীর থেকে তারা সিদ্ধান্ত নিতেই যাচ্ছেন। তবে বয়সের বিষয়ে হয়তো তারা আলোচনা করবেন না। কারণ যুবলীগের যারা রোববার যাচ্ছেন তারা এ বিষয়ে নেত্রীর নির্দেশ অনুসারে বয়স হলে অনেকের বাদ পরে যাওয়ার কথা।

যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী দৈনিক জাগরণকে বলেন, আমরা নেত্রীর কাছে যাচ্ছি সংগঠনের বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতি তুলে ধরতে। এ ছাড়া যুবলীগের আগামী জাতীয় কংগ্রেস নিয়ে নেত্রী আমাদের গাইডলাইন দেবে। এ ক্ষেত্রে বয়সের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে কি- না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুবলীগের যতগুলো সম্মেলন হয়েছে সব সময়ই এ ধরনের কথা আলোচনা হয়ে থাকে। তারপরও এ বিষয়টি নেত্রীর সিদ্ধান্ত। এসব বিষয় তো আলোচনায় আসবেই।

যুবলীগ সূত্র জানায়, যুবলীগের গত সভাপতিমণ্ডলির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। যুবলীগের বর্তমান অবস্থার জন্য অনেকে তাকেই দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ওই বৈঠকে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন।

সভায় ‍যুবলীগ চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন সভাপতিমণ্ডলির সদস্য। একই সঙ্গে যদি যুবলীগ চেয়ারম্যান সংগঠনের আসন্ন সম্মেলনে উপস্থিত না থাকেন তা হলে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়টি নিয়েও আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে রোববারের সাক্ষাতে আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিত ওমর ফারুক চৌধুরী ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা-কর্মী ছাড়া কারও সঙ্গে তেমনটা যোগাযোগ করছেন না। এড়িয়ে চলছেন গণমাধ্যমকেও। হঠাৎ চাপে পড়ে গ্রেফতার এড়াতে সরকারের শীর্ষমহলে তদবির করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তবে তিনি এখন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেশ কয়েকবার গণভবনমুখী হলেও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তার সঙ্গে দেখা করেন নি।

২০১২ সালে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কংগ্রেসে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কার্যালয়ে বৈঠক করেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠকে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী,  ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারা কারা দেখা করতে যাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোন কোন বিষয়ে দিক-নির্দেশনা চাওয়া হবে সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

এএইচএস/এসএমএম

আরও পড়ুন