• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০১৯, ০৯:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৮, ২০১৯, ০৯:৫৯ পিএম

শ্রমিক লীগের সম্মেলন শনিবার 

নতুনরা নেতৃত্ব চান, ঝড়ে পড়ছেন বয়স্করা 

তারেক সালমান 
নতুনরা নেতৃত্ব চান, ঝড়ে পড়ছেন বয়স্করা 
শ্রমিক লীগের লোগো

কৃষক লীগের মতো শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে জাতীয় শ্রমিক লীগেও। একই সঙ্গে গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন এনে কমিটির মেয়াদ তিন বছর করা হতে পারে। শনিবার (০৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পাবে সংগঠনটি। 

দলীয় ঘোষণানুসারে শনিবার ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
শ্রমিক লীগ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটি বর্তমান শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় নেতারাই আর কর্মক্ষম নেই। তাদের প্রায় সবাই দীর্ঘদিন আগে কর্মজীবন থেকে অবসরে গেছেন। সংগঠনের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ অবসরের প্রায় দেড়যুগ পেরিয়েছেন আগেই। সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও প্রায় বছর আট আগে নিজের কর্মজীবন থেকে অবসরে গেছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী তারা জাতীয় শ্রমিক লীগের কমিটিতে থাকতে পারেন না। তারপরও এই মেয়াদোত্তীর্ণ বয়স্ক নেতারাই সংগঠনটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। এবারও তারা একই পদে বহাল থাকতে চাচ্ছেন। 

শ্রমিক লীগ সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের এই শীর্ষ দুই নেতাসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। দীর্ঘদিন মূল দল ক্ষমতায় থাকায় শ্রমিক সেক্টরে বর্তমানে এই সংগঠনের কোনো ধরণের তৎপরতা নেই বললেই চলে। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম। শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই গত সাত বছরে দুর্নীতিতে জড়িয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলাও হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে। সংগঠনকে শক্তিশালী না করা ও গত বছরে কোনো জেলায় সম্মেলন করে কমিটি দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি হয়েছে, আবার ভেঙে দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। এক জেলায় একাধিক কমিটিও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও শ্রমিক লীগের জাতীয় কমিটি হয়নি।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী নেতারা বলছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেয়া হবে। কোনো সহযোগী সংগঠনে বিতর্কিত ও নানা অভিযোগে অভিযুক্ত কারও ঠাঁই হবেনা। তাই সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারীদের কাঁধে জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতৃত্ব তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ বাস্তবতায় শনিবার শ্রমিক লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। 

সম্মেলকে সামনে রেখে, শেষবেলায়ও দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন পদপ্রত্যাশীরা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করছেন। নিজের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা নানা ভাবে। 

শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর মেয়াদের হলেও সম্মেলন না হওয়ায় এর বয়স দাঁড়িয়েছে ৭ বছরে। এবারের সম্মেলনে শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে কমিটির মেয়াদ তিন বছর করার প্রস্তাব করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর ৩৫ সদস্যই থাকছে। শ্রম আইন অনুযায়ী কমিটির কলেবর বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়।
সূত্র জানায়, দেশের বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনের ৭৮টি জেলা ইউনিট ছাড়াও এর রয়েছে অনেক শাখা সংগঠন। রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বিএডিসি, ওয়াসা সিবিএ, বিসিআইসি, ঘাট শ্রমিক লীগ, চা-শ্রমিক লীগ, রিকশা-ভ্যান, মোটর-শ্রমিক, বাস পরিবহন, ট্রাক-লরি, ভূমিসহ আরও বেশকিছু শ্রমিক সংগঠন। এসব সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের নিয়ন্ত্রণে।

নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংগঠনের বর্তমান সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর মাহমুদ ও সিরাজুল ইসলাম পুনরায় একই পদে থাকতে চান। তবে এই পদে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু। এই পদে আসতে আরও আগ্রহী সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ। সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি আমিনুল হক ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ দৈনিক জাগরণকে বলেন, তার এই মেয়াদে শ্রমিক লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আবার সভাপতি নির্বাচিত হলে যথাযথভাবেই সে দায়িত্ব পালন করবেন।

কার্যকরী সহ সভাপতি ফজলুল হক মন্টু দৈনিক জাগরণকে বলেন, ঊনসত্তর-সত্তর সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বায়াত্তর সালে ছাত্রলীগ থেকে জাতীয় শ্রমিক লীগে যোগ দেই। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দায়িত্ব পেলে যথাযথভাবে পালন করব।    
     
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম দৈনিক জাগরণকে বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে যদি পূণরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়, কাজ করব। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও সংগঠনের জন্য একইভাবে নিজেকে উৎসর্গ করব। এক প্রশ্নের জবাবে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে তিনি কখনই জড়িত ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন। 
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিরাজ বলেন, সম্মেলনকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ফারুক বলেন, ১৯৮৭ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্পাদকমণ্ডলীতে দায়িত্ব পাই। এরপর সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। আমি মনে করি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সময় আমার হয়েছে। 

অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। আমি একাধিকবার জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছি। তাই স্বাভাবিকভাবে এই পদটি প্রত্যাশা করি। 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সর্বশেষ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। ঐসময়ে ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়েছে।

টিএস/বিএস