• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৯:৪৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৯:৪৯ এএম

ফিরে দেখা ৯০ (ছয়)

বিক্ষোভের আগুনে এরশাদে পতনের প্রতিধ্বনি

জাকির হোসেন
বিক্ষোভের আগুনে এরশাদে পতনের প্রতিধ্বনি

দেশবাসীর বিক্ষোভের আগুনে ৯০ সালের এই দিনে (২ ডিসেম্বর) সর্বত্রই এরশাদের পতনের আওয়াজ প্রতিধ্বনি হয়। আর এরই ধারাধাবাহিকতায় পরদিন (৩ ডিসেম্বর) এরশাদ শর্তসাপেক্ষে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরশাদের এই ছলচাতুরির প্রেক্ষিতে গণআন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অন্যদিকে ৩ জোট ৪ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতালে ডাক দেয়। এসব কিছুর পেক্ষিতে অনেকটা নাটকীয়ভাবে এরশাদ ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নিঃশর্ত পদত্যাগের ঘোষণার  দু’দিন আগে অর্থাৎ ১৯৯০ এই দিনে (২ ডিসেম্বর) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ সমাবেশে সারা দেশ ছিল উত্তাল।

ঢাকার বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, গুলিস্তান, তোপখানা রোড, কাকরাইল পদযাত্রায় ছিল লাখ লাখ মানুষ। সবাই এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয়। একই সঙ্গে জনতা এরশাদের বিচারের দাবি জানায়।

শিল্পীরা বিভিন্ন সমাবেশে নাটক থেকে পাঠ, সঙ্গীতানুষ্ঠান আর আবৃত্তিতে অংশ নেন। অজস্র লোক রাস্তা বন্ধ করে এসব প্রতিবাদী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এসব অনুষ্ঠানের উপজীব্য ছিল অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে দিয়ে এগিয়ে নেয়া। রাস্তায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ছাত্র ঐক্য আর অন্যান্য সংগঠনের অনেকগুলো পথসভা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, দৈনিক বাংলা মোড়, গুলিস্থানের সামনে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আর গোলাপ শাহ মাজারের কাছে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জনতা উপজেলা অফিস ভাঙচুর করে এবং ৪ দিনের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রতিশ্রুতি আদায় করে। সকালে সদরঘাটে ছাত্রজনতার মিছিলের উপর নিরাপত্তা-বাহিনী গুলি চালায়, এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়।

১ ডিসেম্বর মিরপুরের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সেখানে হরতাল পালিত হয় এবং গায়েবানা জানাজা শেষে ৫ জনের দাফন সম্পন্ন হয়। ২৭ নভেম্বর থেকে সাংবাদিকরা ধর্মঘট পালন করায় এদিনও সারাদেশে কোনও পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি।

এদিন বিবিসি বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিষয়ে ‘সরকার বিরোধীদলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না : মওদুদ’ শিরোনামের একটি  প্রতিবেদন সম্প্রচার করে। প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো-

সরকার বিরোধীদলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না : মওদুদ

‘‘বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, আইন শৃঙ্খলা বহাল রাখার জন্য গত মঙ্গলবারে (২৭ নভেম্বর) প্রবর্তিত জরুরি অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত আরো ১২ জন নিহত হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলেছেন, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম শহরে আজ ১২ ঘন্টার জন্যে কারফিউযের মেয়াদ শিথিল করা হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. মওদুদ আহমেদ বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সরকার কিছুতেই নতিস্বীকার করবে না এবং নিরপেক্ষ অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্যে বিরোধীদের দাবি নেহায়েত অমূলক এক প্রশ্ন। প্রধান তিনটি বিরোধী জোট বলেছে, তারা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। ভারি যাবনবাহন যেমন ট্রেন, ফেরি ও লরীর চলাচল অবিলম্বে বন্ধ এবং আগামী মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাধারণ হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে।

জেডএইচ/এসএমএম

আরও পড়ুন