• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৪:৪৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৪:৪৮ পিএম

অলিকে ছাড়াই এলডিপির বর্ধিত সভা

জাগরণ প্রতিবেদক
অলিকে ছাড়াই এলডিপির বর্ধিত সভা
এলডিপির বর্ধিত সভা

কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে নব গঠিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে। সোমবার (০২ ডিসেম্বর) পল্টন পানির ট্যাংকি এলাকার হোটেল রহমানিয়ায় দিনব্যাপী এ বর্ধিত সভায় দেশের ৩০টি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যোগ দিয়েছে বলে নতুন নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নব গঠিতি এলডিপির বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে আহ্বায়ক আব্দুল করিম আব্বাসী কর্নেল অলিকে দল পরিচালনায় ‘একনায়কসূলভ মানসিকতা’ সম্পন্ন নেতা দাবি করে বলেন, বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় আজ  থেকে ১২ বছর আগে আমরা কর্নেল অলি আহমদকে নেতা মেনে তখনকার ৩৫জন সংসদ সদস্য এলডিপি গঠন করেছিলাম। বিএনপি থেকে আমরা বের হয়েছিলাম দল ও সংগঠনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার আশায়। কিন্তু আমরা হতাশ হয়েছি। 

বিএনপি দলীয় সাবেক এই হুইপ বলেন, দীর্ঘদিন আমরা ধৈর্য ধরেছি। আশা করেছি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমরা এলডিপিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশের মানুষের কাছে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি দল হিসেবে পরিচিতি পাব। কিন্তু অলি আহমদ কখনই আমাদের কথা ও মতকে সন্মান দেননি। তিনি সম্পূর্ণ একনায়ক ও স্বৈরাচারী কায়দায় দল পরিচালনা করেছেন। কোনো মতকে পাত্তা দেননি। দিতে চাননি। 

মূলতঃ কর্নেল অলির স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের বিরোধীতায় আমরা তাকে বাদ দিয়ে এলডিপির নতুন কমিটি গঠন করেছি। আগামীতে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাউন্সিলের মধ্যদিয়েই দলের কমিটি গঠন করা হবে। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

কর্নেল অলির এলডিপির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল গণি বলেন, বিএনপিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভাবের কারণেই আমরা তৎকালীন ৩৫জন সংসদ সদস্য বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেছিলাম। কিন্তু আমরা যে উদ্দেশ্যে দলটির সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম সে উদ্দেশ্য পুরণে ব্যর্থ হয়েছি। তিনি বলেন, বিএনপি থেকে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমি মেহেরপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। কর্নেল অলি এলডিপি পরিচালনায় কখনও গণতান্ত্রিক ছিলেন না। তিনি সব সময় আমিত্ব দেখান। আমরা অনেক সহ্য করেছি। তার স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে আমরা এলডিপির নতুন কমিটি গঠন করেছি।

কর্নেল অলির এলডিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, কোন রাজনৈতিক দলের মালিক কোনো ব্যক্তি হতে পারেন না। কর্নেল অলি দাবি করেছেন, এলডিপির মালিক তিনি। আমরা তার এ দাবিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ রাজনৈতিক দল হয় দলের নামেই। কোনো ব্যক্তির নামে নয়।

তিনি বলেন, অলি আহমদ দাবি করেন যে নির্বাচন কমিশনে তার দল নাকি এক নম্বর নিবন্ধিত। কিন্তু তিনি বলেন না যে ওই নিবন্ধনটি আমিই করেছি। এ জন্য যে অর্থ ও ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয়েছে তা আমিই করেছি। অলি আহমদ নন। বিএনপি থেকে বেরিয়ে অলি আহমদকে প্রধান করে এলডিপির নামকরণ পর্যন্ত সব কিছই আমি করেছি। তিনি নন। আজ তিনি দলের মালিকানা দাবি করছেন। এটা মেনে নেয়া যায় না। অলি আহমদ বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের বাইরে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠন করেছেন। তিনি দ্রুত ক্ষমতা দখল করতে চান। আমরা তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান হয়েই তার কাছ থেকে সরে এসেছি। 

সেলিম আরও বলেন, আমরা পকেট কমিটি করবো না। এই ডিসেম্বর মাসেই আমরা বিশেষ কাউন্সিল করবো। সেই কাউন্সিলেই আমরা সকলের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করবো।

এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, আমাদের এলডিপি বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটেই থাকবে। কারণ বিএনপিই আমাদের মূল নেতৃত্ব দেয়া দল। কাউন্সিলে নেতাকর্মীরা যদি কর্নেল অলিকে আবারও দলের প্রধান করতে চায় আমরা মেনে নেব।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে মেনে নিয়েই আমরা জোট সম্প্রসারণ করেছিলাম। চারদলীয় জোটকেই আমরা বিশদলে পরিণত করেছিলাম। সেখানে তো জামায়াত ছিলই। কিন্তু অলি আহমদ বিশদলের বাইরে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে জামায়াতের অর্থ ও জনবল নিয়ে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠন করেছেন। আমরা তার এ বিশেষ উদ্দেশ্যর সঙ্গে নেই। কিন্তু জামায়াত বিশদলে থাকলেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

সেলিম জানান, আবদুল গনিকে আহ্বায়ক ও এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক, জাকির হোসেন রিয়াজকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এমএ বাসারকে সদস্য সচিব করে বিশেষ কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
টিএস/বিএস