• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৫:২৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৫:২৮ পিএম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র‌্যালি করবে বিএনপি

জাগরণ প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র‌্যালি করবে বিএনপি

‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে আগামী ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকায় এবং দেশব্যাপী বিভাগীয় সদরে র‌্যালি বের করবে বিএনপি। 

সোমবার (০২ ডিসেম্বর) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ কোম্পানির সঙ্গে কম্পিউটার আমদানির চুক্তি বাতিল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও মিথ্যে গালগল্প ফেঁদেছেন। কয়েকদিন আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রতিহিংসার কারণেই দেড় যুগ আগে চুক্তি করেও নেদারল্যান্ডসের ‘টিউলিপ’ কোম্পানির কম্পিউটার না নেয়ায় সরকারকে ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছিল। খালেদা জিয়াকে বোঝানো হল যে, শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডসের ওই কোম্পানি, ওটার নামও টিউলিপ। যেহেতু এই কোম্পানির নাম টিউলিপ কাজেই ওদের থেকে কম্পিউটার নেয়া যাবে না। শুধুমাত্র এখানে অপরাধটা হল শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ আর নেদারল্যান্ডের কোম্পানির নাম টিউলিপ সেজন্য সেটা বন্ধ করে দিল। নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ কোম্পানি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলো। সেই মামলায় বাংলাদেশ হারলো। দশ হাজার কম্পিউটার তো গেলই, ৩২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে হল। এক নামের প্রতি খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশের ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিল। আর টিউলিপকে যে টাকাটা আমরা দিয়েছিলাম তাও গেল। এভাবে সমস্ত লোকসান হল।’

রিজভী বলেন, আমাদের প্রশ্ন হলো, শেখ রেহেনার কন্যা টিউলিপের নামের সঙ্গে কোম্পানির নামের মিল থাকার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চুক্তি বাতিল করেছিলেন-প্রধানমন্ত্রীর এই গাল গল্পের সূত্র কী ? তাকে কে বলেছে বেগম খালেদা জিয়া নামের মিলের কারণে চুক্তি বাতিল করেছিলেন ? এই আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটনা করে নিজেদের মহাসমারোহে দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিকে আড়াল করতে চান। একই মিথ্যা ও কল্পিত কাহিনী বারবার প্রচার করে সত্য রূপে প্রতিষ্ঠা করতে চান। 

বিএনপি সরকার ওই চুক্তি তিনটি কারণে বাতিল করেছিল দাবি করে রিজভী বলেন, এক. আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে কম্পিউটার কেনার এই চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তি বাতিলের পর বিএনপি সরকার অন্যান্য দেশ থেকে টিউলিপের সঙ্গে চুক্তির প্রায় অর্ধেক দামে কম্পিউটার আমদানি করেছিল। দুই. চুক্তির শর্তাবলীর সবই ছিল কোম্পানির পক্ষে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তিন. চুক্তির শর্তানুযায়ী নেদারল্যান্ডস অনুদানের প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশকে দেয়নি। ওই চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের আভ্যন্তরীণ আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপি সরকার এবং পরবর্তীতে জরুরী অবস্থার সরকার কেউই ক্ষতিপূরণ দেয়নি।

তিনি জানান, সিদ্ধান্ত ছিল টিউলিপ কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আইনি লড়াই ছেড়ে দিয়ে টিউলিপ কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয় রাষ্ট্রীয় অর্থে। অথচ বাংলাদেশ ডাচ সরকারের কাছ থেকে একটি টাকাও পায়নি, একটি কম্পিউটারও নয়। ২০১১ সালে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকার ওই কোম্পানির লোকদের ২ মিলিয়ন ১৩০ হাজার ইউরো বা ২৩ কোটি টাকা পৌঁছে দেন গোপনীয়তার সঙ্গে। জরিমানার নগদ টাকা ছাড়াও মামলা চালানোর খরচ ও এটর্নি জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নেদারল্যান্ড সফরে সরকারি তহবিল থেকে আরও খরচ হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ কোটি নগদ টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদনকারী শেখ হাসিনার সরকার এর দায়দায়িত্ব এড়াতে পারবেন কী, প্রশ্ন রাখেন রিজভী। 

রিজভী আরও জানান, শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের ইআরডি সচিব ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান সেই সরকারের আমলের শেষের দিকে এক শুক্রবার ছুটির দিনে অত্যন্ত গোপনে ওই চুক্তি করেছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামত উপেক্ষা করে। 

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ৭ই জুন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসাবে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সুষ্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন: ‘তারা আমাদেরকে টাকা দেয়নি, কম্পিউটারও দেয়নি। তবে আমরা কেন তাদের দেশের আদালতের রায় অনুযায়ী তাদেরকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেবো ? এমন একতরফা চুক্তির কথা আগে কখনও শুনিনি। আমরা কেবিনেটে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও কেন এত কঠিন শর্ত মেনে চুক্তিটি হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে কেবিনেট মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় এবং এমনতরো একতরফা চুক্তি সম্পাদনের জন্য মসিউরকে দায়ী করা হয়। 

রিজভী আহমেদ বলেন, স্রেফ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালতের দোহাই দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাকে যথোপোযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছেনা। তাকে জামিনও দেয়া হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টিএস/বিএস